জেলা আওয়ামীলীগের নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানের নামে মামলা গ্রেফতার ৬ জন

Feature Image

মানিকগঞ্জ থেকে জালাল উদ্দিন ভিকুঃ মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচা শীলপাড়া এলাকায় ভোররাতে সার্বজনিন কালি মন্দির প্রতীমা অপসারন করে মন্দির উচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। উচ্ছেদকারীরা সেখানে গাছের চারা লাগিয়ে দিয়েছে।

এই ঘটনায় মানিকগগঞ্জ আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রহিম খান তার ভাগ্নে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন ও ৮ জনের নাম সহ আরো ৬০ থেকে ৭০ জনের নামে মামলা হয়েছে। পুলিশ মন্দিরের টিন খঁটিসহ একটি পিকআপ ভ্যান জব্দ করেছে। এই ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ আওয়ামীলীগের নেতারা তীব্র নিন্দা জ্ঞাপনসহ জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে শিবালয় এলাকার আফছার উদ্দিন(৫০), একই উপজেলার ষাইটঘর তেওতা গ্রামের লিটন নাথ (৩৫), দাসকান্দি গ্রামের মোমিন শেখ (৪০), ধুতরা বাড়ী গ্রামের সেন্টু শেখ (৩৮), জেলার ঘিওর উপজেলার ছাদেকুল ইসলাম (৩২),রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার মাসুদ রানা (৪০) ।

মন্দির কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রমোথ চন্দ্র শীল সুর্য জানান, ২৭ বছর ধরে তারা এখানে পূজা করে আসছে । শিবালয় শীল পাড়া সার্বজনীন কালী মন্দিরের জমি নিয়ে আদালতে আব্দুর রহিম খানের সাথে আদালতে মামলা হয়েছে। মন্দিরের জায়গা দখল করার জন্য এর আগেও অনেকবার চেস্টা করেছে আব্দুর রহিম খান। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে মন্দির ভাংচুরের শব্দ পেয়ে তারা ঘটঁনাস্থলে যান। এসময় জেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রহিম খান ও শিবালয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন আলাল নির্দেশে ৬০ থেকে ৭০ জন লোক মন্দির ভাংচুর করে।

প্রতীমা গুলো পাশে যমুনা নদীতে ফেলে দেয়। মন্দির ভাংচুরের বাঁধা দিতে গেলে তারা হত্যার হুমকি দেয়। মন্দিররে টিন ও খুটি গুলো একটি পিকআপ ভ্যানে ওঠানো হয়। পরে বিষয়টি পুলিশ সুপারকে মোবাইল ফোনে জানানো হয়। এক ঘন্টা পর শিবালয় থানা পুলিশ ঘটঁনাস্থলে আসার পর ভাংচুরকারীরা মন্দিরের টিন খুটিসহ পিকআপ ভান রেখে চলে যায়।

এব্যাপারের জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট অসীম কুমার বিশ^াস জানান, ঘটঁনাস্থল থেকে থানার দুরত্ব মাত্র অর্ধ কিলোমিটার । মন্দির ভাংচুরের সময় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছিল। পুলিশ সঠিক সময় ঘটনাস্থলে আসলে মন্দির ভাংচুরের সাথে জড়িতদের মুল গডফাদারদের ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করতে পারতো।
অপর দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রেজাউর রহমান জানু, শিবালয় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আলী আহসান মিঠু মন্দির ভাংচুরের জন্য তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন। এর সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তারা।

অভিযুক্ত জেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ সস্পাদক আব্দুর রহিম খান বলেন, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেনা। তাকে
হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এ ঘটনায় তাকে জরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন জানান, ঘটনাটি জমি সংক্রান্ত জের ধরে পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে ঘটঁনাটি ঘটানো হযেছে। ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকবে তারদেরকেই আইনের আওতায় আনা হবে।

শিবালয় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, শিবালয় শীলপাড়া সার্ব জনীন কালী মন্দির ভাংচুরের সংবাদ পেয়ে দ্রæত ঘটনার স্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এপর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মন্দির কমিটির সভাপতি বাদি হয়েছে জেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ সস্পাদক আব্দুর রহিম খান এবং তার ভাগ্নে শিবালয় মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিনসহ ৮জনের এবং আরো ৬০ থেকে ৭০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ।

 

আরো খবর »