শীতে গরিব হয়ে যায় ৪৫ লাখ মানুষ

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: এ দেশে শীতকালে দারিদ্র্য বেড়ে যায়। গরিব মানুষের সংখ্যা বাড়ে। জানুয়ারি-মার্চ সময়ে নতুন করে ৪৫ লাখ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, কাজের সুযোগ কম থাকে বলে জানুয়ারি-মার্চ মাসে দেশের গরিব মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ওই তিন মাসে দেশের দারিদ্র্যসীমার নিচে ২৭ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ বাস করে। আর অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে দারিদ্র্যের হার ১ শতাংশ কমে ২৬ দশমিক ১ শতাংশ হয়। দেশে সার্বিকভাবে দারিদ্র্যের হার ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

বিবিএস বলছে, দেশের জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ২০ লাখ। সেই হিসাবে, সার্বিকভাবে ৩ কোটি ৯৩ লাখ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। জানুয়ারি-মার্চ সময়ে আরও প্রায় ৪৫ লাখ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায়। ওই সময়ে গ্রাম এলাকায় প্রতি ১০০ জনে ৩০ জনের বেশি গরিব হয়ে যায়। আর অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে গরিব লোক বাড়ে ৩০ লাখ।

এবারই প্রথমবারের মতো খানা জরিপে প্রান্তিকভিত্তিক দারিদ্র্যের হার কেমন, তা-ও তুলে ধরা হয়েছে। এর ফলে কোন মৌসুমে আয়ের সুযোগ বাড়ে, সেটা বোঝা যায়।

তবে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর—এই ছয় মাস দেশের মানুষ সবচেয়ে ভালো থাকে। এই সময়ে দারিদ্র্যের হার সাড়ে ২২ থেকে ২৩ শতাংশের মধ্যে থাকে। এর মধ্যে এপ্রিল থেকে জুন সময়ে সাড়ে ২২ শতাংশ দারিদ্র্যের হার থাকে।

দারিদ্র্যের হার হ্রাস-বৃদ্ধির কারণটি একটু ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন। তাঁর মতে, উৎসবকে ঘিরে এ দেশে ভোগের পুনর্গঠন হয়, যাতে দারিদ্র্যের হার ওঠানামা করে। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানসহ জীবনযাত্রার মৌলিক চাহিদার ওপর দারিদ্র্য পরিস্থিতি গণনা করা হয়। এই চাহিদাগুলোর ভোগ বাড়লে দারিদ্র্য কমে। বিবিএসের জরিপে দেখা গেছে, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই দুই প্রান্তিকে দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে কম। ওই সময়ে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মতো দুটি বড় উৎসব হয়। এর পাশাপাশি রমজান মাসও আছে। ওই উৎসবকে কেন্দ্র করে গরিব লোকের ভোগ কিছুটা বেড়েছে।

সার্বিক দারিদ্র্য হারে ওঠানামা করলে হতদরিদ্র ব্যক্তিদের অবস্থা সারা বছর প্রায় একই রকম থাকে। সার্বিক অতিদারিদ্র্যের হার ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। মৌসুমভিত্তিক এই হার ১২ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ১৪ দশমিক ১ শতাংশের মধ্যে থাকে। এর মানে হলো, এ দেশে দরিদ্র ব্যক্তিদের কাজ পাওয়ার সুযোগ কম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জরিপটির প্রকল্প পরিচালক দীপঙ্কর রায় বলেন, শীতের সময় কাজের সুযোগ থাকে। তাই অনেকে কাজ চেয়ে তা পান না। বিশেষ করে, কৃষিক্ষেত্রে কাজের সংস্থান কম থাকে। ওই মৌসুমে অস্থায়ী শ্রমিকের প্রয়োজনীয়তা কমে যায়।

এবার আসি দেশের মানুষ খরচ করে কোন কোন খাতে। একটি পরিবার প্রতি মাসে গড়ে ১৫ হাজার ৪২০ টাকা আয় করে। এর মধ্যে খরচ হয় ১৫ হাজার ৭১৫ টাকা। তবে মৌলিক ভোগে খরচ হয় ১৫ হাজার ৪২০ টাকা। বাকি ২৯৫ টাকা সন্তানের বিয়ে, জরুরি আসবাবপত্র কেনার মতো এককালীন ব্যয় হয়। এবার দেখা যাক, ভোগ ব্যয়ে কতটা খরচ হয়। শুধু খাবারের পেছনেই ভোগ ব্যয়ের ৪৭ শতাংশের বেশি খরচ করতে হয়। বাড়িভাড়া ও পোশাক-আশাকে ব্যয় হয় আরও ২০ শতাংশ। চিকিৎসা ও শিক্ষায় ব্যয় করা হয় মোট ভোগ ব্যয়ের সাড়ে ৪ শতাংশ করে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »