বিশ্বজিৎ হত্যায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: বহুল আলোচিত দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর স্বাক্ষরের পর ৮০ পৃষ্ঠার এ রায় মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়।

এর আগে গত ৬ আগস্ট বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আট আসামির মধ্যে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল  রাখেন হাইকোর্ট। বাকি ছয়জনের মধ্যে চারজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং অপর দুইজনকে খালাস দেওয়া হয়।

এ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে যে দুজন আপিল করেছিলেন, তারা খালাস পেয়েছেন। অপর ১১ জনের যাবজ্জীন সাজা বহাল রয়েছে।

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে পথচারী বিশ্বজিৎ দাসকে নৃসংশভাবে হত্যা করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। এই হত্যাকাণ্ডের এক বছরের মাথায় ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক এ বি এম নিজামুল হক। ঘটনার এক বছরের মধ্যেই মামলাটির বিচার নিষ্পত্তি করা হয়।

রায়ে ২১ আসামির মধ্যে আটজনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। বাকি ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেয় আদালত। দণ্ড পাওয়া সবাই আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জগনাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কর্মী। ২১ আসামির মধ্যে এখন পর্যন্ত আটজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। বাকি ১৩ জন পলাতক রয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- রফিকুল ইসলাম ওরফে শাকিল, মাহফুজুর রহমান ওরফে নাহিদ, জি এম রাশেদুজ্জামান ওরফে শাওন, কাইয়ুম মিয়া, ইমদাদুল হক ওরফে এমদাদ, সাইফুল ইসলাম, রাজন তালুকদার ও নূরে আলম ওরফে লিমন। এদের মধ্যে রাজন তালুকদার ও নূরে আলম এখনো পলাতক রয়েছেন। বাকি ছয়জন কারাগারে আছেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১৩ জন হলেন- এ এইচ এম কিবরিয়া, গোলাম মোস্তফা, খন্দকার ইউনুস আলী, তারেক বিন জোহর, আলাউদ্দিন, ওবায়দুল কাদের, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, আল আমিন শেখ, রফিকুল ইসলাম, মনিরুল হক পাভেল, কামরুল হাসান ও মোশাররফ হোসেন। এদের মধ্যে এস এম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফা কারাগারে আছেন। বাকি ১১ জন পলাতক।

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে পথচারী বিশ্বজিৎ দাসকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মীরা নির্মমভাবে পেটান ও কোপান। বাঁচার জন্য দৌড় দিলে তিনি শাঁখারীবাজারের রাস্তার মুখে পড়ে যান। রিকশাচালক রিপন তাকে রিকশায় তুলে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক বিশ্বজিৎকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় বিশ্বজিৎ লক্ষ্মীবাজারের বাসা থেকে শাঁখারীবাজারে নিজের দর্জি দোকানে যাচ্ছিলেন।

হত্যার ঘটনায় ওই রাতে সূত্রাপুর থানায় মামলা করে পুলিশ। পরদিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। এরপর সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ৫ মার্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ২১ জন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। ওই বছরের ২৬ মে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষ বিশ্বজিতের বাবাসহ ৩৩ জনকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রয়েছে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »