অবশেষে সরকারি শিশুসদনে আশ্রয় পেল মীম

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঠাকুরগাঁও: অবশেষে আশ্রয় মিলল বিএসএফের গুলিতে নিহত মজিবর রহমানের অসহায় মেয়ে শিশু মীমের।

এখন থেকে ঠাকুরগাঁও সরকারি শিশুসদনে থাকবে আট বছরের এতিম শিশু মীম। সেখানে তার লেখাপড়ারও ব্যবস্থা হবে।

গত ২৭ অক্টোবর দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত ‘বাবা বিএসএফের গুলিতে নিহত, মা অন্যের সংসারে’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশের পর শিশু মীমের জন্য এ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক আবদুল আওয়াল।

বুধবার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, শিশু মীমের লেখাপড়া ও আশ্রয়ের জন্য ঠাকুরগাঁও সরকারি শিশু সদনে ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মীমের বাড়ি জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার  আমজানখোর ইউনিয়নের বারোসা গ্রামে।

তার বাবা মজিবর রহমান সীমান্ত এলাকায় গরু চরানোর সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নিহত হন।

ওই সময় মীমের বয়স ছিল মাত্র পাঁচ মাস।

এদিকে চার বছর আগে মা রুমী বেগম এই এতিম শিশুকে ছেড়ে বিয়ে করে অন্যের সংসারে চলে যান।

এর পর থেকে দাদি মর্জিনার সঙ্গে অন্যের বাড়িতে আশ্রিত থাকে মীম। দুঃখ-দুর্দশার জীবন তাদের। এবাড়ি ওবাড়িতে চেয়ে আহার জোটে।

এর মধ্যে বয়স হয়ে যাওয়ায় বৃদ্ধা দাদির দুশ্চিন্তার শেষ নেই। ভেবে কূলকিনারা পান না তিনি। মৃত্যুর আগে কার কাছে রেখে যাবেন এতিম নাতনিকে?

একটি দৈনিক প্রতিবেদনে মীমকে নিয়ে তার দাদির দুশ্চিন্তার খবর প্রকাশিত হয়। এর পর শিশুটির পাশে দাঁড়ালেন জেলা প্রশাসক আবদুল আওয়াল।

প্রসঙ্গত, গত ৯ বছরে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএসএফের গুলিতে অন্তত ১৮০ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

এমকেপি নামে স্থানীয় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সংস্থাটির পরিচালক রবিউল আযম বলেছিলেন, বিএসএফের গুলিতে নিহতরা পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তাদের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে  অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশায় দিন যাপন করছে।

এ ছাড়া আমজানখোর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আকালু বলেছিলেন, বিএসএফের বর্বরতায় তার এলাকার অনেকেই নিহত হয়েছেন। ফলে অনেকেই আপনজন হারিয়ে অসহায় অবস্থায় পড়েছে। এর মধ্যে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে দুর্দশাগ্রস্ত বলে জানান তিনি।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »