পান সমাচার …

Feature Image

হুমায়ুন কবির: বিয়ে -শাদীর উপলক্ষ্য না হলে আমি পান তেমন একটা খাই না। বিয়েবাড়িতে পোলাও -বিরিয়ানি -গরু -খাশি -বোরহানির ভূড়িভোজন শেষে একটু মিষ্টি -মশলার পান না খেলেই নয়। এ আমার পুরনো অভ্যাস।

যাক, গতরাতে খুব পান খেতে ইচ্ছে করেছিলো আমার। রাত তখন সাড়ে ১১টা। হালকা শীতও পড়েছে, ভাবলাম অত রাতে পান পাব কই? তাই পান খাবার ইচ্ছের টুটি চেপে ধরে ঘুমাবার চেষ্টা করলাম। চোখ বুঁজে থাকলাম বেশ খানিকক্ষণ। কিন্তু ঘুম তো আর আসে না। উল্টো গোটা রাজ্যের পানের হাট এসে হাজির আমার চোখের সামনে। কবে -কোথায় পান খেয়ে পরম সুখ পেয়েছিলাম। একটি পানের জন্য কতদূর হেঁটেছিলাম। আমরা আবার পান চাষীও ছিলাম কিনা, তাই পান -বরজের সুন্দর পরিপাটি দৃশ্যও ভেসে উঠলো চোখের উপর। ছোটবেলায় পানগাছে টুনটুনির বাসা দেখতে যেতাম। কি সুুন্দর ফুটফুটে বাচ্চা তাদের! মা টুনটুনি কাছেপিঠে না থাকলে নরম তুলতুলে বাচ্ছাগুলো হাতে নিয়ে দেখতাম। আহ কি মজা!

খুব ছোট বয়স থেকেই আমি পানের কাজের মোটামুটি ওস্তাদ হয়ে উঠেছিলাম। তখন থেকেই পান তোলা, বাছাই করা, সাজিয়ে বিরা বানানো, গাদ্দী করা পড়াশোনার পাশাপাশি এসব ছিলো আমার নিত্য -কাজ। আম্মা আর আমি মিলে কত কত রাত জেগে যে পানের স্তুপ সামলেছি, তার কোনো ইয়ত্তা নাই।

তারপর মনে পড়ে গেল, কবে প্রথম সাইকেলে করে বহুদূরের মির্জাপুর পান বিক্রি করতে গিয়েছিলাম। সেদিনই প্রথম কোনো হাটে আটার রুটি, কলা আর পাটালি গুড় দিয়ে নাস্তা করেছিলাম। আহ, কি স্বাদ, এখনো বুঝি জিভে লেগে আছে!

মনে পড়ে, একবার ভোররাতে সাইকেলে পান নিয়ে হাতিরদিয়া বাজারে যাবার সময় পথে ট্রাকচাপায় বিভৎস লাশ দেখে আতকে উঠেছিলাম। একবার পানবরজ পাহারা দিতে গিয়ে পান -চোরকে হাতেনাতে ধরে ফেলেছিলাম।
আব্বা দিনরাত বাজারে ফার্মেসি সামলাতেন, আম্মারও হাত খরচের দরকার হতো। তাই আব্বাকে লুকিয়ে চুরিয়ে দুই -চার বিরা পান দিয়ে পাঠিয়ে দিতেন গাবতলী, ভুঁইয়া বাজার কিংবা চকবাজারে। ওখানেই কিন্তু আমার বখরা থাকতো, হা…হা…

শুরু করেছিলাম পান খাওয়া দিয়ে। আসলে পান খেয়ে সবচেয়ে সুখ পেয়েছিলাম একবার নরসিংদী শহরে গ্র্যান্ড নামের একটা হোটেলে একবেলা ভরপেট খাবার পর। আহ কি সোয়াদ!
আরেকবার ময়মনসিংহে গিয়েছিলাম একটা বিয়েতে। সেখানে কিছুটা ঝামেলা হয়েছিল।

ভিতর বাড়ি থেকে খবর আসছিলো, পাত্রী অঝোরে কাঁদছে। আর দমবন্ধ হওয়ার মত হয়ে ক্ষণে ক্ষণে মূর্ছা যাচ্ছে। যাক শেষমেষ কণে কবুল করলো বটে, কিন্তু খিদেয় পিত্তি জ্বলেপুড়ে ততক্ষণে শেষ! তবে খাবারটা দারুন হয়েছিল। তারপর যে পানটা খেয়েছিলাম, তার কথা জীবনেও ভুলবো না।
এইসব পানের কারবারী করে করে অবশেষে ঘুম এল রাত দুটোর দিকে।
হায় স্মৃতি …

আরো খবর »