ফেসবুকে ছাত্রীর গলাকাটা ছবি পোষ্টের অভিযোগে জরিমানা ও জুতাপেটা

Feature Image

খোকসা(কুষ্টিয়া)ঃ  কুষ্টিয়ার খোকসায় এক স্কুল ছাত্রীর গলাকাটা ছবি ফেসবুকে আপলোরে অভিযোগের ঘটনায় জড়িত এক যুবককে জরিমানা ও জুতাপেটা করেছে গ্রাাম্য টাউট শ্রেনীর রাজনৈতিক নেতারা। অভিযোগ উঠেছে সালিশে উপস্থিত থানা পুলিশের এক এসআই জরিমানার টাকা নিয়ে গেছে। পুলিশ অস্বীকার করছে।

অজানা আতঙ্কে ছাত্রীটি বাড়ি থেকে বেড় হতে পারছে না।  অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার শিমুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর এক ছাত্রীর গলাকাটা ছবি ফেসবুকে আপলোড করে শিমুলিয়া ইউনিয়নের মালিগ্রামের তফেলের ছেলে রাজু। তার ফ্রেন্ড তালিকার শিমুলিয়া গ্রামের মোতালেবের ছেলে নান্নু ছবিগুলো শেয়ার করে। মুহুত্যের মধ্যে ছাত্রী গলাকাটা (এডিট করা) ছবি গুলো ভাইরাল হয়ে যায়। এ ঘটনায় ছাত্রী রিদ্র বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করে। এটির তদন্ত ভার ওেয়া হয় থানার উপর। শেষ অবধি গ্রাম্য টাউট শ্রেনীর রাজনৈতিক নেতাদের হাতে সালিশে নিস্পত্তির ায়িত্ব বর্তায়। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার ও বুধবার ক্ষমতাসীন দলের পবঞ্চিত নেতা সাবেক চেয়ারম্যান আনছার আলীর বাড়িতে পৃথক শালিসী বৈঠক বসে। থানা পুলিশের এসআই সিরাজুল ইসলাম উপস্থিতে অনুষ্ঠিত সালিশে ডাকা হয় স্কুল ছাত্রী ও তার পরিবারের লোকদের। গ্রামের কয়েকশ মানুষের সামনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সাবেক চেয়ারম্যান আনছার আলী, বর্তমান মেম্বর হোসনে আরা বিউটিকে প্রধান করে ১০ সদস্যের সালিশী বোর্ড গঠন করে রাজুকে ১০ হাজার টাকা (কেস মেটানোর ব্যয়) জরিমানা করা হয়। বৈঠক স্থলে রাজুকে জুতা পেটা করাও হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। ফেসবুকে স্কুল ছাত্রীর ছবি ভাইরাল হওয়ার ঘটনা নিয়ে জনসমুখ্যে সালিশী বৈঠকের ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ফেসবুকে গলাকাটা ছবি ভাইরাল হওয়া ছাত্রীর ভ্যান চালক বাবা জানান, তিনি বিচার চেয়েছিলেন কিন্তু বিচারের ভার টাউট শ্রেনীর রাজনৈতিক নেতাদের হাতে চলে আসায় তিনি বিচার পান নি। তিনি বলেন, অপরাধিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার পর সে একা হয়ে গেছে। তার সাথে আগে যারা ছিল তারা সবাই টাকার টানে পিছু হটেছে। একদিকে সে গরিব অন্যদিকে একা হয়ে যাওয়ায় সু-বিচার পান নি। গ্রাম্য বিচারে তিনি খুশি হতে পারে নি। সালিশের পর তিনি মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেনা বলেও জানান।
এ ব্যাপারে কথা বলা হয় রাজুর মা রাজিয়ার সাথে। তিনি নিজেরে ছেলেকে নির্দোষ াবি করেন। তিনি বলেন, সালিশের মজলিশে ইন্টারনেটে ছবি ওেয়ার বিষয় প্রমান করতে পারে নি। কিন্তু থানায় অভিযোগ হয়েছে বলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সালিশের মজলিশে তারা জরিমানার টাকা পরিশোধও করেছে। তিনি আরো জানান, সালিশ হয়েছে আগের ঘটনার। ছবি দেওয়ার বিষয়ে না।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী স্বীকার করেন যুবককে জুতা দিয়ে শাসন করার বিষয়ে। তিনি বলেন ারোগা (পুলিশের এসআই) সালিশের শুরু ও শেষে ছিল। তবে পুলিশ ২০/২৫ হাজার টাকা দাবি করেছিল। থানায় মধ্যস্ততা করেছে পরিষরে মহিলা মেম্বর হোসনে আরা। তবে কতটাকা জরিমানা করা হয়েছে সে সম্পকে তিনি বলতে রাজি হন নি। ইন্টারনেটে ছাত্রীর গলাকাটা ছবির ছাড়ার প্রমান পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন বয়বৃদ্ধ এই নেতা।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হোসনে আরা বিউটিও থানা মোটা টাকা চাওয় কথা স্বীকার করেন। তবে ছেলের বাবার কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে থানায় দেওয়া হয়েছে বলে জানায়।

যুবকে জুতা পেটা করার সালিশে উপস্থিত ছিল না বলে দাবি করেন পুলিশের এসআই সিরাজুল ইসলাম। তবে সালিশের হতে দেখেছেন। যুবককে জুতাপেটা করা ও টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা বানু বলেন, এ ব্যাপারে পুলিশকে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সালিশের বিষয়টি তিনি অবগত নন বলে জানিয়ে বলেন, এই অভিযোগ সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার কোন বিধান নেই।

আরো খবর »