চট্টগ্রামের কোকেন মামলা চলবে

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: চট্টগ্রাম বন্দরে ভোজ্যতেলের ঘোষণায় তরল কোকেন আমদানির ঘটনায় করা মামলার কার্যক্রম ছয় মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

ওই তেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের খান জাহান আলী লিমিটেডের মালিক নূর মোহাম্মদকে তিন সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।

নূর মোহাম্মদের আবেদনে হাই কোর্ট এ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে দিলে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে যায়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন শুনে দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ মঙ্গলবার হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করে এই আদেশ দেয়।

আপিল বিভাগের আদেশে বলা হয়। নিম্ন আদালতে কোকেন মামলার বিচার ছয় মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। নূর মোহাম্মদকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমপর্ণ করতে হবে। আর ছয় মাসের মধ্যে বিচার শেষ না হলে জামিনের বিষয়টি বিবেচান করা যাবে।

আপিল বিভাগে নূর মোহাম্মদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

পরে জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, এই আদেশের ফলে এখন নিম্ন আদালতে মামলা চলতে পারবে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৫ সালের ৭ জুন চট্টগ্রাম বন্দরে থাকা একটি কনটেইনার আটক করে সিলগালা করে দেয় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। পরে পরীক্ষা করে এতে তরল কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

এরপর ২৮ জুন বন্দর থানায় নূর মোহাম্মদ ও সোহেলকে আসামি করে মাদক আইনে একটি মামলা করে পুলিশ। পরে আদালত মামলায় চোরাচালানের ধারা যুক্ত করার নির্দেশ দেয়।

২০১৫ সালের ১৯ নভেম্বর নগর গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন সহকারী কমিশনার কামরুজ্জামান মাদক আইনের মামলায় আটজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেন।

কিন্তু আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিকের নাম বাদ দেওয়ায় আদালত ওই অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে পুলিশের বদলে র‌্যাব দিয়ে তদন্ত করায়।

অধিকতর তদন্ত করে চলতি বছর ৩ এপ্রিল নূর মোহাম্মদসহ ১০ জনকে আসামি করে মাদক মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন র‌্যাব-৭ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী।

সেখানে বলা হয়, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক নূর মোহাম্মদের জ্ঞাতসারেই ভোজ্যতেলের মাধ্যমে তরল কোকেন আনা হয়েছিল।

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা কামরুজ্জামানই এ ঘটনায় চোরাচালান মামলার তদন্ত করেন। গত ১৪ মে তিনি যে অভিযোগপত্র দেন, সেখানে মাদক মামলার মতই নূর মোহাম্মদের নাম বাদ দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ তাতে নারাজি জানালে চট্টগ্রামের মহানগর দায়রা জজ গত ৭ সেপ্টেম্বর এ মামলাতেও অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। র‌্যাবে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মর্যাদার কোনো কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করাতে বলা হয়।

আদালতের আদেশ পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ২৬ সেপ্টেম্বর অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের হাতে দেয়। কিন্তু প্রথম দফায় সরকারের আদেশ পাওয়ার আগেই র‌্যাব মামলার তদন্ত চালায় অভিযোগ করে খান জাহান আলী লিমিটেডের মালিক গত ৪ অক্টোবর হাই কোর্টে আবেদন করেন।

এর ধারাবাহিকতায় হাই কোর্ট ৮ অক্টোবর রুল জারি করে। নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে কোকেন মামলা কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় সরকারের কাছে। আর রুলের নিষ্পত্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত মামলারটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

রষ্ট্রপক্ষ হাই কোর্টের ওই আদেশ স্থগিতের জন্য আপিল বিভাগে আবেদন করলে মঙ্গলবার সর্বোচ্চ আদালতের আদেশের মধ্যে দিয়ে নিম্ন আদালতে এ মামলা চলার পথ তৈরি হয়।

গত বছরের ১৫ জানুয়ারি নূর মোহাম্মদকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব। চলতি বছর ১১ জুলাই উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ছাড়া পান তিনি।

ছাড়া পাওয়ার পর নূর মোহাম্মদ গত ৬ অগাস্ট শত কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিতে একটি মামলা করেন। তার দাবি, নিয়ম অনুসরণ না করে তার অজ্ঞাতে ভোজ্যতেলের ওই চালান আনা হয়েছিল।

নিজের প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তাসহ তিন ব্যক্তি এবং শিপিং এজেন্ট ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাস ও চালান পাঠানো বিদেশি কোম্পানি মিলিয়ে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে ওই মামলায় বিবাদী করেছেন খান জাহান আলীর মালিক।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »