এখনও জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন ফরিদপুরের যতীন মাস্টার

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ফরিদপুর থেকে হারুন-অর-রশীদ: ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মেগচামী ইউনিয়নের চরবামুন্দী গ্রামে ১৯৪৬  সালে জন্মগ্রহণ করেন যতীন্দ্র নাথ মালো । এরপর কোরকদী রাসবিহারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা জীবন  শুরু করলেও  পরবর্তীতে  ১৯৬৪ নলীয়া জামালপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সালে এসএসসি পাশ করেন।  জামালপুর গার্লস স্কুলে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন  শুরু করে  পরবর্তীতে ১৯৭২  সালে  ২ নং রামদিয়া  উচ্চ বিদ্যালয়ে  সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন।

দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে সুনামের সাথে চাকুরি জীবন শেষ করে ২০০৬ সালে তিনি অবসরে যান। দুলালী রানী মালোর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন   তিনি । দুলালী রানীর হার্টেও বাল্ব নষ্ট হয়ে মারা গেলে  রুপশী রানীর সাথে দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন । বর্তমানে তার ২ পুত্র  ১ কন্যা । বড়পুত্র মানিক মাগুরা পলিটেকনিক ও রতন ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ালেখা করছে।

শিক্ষাকতা জীবন শেষ করে অবসরে গেলেও তার জীবন কাঠছে এখন অবহেলা অনাহার ও অর্ধাহারে । জাতি গঠনের এই কারিগরের কাছে তার বর্তমান অবস্তা সম্পর্কে জানতে চাইলে বাকরুদ্ধ কন্ঠে  বলেন, সারা জীবন শিক্ষকতা করলাম, শিক্ষকতার আলো ছড়িয়ে দিলাম সকলের  মাঝে  কি পেলাম এতে ?  জীবনে এখন ভাতের জন্য যুদ্ধ করতে হয়। বউ বাচ্চাকে নিযে না খেয়ে জীবন চালাতে হয় । বেঁচে থাকার জন্য এখন স্ত্রীকে এই বয়সে  রাজ্জাক জুট মিলে কাজ করতে হয়। যা পাই তা দিয়ে সংসার চলে  ন্ া। মাঝে মাঝে মানুষের কাছে হাত পাতি, শরম লাগে কিন্তু কি করব , জীবন তো চলে না। কোন রকম খেয়ে না খেয়ে বেচে আছ্ ি।  এর উপর এক এক রোগ তো লেগেই আছে। হাত পায়ে ঘা এবং  দুটি চোখেই পরেছে ছানি। খাবার ই জোটে না  তো চোখের অপারেশন করবো কিভাবে । জমি জমা বলতে বসতভিটা ছাড়া আরকিছুই নেই  সমাজ রাষ্ট্র জাতি কি দিয়েছে আমাকে?  যে শিক্ষকতা করে জীবনের সবটুকু ব্যয় করলাম এই তার পাওনা । সততা নিষ্ঠা একাগ্রতা নিয়ে যে কাজ করে গেছি  সেজন্য পাচ্ছি শুধু অভাব  অনটন ও বঞ্চনা।

অবসর সময়  এককালীণ সামান্য কিছু টাকা পেলেও তা ছিল খুবই  নগন্য । এলাকার মে¤া^র  ১০ টাকা কেজির চাউলের একটা কার্ড করে দিলে ৪ মাস নেবার পর তাও এখন বন্ধ আছে।   এখন আর কেই একবারের জন্যও এসে খোঁজ নেয় না। কেমন আছি , কিভাবে আছি। বউ ছেলে মেয়ের মুখে দুবেলা  দু মুঠো ভাত তুলে দিতে না পারার কষ্ট  সহ্য করতে পারি না।  তাই মনে  হয় কবে মৃত্যু ঘটবে। দুনিয়া ত্যাগের সেই আশায় পথ চেয়ে আছি ।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »