ফাদওয়া-মারওয়ানের লাভ স্টোরি

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

নিউজ ডেস্ক: ফাদওয়া বারগৌতি গত মাসে যখন ইসরায়েলের হাদামির জেলখানায় গেলেন, তখন তার হৃদয় উত্তেজনায় দুলছিল। ছয় মাস হয়ে গেল তিনি তার কারাবন্দি স্বামী ফিলিস্তিনি নেতা মারওয়ান বারগৌতিকে দেখেননি।

জেলখানায় ১০ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর ইসরায়েলি সেনারা ফাদওয়ার কাছে এলেন এবং তাকে বলা হলো, ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি তার স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। এ বছরের গোড়ার দিকে তার স্বামীসহ বন্দি ফিলিস্তিনিরা কারাগারে ৪০ দিনেরও বেশি অনশন করেছিলেন। অনশনের নেতৃত্বে ছিলেন মারওয়ান। সেই কারণেই ফাদওয়াকে তার স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হবে না।

ফাদওয়া তার রামাল্লার কার্যালয় থেকে আলজাজিরাকে বলেন, ‘এ সফর আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ রামাল্লায় মারওয়ানের মুক্তির দাবিতে যেসব বিক্ষোভকারী ও দেশপ্রেমী কাজ করছেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে ফাদওয়ার। তিনি বলেন, ‘ তারাই আমার নিঃশ্বাস। তাদের জন্যই আমি শক্তি ফিরে পাই।’

ইসরায়েল তার বিরুদ্ধে প্রতারণার যে অভিযোগ এনেছে, ফাদওয়া মনে করেন, তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শিথিল করতে তারা তা করেছে। দৃঢ়তার সঙ্গে ফাদওয়া বলেন, ‘ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির জন্য আমি আমার জীবনের ১৬ বছর উৎসর্গ করেছি। শুধু একবার সাক্ষাতের জন্য আমি তা ত্যাগ করতে পারি না।’

ফাদওয়া-মারওয়ানের যুগপৎ সংগ্রাম

রামাল্লা শহরের বাইরে কোবার গ্রামে একসঙ্গে বেড়ে উঠেছেন তারা। তাদের গ্রামের কয়েকটি মধ্যে ফাদওয়াদের পরিবার একটি, যাদের মেয়েরা শহরে গিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে ষষ্ঠ গ্রেড পার করতে পারে। ফাদওয়া তার গ্রামের একমাত্র নারী, যিনি ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছেন।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে ওমেন’স ইউনিয়ন ফর সোশ্যাল ওয়ার্ক নামে একটি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হন ফাদওয়া। এখন তিনি ওই সংস্থার শীর্ষস্থানীয় কয়েকজনের মধ্যে একজন। ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলনে আরো নারীদের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে সংস্থাটি।

এদিকে, মারওয়ানের বয়স যখন ১৮ বছর, তখন তার পাঁচ বছরের জেল হয়। তখন ফাদওয়ার বয়স ছিল ১৪। দু-এক বছর জেলে থাকার পর মুক্ত হওয়া এক বন্দির মারফত ফাদওয়ার কাছে বার্তা পাঠান মারওয়ান। ‘তিনি আমাকে বলেছিলেন, মারওয়ান আমাকে ভালোবাসে এবং তার জন্য আমাকে অপেক্ষা করতে বলেছে সে।’

মারওয়ান যখন পুরোপুরি মুক্তি পেল, তখন সে রাকঢাক বাদ দিয়েই বিয়ের প্রস্তাব দিল এবং তাদের বিয়ে হলো। স্মৃতি হাতড়ে ফাদওয়া বলেন, ‘সে বলেছিল, অর্থ বাড়াতে বা বাড়ি তৈরিতে তার কোনো আগ্রহ নেই এবং তার হৃদয় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের জন্য উৎসর্গ করবে সে।’

উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের ঔপনিবেশিক আগ্রাসন ও বসতি নির্মাণ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষের যে আন্দোলন, তাকে বলা হয় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ। মারওয়ান ও ফাদওয়া এই আন্দোলনের দুজন সক্রিয় ও ত্যাগী নেতা।

স্বামীর কথা স্মৃতিচারণ করে ফাদওয়া বলেন, সে আমাকে বলেছিল, ‘আমি প্রতিজ্ঞা করছি, যখন উপনিবেশ বন্ধ হবে তখন আমরা দুজন একসঙ্গে সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করব। অবশ্যই শুধু তখনই, যখন ফিলিস্তিন স্বাধীন হবে।’

ফাদওয়াও তার মতো ও দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানান : ‘আমি বলেছিলাম, এই সপ্তাহ (বিয়ের পর) আমার দরকার নেই। ফিলিস্তিন শুধু তোমার একার নয়। এটি আমাদের সবার। মানুষের স্বাধীনতার জন্য তোমার যে সংগ্রাম, তার পাশে দাঁড়াতে চাই আমি।’

ফাদওয়া ও মারওয়ানের জীবনে এ রকম আরো ঘটনা রয়েছে, যা তাদের পথচলায় শক্তি জুগিয়েছে। মারওয়ানের অনেক সময় কেটেছে ইসরায়েলের কারাগারে। এতে ফাদওয়ার কোনো দুঃখ নেই। কারণ তারা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য তাদের প্রত্যহিক জীবন উৎসর্গ করেছে। তবে ভালোবাসার গল্প কখনো থামেনি।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »