ঠাকুরগাঁও‌য়ে কালিমেলায় পূজো শেষে অশ্লীল গান বাজনা অনুমোদন নিতে দৌড় ঝাঁপ

Feature Image

ঠাকুরগাঁও জেলা প্র‌তি‌নি‌ধি:
‌মোঃ জা‌হিদ হাসান মিলুঃ ঠাকুরগাঁও থেকে দের/দুই কিলোমিটার দূরে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ২নং পলাশবাড়ি ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী কালির মেলায় পূজা, গরু মহিষ ক্রয়বিক্রয় ও বৌ বাজার শেষে, এখন চলছে গান বাজনার অনুমোদন নিয়ে দৌড় ঝাঁপ, আর মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে যাত্রার অশ্লীল নাচ,পুতুলনাচ,জুয়া, মাদক ,দেহ ব্যবসার অনুমোদন নিতে প্রতিদিনই কতৃ পক্ষের নিকট দৌড় ঝাঁপ করতে দেখা যায় । ঘন্টার পর ঘন্টা এই দপ্তর থেকে ঐ দপ্তরে এই অফিস থেকে ঐ অফিসে দিন কাটায়। কালির নাম ভাঙিয়ে ধর্মের নামে অশ্লীল কার্যকলাপ পরিচালনার অনুমতি পাওয়া আসায় । কালির মেলার ঐতিহ্য বলতে আমারা কি বুঝি ?

কমিটির একজনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান এই কালির মেলাটি প্রায় ১৫০ বছরের একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এ মেলায় মানুষ দোকান পাট নিয়ে আসে যার ফলে এক নামেই সকলে কালির মেলা টি চিনেন বা জানান। আমার বাপ দাদারা এই কালির মেলায় দোকান পাট নিয়ে আসতো , এখন আমরা দোকান পাট নিয়ে আসি ।

রমেশ নামে হিন্দু এক ভদ্র লোকের কাছে মেলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন , এই মেলার মন্দির অনেক পুরানো যার নামে এই মেলা তার মন্দিরটি নিয়ে কারো কোন মাথাব্যথা নেই, এই ঐতিহ্যবাহী মেলার মন্দিরটির যে ভাবে উন্নয়ন হওয়ার কথা ঠিক সে ভাবে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি । ছোট বেলায় বাবার সাথে কালি মায়ের পূজো দিতে এসে দেখেছিলাম কি জাকজমক ভাবে পূজো পালন হতো, তা আজো মনে পড়ে , কিন্তু এখন আর সেই জাঁকজমক আর নেই । আগে মা বাবা, ভাই , বোন সকলে মিলে মেলায় যাত্রা দেখতে কি আনন্দই না হতো আর এখন নিজেকে মেলায় দাঁড়িয়ে থাকতে লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায়। অশ্লীল নাচে ভরপুর ,মা বোনদের নিয়ে মেলায় চলা ফেরা করা যায় না । মেলা টির ঐতিহ্য নয়, কলংকে কলংকিত করেছে ।

কালির মেলা স্কুলের এক অভিভাবকের কাছে মেলা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বললেন এবার মেলায় লোক সমাগম হয়েছিল, বিশেষ করে মহিলা ও শিশু এবং স্কুল কলেজের ছাত্র/ছাত্রীদের আগমন আগের তুলনায় অনেক বেশি কারন মেলায় ছিলনা কোন অশ্লীল যাত্রা, পুতুল নাচ, এবার কালি পূজোয় লোকসংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো, যদিও পূজারী ও জায়গা নিয়ে সমস্যা তার পরেও প্রশাসনের নজরদারি থাকার ফলে মানুষ নিঃচিন্তে চলাফেরা ও পূজো সুষ্ঠু ভাবে পালন করতে পেরেছে ।

এই কালির মেলাটি পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও তিন জেলার শেষ সীমানায় এর জন্য কিছু বৈহিরাগত ও এলাকার কিছু ডলার, মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাই কারী, দাগী আসামিরা মেলাটিকে তাদের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে মনে করে, তাদের টাকায় গান বাজনা, মদ,জুয়া, অশ্লীল নৃত্য আর দেহব্যবসা, ইয়াবা সেবনে করে রাতের পর রাত কাটায় মেলার মাঠে ।এক মেলা থেকে অন্য মেলায়, এভাবেই তারা প্রশাসনের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে মূলত তারাই এই মেলা গুলোর পরিবেশ নষ্ট করছে । ঐতিহ্য বাহী মেলাগুলোকে কলংকের কালিমা লাগিয়ে দিচ্ছে ।কালির নামে অশ্লীল নৃত্য, আর পীরের নামে অশ্লীল কার্যকলাপ চালাচ্ছে,তাই তারা যেকোনোর বিনিময়ে এই অশ্লীল কার্যকলাপের অনুমোদন নিতে মরিয়া হয়ে উঠে ।

তাই প্রশাসন সহ উদ্ধতন কতৃপক্ষের নিকট সচেতন সুধী সমাজ ও অভিভাবকদের দাবি কেউ যেন কালি বা পীরের নাম ভাঙিয়ে ধর্মকে ব্যবহার করে এই ধরনের অশ্লীল কার্যকলাপের অনুমোদন নিতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।আর মেলাটির ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরকারের ও প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালনা করলে ঢেম ঢেমিয়া কালির মেলার ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব ।

 

আরো খবর »