সৌন্দর্যের ঐশ্বর্য নিয়ে ৪৪-এ পা রাখলেন ঐশ্বরিয়া

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

বিনোদন ডেস্ক: আজ ১ নভেম্বর, ৪৪ বছর পূর্ণ করলেন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাবেক মিস ওয়ার্ল্ড ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন।  ১৯৭৩ সালের এই দিনে তিনি ভারতের কর্নাটক রাজ্যের ম্যাঙ্গালোরে  জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম কৃষ্ণরাজ রাই, তিনি ছিলেন জীববিজ্ঞানী। মা বৃন্দা রাই গৃহিণী। ঐশ্বরিয়া রাইয়ের পরিবারে বাবা-মা ছাড়াও আছেন বড় ভাই। নাম আদিত্য রাই। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার হলেও তিনিও বিভিন্ন সময় ঐশ্বরিয়ার সিনেমা প্রযোজনা করেছেন। ঐশ্বরিয়া অভিনীত ‘দিল কা রিশতা’ প্রযোজনার মাধ্যমে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নাম লেখান আদিত্য।

ঐশ্বরিয়া বেড়ে উঠেছেন মুম্বাইয়ে। ছোটবেলায় তার মা-বাবা মুম্বাইয়ে চলে আসেন এবং সান্তা ক্রুজের আর্য বিদ্যা মন্দির উচ্চ বিদ্যালয়ে ঐশ্বরিয়াকে ভর্তি করে দেন। এরপর এক বছরের জন্য রাই চার্চ গেটের জয় হিন্দ কলেজে পড়াশোনা করেন এবং তারপর তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পড়েন মাতুঙ্গার রুপারেল কলেজে। ঐশ্বরিয়ার স্বপ্ন ছিল স্থপতি হবেন। স্বপ্নপূরণে তিনি ‘সংসদ একাডেমি অব আর্কিটেকচার’-এ স্থাপত্যবিদ্যা বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তবে বেশিদিন সেখানে সময় দিতে পারেননি। মডেলিং এ ব্যস্ত হয়ে যাওয়ার কারণে স্থপতি হওয়ার স্বপ্ন ত্যাগ করতে হয় তাকে।

১৯৯১ সালে ইন্টারন্যাশনাল সুপারমডেল প্রতিযোগিতায় ঐশ্বরিয়া প্রথম স্থান অধিকার করে জানান দেন তার আগমনী বার্তা। তিনি ১৯৯৩ সালে সবার নজরে আসেন পেপসির বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। ঐ বিজ্ঞাপনে তার সহশিল্পী ছিলেন আমির খান এবং মাহিমা চৌধুরী। সিনেমায় আসার আগেই নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন ঐশ্বরিয়া। কারণ ১৯৯৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ড হয়েছিলেন। তবে তার সিনেমাযাত্রায় শুরুটা খুব বেশি ঐশ্বর্যমণ্ডিত ছিল না। প্রথমবারের মতো অভিনেত্রী হিসেবে ডাক পান ১৯৯৭ সালে। তাও বলিউডে নয়। তামিল সিনেমা, সিনেমার নাম ইরুভার।

যাই হোক, তামিল সিনেমার মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলেও একই বছর বলিউডে ডাক পান। বলিউডের প্রথম সিনেমাতেও নাম করতে পারেননি। ববি দেওলের বিপরীতে ‘আওর পেয়ার হো গ্যায়া’ নামের ঐ সিনেমা ব্যবসায়ীকভাবে ব্যর্থ হয়। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯৮ সালে আবারো অভিনয় করেন ‘জিন্স’ নামের আরেকটি তামিল সিনেমায়। ব্যবসায়ীক সাফল্য পেলেও ঐ সিনেমার মাধ্যমে ঐশ্বরিয়া কোনো নাম করতে পারেননি।

১৯৯৯ সালে ঐশ্বরিয়া দুটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হন। ঋষি কাপুর পরিচালিত ‘আ আব লট চলে’ এবং সঞ্জয় লীলা বনসালির ‘হাম দিল দে চুকে সনম’। প্রথমটির মাধ্যমে সাফল্য না পেলেও দ্বিতীয় সিনেমাটির মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি। বলা যায় সঞ্জয় লীলা বনসালির হাত ধরেই বলিউডে ঐশ্বরিয়া প্রথম সাফল্যের স্বাদ পান। বলিউডে সাধারণত অধিকাংশ অভিনেতা-অভিনেত্রীর ভাগ্যেই প্রথম সিনেমার কারণে ফিল্মফেয়ারের ‘বেস্ট ড্যেবু’ পুরস্কার জোটে। কিন্তু ঐশ্বরিয়ার ভাগ্যে সেই পুরস্কার জোটেনি। কিন্তু তার আর দরকার ছিল না। ১৯৯৯ সালে ‘হাম দিল দে চুকে সনম’-এর মাধ্যমে সে বছর তিনি প্রথম ধাপেই ফিল্মফেয়ার আসরের সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নেন। ঐ সিনেমায় ঐশ্বরিয়ার সহশিল্পী ছিলেন সালমান খান এবং অজয় দেবগন।

