রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ৫ বাড়ীতে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট

Feature Image

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম;
খাগড়াছড়ি জেলা সদরের পার্বত্য চট্রগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড রেস্ট হাউজ সংলগ্ন ছাত্রাবাস এলাকায় ও হরিনাথপাড়া এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় ৫ এলাকাবাসীর বাড়ীতে ব্যাপক ভাংচুর-লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পর প্রাণের ভয়ে ৫ পরিবার বাড়ী ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। বিগত পৌর নির্বাচনের পর বিভক্ত পৌর মেয়র সমর্থক ও এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার সমর্থিতদের মধ্যে চলে আসা সহিংসতার জের এ ঘটনা ঘটে।

পার্বত্য চট্রগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড রেস্ট হাউজ সংলগ্ন ছাত্রাবাস এলাকায় আবু মুছা ও কাশেম এবং হরিনাথ পাড়ার বাসিন্দা-বাদল, মিনারা, জরিনা তাদের বাড়ীতে ব্যাপক ভাংচুরে জন্য এমপি গ্রুপকে দায়ী করেন। হামলাকারীরা, ক্ষতিগ্রস্থদের মেয়রকে সমর্থন ও তাদের লোকজনদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ এনে এ সকল বাড়ীতে ভাংচুর ও লুটপাট চালায় বলে জানায় তারা। এ সময় তারা দ্রুত এ সকল সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা না গেলে এলাকাবাসী নিরাপত্তাহীন ও প্রাণের ভয়ে পালিয়ে বেড়ানোসহ শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্খা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র রফিকুল আলমকে সমর্থন করাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ সকাল ও বিকাল দফায় দফায় বাড়ী ঘরে হানা দিয়ে বাড়ী-ঘর হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। তবে এ ঘটনার দায় স্বীকার করতে নারাজ অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে- স্থানীয় হরিনাথপাড়া, শালবনের বাসিন্দা ও এমপি সমর্থিত গ্রুপের রেজাউল, মতি, আরিফ, রাসেল, সুমন, ছাইদ, জুয়েল, সুমনসহ ১০/১৫ যুবক।

অন্যদিকে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আরিফ, এ ঘটনার সূত্রপাতের ঘটনার কথা তুলে ধরে মেয়র সমর্থিতদের দায়ী করে তাদের উপর পাল্টা হামলার অভিযোগ করেন। এ সময় এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা সমর্থিত-খাদিজা ও নুর বানু নামের ২ নারী প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়েছে জানিয়ে তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কথা তুলে ধরেন।

এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা আর প্রাঁণের ভয়ে মুখ খুলতে রাজি হয়নি স্থানীয় এলাকাবাসী। তবে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষিদের শাস্তির দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।

খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র মোঃ রফিকুল আলম প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, যাদের নামে অভিযোগ এসেছে তাদেরকে যেন গ্রেফতার করা হয়। আমি চাই এর একটা নিরসন হোক এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। সে কোন দল, কোন মত, কোন আদর্শের তা জানার বিষয় নয়। নাশকতাকারী যেই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে যেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি জানিয়ে খাগড়াছড়ি সদর থানার এসআই মাসুদ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো খবর »