তবে শুধু তামিল কিংবা হিন্দি নয়। বাংলা এবং ইংরেজি ভাষার সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন ঐশ্বরিয়া। ২০০৩ সালে ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত ‘চোখের বালি’ সিনেমার মাধ্যমে বাংলা সিনেমার খাতায় নাম লেখান তিনি। হলিউডে প্রথম অভিষেক হয় ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রিজুডিস’ সিনেমার মাধ্যমে। হলিউডের প্রথম সিনেমাতেই বেশ সফলতা পেয়েছিলেন। ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত ঐ সিনেমাটি আয় করেছিল ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এরপর হলিউডে ২০০৫ সালে ‘দ্য মিস্ট্রেস অব স্পাইস’  ২০০৭ সালে ‘প্রভোকড’ ও ‘দ্য লাস্ট লিজেন্ড’ নামের দুটি এবং ২০০৮ সালে ‘দ্য পিংক পান্থার-টু’ সিনেমায় কাজ করেন।

সবমিলিয়ে ঐশ্বরিয়া অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের সংখ্যা ৪৫। তবে এতো অল্প সিনেমার মাধ্যমে সবখানেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন এই অভিনেত্রী। এ পর্যন্ত দুইবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, সাতবার আইফা অ্যাওয়ার্ড, ৭ বার স্টার স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড, কয়েকবার জি সিনেমা অ্যাওয়ার্ড, ওয়াশিংটন ডিসি ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডসহ নিজের দেশ এবং বিদেশে শত শত পুরস্কার জিতেছেন। ২০০৯ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করেছে। কান চলচ্চিত্র উৎসবে লাল গালিচায় হাঁটার অভিজ্ঞতায় ভারতীয়দের মধ্যে তিনি এগিয়ে।

ঐশ্বরিয়া রাইয়ের উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে ‘হাম দিল দে চুকে সনম’  ‘দেবদাস’ ‘জোশ’ ‘কুস না কাহো’ ‘মহব্বতে’, ‘তাল’, ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’, ‘চোখের বালি’ ‘গুরু’, ‘যোধা আকবর’, ‘ধুম-টু’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। তবে ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সালমান খানের সাথে সম্পর্কে জড়ানোর কারণে সেই বছরগুলোতে বলিপাড়ায় অধিকাংশ সময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতেন তিনি। তবে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে পরবর্তীতে এই সম্পর্কের কোনো ভবিষ্যৎ তৈরি হয়নি।

অভিষেক বচ্চন ২০০৫ সালের শেষের দিকে ধুম-টু সিনেমার শুটিং চলাকালীন ঐশ্বরিয়ার প্রেমে পড়েন। পরবর্তীতে ঐশ্বরিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে দুই পরিবারের সম্মতিতে ২০০৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে এই দম্পতির ঘরে কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করে। মা হওয়ার কারণে চার বছর সিনেমা থেকে দূরে থাকার পর ২০১৫ সালে ‘জাজবা’ সিনেমার মাধ্যমে পুনরায় সিনেমায় ফেরেন ঐশ্বরিয়া। এ অভিনেত্রীর সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’। বর্তমানে তিনি অতুল মাজরেকার পরিচালিত ‘ফ্যানে খান’ সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই সিনেমায় তার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন অনিল কাপুর এবং রাজকুমার রাও। ২০০০ সালে অস্কারে মনোনীত হওয়া ডাচ সিনেমা ‘এভরিবডিস ফেমাস’-এর রিমেক এটি।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সৌন্দর্য, অভিনয় আর প্রেম-বিচ্ছেদ সবকিছু মিলিয়ে সবসময় আলোচনায় ছিলেন ঐশ্বরিয়া। ক্যারিয়ারে একাধিক সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়ে হয়েছেন কোটি হৃদয়ের স্বপ্নরানি। যে কারণে ঐশ্বরিয়ার জন্মদিন সিনেমাপ্রেমীদের কাছেও একটি বিশেষ দিন হিসেবে পরিগণিত হয়ে থাকে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »