দেবশ্রী চক্রবর্তীর গল্প ফুচকা পর্ব ৯

Feature Image

 

আজ পাড়ায় ছোটন কুমারের ফাংসান আছে, বটতলার মোড়ে নদাদুর স্বয়ম্বরের মঞ্চে আজ ছোটন কুমার নাইট । সকাল থেকে কালুর রিক্সায় একটা মাইক লাগিয়ে সারা পাড়ায় তাঁর প্রচার শুরু হয়ে গেছে, মাইকে গান হচ্ছে “ দে দে প্যার দে “ । মিউজিকের তালে তালে পথ চলতি সব মানুষরা একটু কোমর দুলিয়ে নিচ্ছে । বাজার ব্যাগ গুলো যেন একই তালে দুলে উঠছে । এমন সময় ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে টুকটুকি আসছিল সাইকেল চালিয়ে, বটতলার মোড়ে এলোমেলো ক্লাবের পল্টুদাকে দেখে টুকটুকি সাইকেল থেকে নেমে পড়ল। ও পল্টুদা, আজ নাইটে আসছ না কি? পল্টু দা কিছুটা থতমত খেয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, হ্যাঁ আসছি, তুই আসছিস নাকি ? টুকটুকি বলল, হ্যাঁ আমি তো সব সময় আছি গো । পল্টু বলল তাহলে নাইটে একবার হবে নাকি রে ? টুকটুকি কোমরে কাপড় গুঁজে নিয়ে বলল অমিতাভের গান শুনলে আমি আর থাকতে পার না, চলো এখনই একবার হয়ে যাক । “ দে দে প্যার দে” গানের সাথে নাচ জুড়ে দিলো টুকটুকি আর পল্টুদা । সে কি নাচ , বট তলার মোড়ে লোক জমে গেলো ।

 

আজকাল এই পাড়ায় ডেঙ্গুর উপদ্রোপ খুব বেড়ে গেছে । পৌরসভা থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার সহ জনসচেতনতা বাড়ানর জন্য পাড়ার মোড় গুলোতে একটা করে প্লাস্টিকের ডেঙ্গুর মশার মডেল বসিয়ে নীচে পোস্টার দিয়ে সচেতনতা গড়ার চেষ্টা চলছে । গোয়ালাপাড়ার চুকুস আর ওর বাবা নাড়ু বটতলার মোড়ে একটা সানগ্লাসের দোকান খুলেছে । চাকদা হাঁট থেকে জলের দামে সানগ্লাস গুলো কিনে এনে এখানে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করে । দোকানের সামনে দড়ি টাঙ্গিয়ে তাতে চশমা গুলো ঝুলিয়ে রেখেছে, সেগুলো পাখার হায়াতে গানের তালে তালে দুলে উঠছে । চুকুসের দোকানের পাশে পৌরসভা থেকে একটা প্লাস্টিকের মশা রেখে গেছে, চুকুসের বাবা মশাটার পাশে দাঁড়িয়ে একটা নীল রঙ্গের সানগ্লাস পড়ে টুকটুকির নাচ দেখছিল, এমন সময় কেষ্টর চায়ের দোকান থেকে কে যেন আওয়াজ দিলো, কাকু, নাচবে নাকি । ব্যাস এই একটা কথা নাড়ুর ভেতরের আবেগ অনুভূতি গুলিকে জাগিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট ছিল । নাড়ু তাঁর ছয় ফুটের কালো মোষের মতন চেহারাটা নিয়ে হাতে তুড়ি দিয়ে নাচতে নাচতে চলল ।

 

আজ ধনা স্যারের বাজারে আসতে একটু দেড়ি হয়ে গেছে, ভোর ভোর বাজার হাঁট সেরে ফেলেন স্যার । কিন্তু আজ ধনা স্যার তাঁর কুকুর ডেলোকে নিয়ে একটু কুকুরের ডাক্তারের কাছে গেছিলেন । ডেলটা গত দু দিন ধরে মাথা তুলতে পারছে না । প্রত্যেক ভাই ফোঁটায় ডেলো ধনা স্যারের দিদি কণিকার কাছ থেকে ফোঁটা পায়, সঙ্গে ঘিয়ে ভাজা নানা রকমের মিষ্টি, লুচি, মাংস এই সব । কিন্তু ডেলোর পেটে ঘিয়ের জিনিশ সহ্য হয় না । তাই প্রতি বছর ভাইফোঁটার পর ডেলোর একটু শারীরিক গোলযোগ দেখা যায় । প্রতি বছর দিদি কণিকা ভাবে ভাই ডেলোকে আর সামনের বছর থেকে ঘিয়ের জিনিশ দেবে না , কিন্তু ভাইফোঁটার আগে মনে নতুন ভাবের উদয় হয়, যাক গে, সারা বছর তো দিচ্ছি না, সে না হয় বছরে একদিন খেলো । কিন্তু ডেলো, সে সারা বছর এই দিনটার প্রতীক্ষায় যেন থাকে । রোজকার খাবার গুলোর থেকে ভাইফোঁটার খাবার গুলো সত্যি অন্য রকম, দিদির হাতের রান্নার জবাব নেই । ধনা স্যারের বাড়িতে প্রায় গোটা ২০ কুকুর আছে, কিন্তু ডেলোর কদর এই বাড়িতে আলাদা । অবিবাহিত এই পরিবার যেন ডেলোকে তাঁদের উত্তরাধিকারী ঠিক করে নিয়েছে । তাই অন্য কুকুর গুলো ডেলোকে প্রতিমুহুর্তে শাপশাপান্তর করে । দিদি কণিকা সব বোঝে, তাই ডেলোর কপালে একটা বড় কাজলের টিপ পরিয়ে দিয়ে রাখেন । কিন্তু তাতে লাভের লাভ সেই অর্থে কিছু হয় নি ।

 

স্যার থোলে হাতে করে বাজারের দিকে এগিয়ে চলেছেন, তাঁর পেছন পেছন গোটা দশেক কুকুর চলেছে । এই কুকুর গুলো ধনা স্যারের খুব নেওটা, বাকি কুকুর গুলো সকাল সকাল ব্রেক ফাস্ট করে পাড়া চড়তে বেড় হয় নয় তো বাগানের কোনায় টানা ঘুম দেয় । বটতলার মোড়ে এসে টুকটুকির নাচ দেখে কুকুর বাহিনী দাঁড়িয়ে পড়ল । স্যারের কোন দিকে ভ্রূক্ষেপ নেই । তিনি বাজেরে ঢুকে গেলেন, আর কুকুর গুলো হা করে জিভ বারকরে টুকটুকি আর নাড়ুর নাচ দেখতে থাকল । নাড়ু আসার পর টুকটুকি নাড়ুর হাত ধরে নাচছে দেখে পল্টুদা নাচ থামিয়ে বাজারে চলে গেলো । এত গুলো কুকুর কে এক সাথে দেখে ধীরে ধীরে মানুষজন সরে যেতে থাকল । এখন বটতলার মোড়ে দশটা কুকুর ছাড়া আর সেই অর্থে কেউ নেই । টুকটুকি নাচ থামিয়ে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ হাফিয়ে নিলো, নাড়ু কিন্তু অমিতাভের গান গুলোর সাথে নেচেই চলেছে । কাজের বাড়িতে যেতে দেড়ি হয়ে যাচ্ছে দেখে টুকটুকি সাইকেলে করে চলে গেলো । টুকটুকিকে চলে যেতে দেখে কুকুর গুলোর মেজাজ যেন একটু বিগড়ে গেলো । এমন সময় কালুর রিক্সা সারা পাড়ায় প্রচার করে বটতলার মোড়ে পৌঁছেই ধন্যা স্যারের কুকুর বকুলির ল্যাজে চাঁপা দিলো । ব্যাস , বকুলির আর্তনাদ শুনে সব কুকুর গুলো কালুর রিক্সার পেছনে ছুট দিলো । সে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গেলো ।

বাজারের সামনে নেতাজীর একটা বিশাল মূর্তি আছে, নেতাজী হাত তুলে বলছেন দিল্লি চলো । সেই মূর্তিকে কেন্দ্র করে কালু রিক্সা নিয়ে ছুটছে পেছনে কুকুর বাহিনী দৌড়াচ্ছে । সে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি । একন সময় চার দিকে সাদা ধোঁয়া উড়িয়ে পৌরসভার গাড়ি ডেংগুর মশা মারতে কামান দেগে এগিয়ে এলো । চারদিক সাদা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকায় কুকুর কুলও চোখ বন্দধ করে দাঁড়িয়ে অদ্ভুত স্বরে চেঁচিয়ে উঠল । সুযোগ বুঝে কালু রিক্সা নিয়ে কামান গাড়ির পেছন পেছন কেটে পড়ল । যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কামান দেগে পৌরসভার কর্মীরা কালুকে উদ্ধার করে নিয়ে চলল । ধনা স্যার বাজার থেকে বেরিয়ে এসে কুকুরদের এই অবস্থা দেখে বলল , দিন নেই রাত নেই কামান দাগছে, মানুষজনকে অতিষ্ট করে তুলেছে এরা । সামনের রিক্সা স্ট্যান্ড থেকে আওয়াজ এলো দাদু, মানুষের কোন সমস্যা হচ্ছে না । আপনাদের অসুবিধা হলে রাস্তায় বেড় হবেন না । ধনা স্যার বুঝে গেলো এখানে কথা বাড়ান ঠিক হবে না, কথা বাড়ালে সমস্যা হতে পারে ।

 

বুজনের ঠাকুমার মনটা কয়েক দিন ভালো নেই । হলুদ বাগানের মেলা থেকে এক ডজন মুরগীর বাচ্চা কিনে এনেছিল । ভেবেছিল পেলে বড় করবে, বড় হলে ডিম দেবে, সেই ডিম বিক্রি করে দুটো পয়সা আসবে । সেই পয়সা দিয়ে পুজো পার্বনে নাতি নাতনী গুলোকে নাড়ু, তক্তি করে খাওয়াতে পারবেন । বাকি পয়সা জমিয়ে কয়েকটা হাঁসের বাচ্চা কিনবে । কেনার সময় দোকানদার বলেছিল , ঠাকুমা, গুলি মুরগীর বাচ্চা দিলাম, চার মাসে বেড়ে যাবে, বিক্রী করে ভালো পয়সা পাবে । প্রথম দু তিন দিন ভালোই কাটছিল,স্বপ্নের মায়া জ্বাল বুনে চলেছিল বুড়ি , কিন্তু তারপর থেকে এক একটা করে বাচ্চা কমতে থাকল, ঠাকুমা গোয়ালের ভেতরে এক কোনে বাচ্চা গুলো রাখার ব্যাবস্থা করেছিল, বুজনের ঠাকুমার আদরের ভোলা থাকোতে কার সাহস যে হয় বাচ্চা চুরি করার তা সে বুঝে উঠতে পারছিল না । বুজনের দাদু বন্ধু তারাপদর কাছ থেকে জুয়া খেলায় হেরে এই ষাঁড়টা পেয়েছিল । তারাপদ জাতে নাপিত, বুদ্ধি তাঁর খুঁড়ের মতন ধারালো । গত রাতে জন্মান এঁড়ে বাছুরটিকে ঘাড়ে বসে খাওয়ানোর থেকে বিদেয় করার এমন সূবর্ন সুযোগ সে হাত ছাড়া করতে চায় নি । এঁড়ে নাও না হয় টাকা দাও । এই ছিল তারাপদর পলেসি । বুজনের দাদু পাঁচুর কাছে সেই সময় এক পয়সা ছিল না, তাই অগত্যা এঁড়েটাকে সঙ্গে করে বাড়ি ফিরতে হয় তাঁকে । ভোলা আসার পর থেকে সংসারে লক্ষ্মী যেন উতলে পড়তে থাকে । শিবরাত্রি, নীলপূজা ছাড়াও সারা বছর সারা পাড়া ঘুরে ভোলার দৌলতে ভালোই রোজগার হতে থাকে । ভোলা যেন স্বয়ম্ভূ, ভোলা নড়ে তো মাতি নড়ে না । কিন্তু একবার যদি ভোলা কোন কাড়নে রেগে যায়, তাহলে আর রক্ষ্যা নেই । ওর শিং দিয়ে গুঁতিয়ে সব শেষ করে দেবে । তাই ভোলাকে বাড়ির লোক থেকে পাড়া প্রতিবেশী সবাই খুব সমীহ করে চলে ।

গত বছর কালী পুজার দিন ভোলা এলোমেলো ক্লাবের মাঠে ঘাস খেতে গেছিল । ভোলা যখন মনের সুখে ঘাস খাচ্ছে, এমন সময় ক্লাবের ছেলে বাচ্চু, পটকা, লালু, টুকু ওরা চুপিসারে এসে ভোলার ল্যাজের মধ্যে পটকা বেঁধে দিয়ে পালিয়ে যায় । তারপর ফটিক পাগলার ছেলে কেবলার হাতে জ্বলন্ত ফুলঝুরি দিয়ে বলে পটকায় আগুন দিয়ে দিতে । কেবলার বাবা পাগল বলে কেবলাকে এ পাড়ায় কেউ বেশি পাত্তা দেয় না । ক্লাবের ছেলেরা এত মহান এক কাজ কেবলাকে দেওয়ায় কেবলা নিজেকে ধনয় মনে করে এবং বীরের মতন এগিয়ে গিয়ে পলতেতে আগুন দিয়ে ফিরে আসে । আগুনটা যখন চিড়চিড় করে জ্বলছে, তখন ভোলার পিঠে একটা মশা এসে বসে । মশার কামড় খেয়ে ভোলা ল্যাজ তুলে এক বারি দেয় পিঠে ব্যাস, প্রথম পটকাটা ভোলার পিঠের ওপর এসে ফাঠে । ভোলা দিগবিধিক জ্ঞানশূন্য হয়ে এক ছুট দেয় । ফটাফট পটকা ফাটছে, ভোলা ছুটছে । যাত্রাপথে যা পরে সব কিছু ধ্বংস করে ভোলা বাড়ি ফেরে । যাঁদের যাঁদের ক্ষয় ক্ষতি হয়েছিল তাঁরা বুজনের ঠাকুমার কাছে এলো , বুজনের ঠাকুমা উল্টে ভোলার চিকিৎসার খরচ চেয়ে বসে । বুঝন খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারে এ কাজ কারা করেছে । এই ঘটনার পর বাচ্চু, পটকা, লালু, টুকু এক মাসের জন্য অন্য কোথাউ গা ঢাকা দেয় । কারুকে না পেয়ে শেষমেশ কেবলাকে উত্তম মধ্যম দিয়ে বিদেয় করে । এবছর কালীপূজাতে ভোলাকে কোথাউ যেতে দেয় নি ঠাকুমা । বেবারা তিন চার দিন একটানা মন খারাপ করে বসে আছে । ঘরে বসে থাকা একজন ষাঁড়ের কাছে যথেষ্ট অসম্মান জনক ব্যাপার । কিন্তু বুজনের ঠাকুমাকে সে কথা বোঝাবে কে । রোজ একটা করে মুরগীর বাচ্চা চুরি হচ্ছে, এই নিয়ে বুড়ির চিন্তার শেষ নেই । তাঁর ওপর ভোলার খারাপ সময় যাচ্ছে । বুড়ি অনেক ভেবে চিন্তে সামগ্রিক বিবেচনা করে ঠিক করল রাতের বেলা বুড়ি লুকিয়ে পাহারা দেবে, তাহলে হয় তো চোর ধরা পরবে । নিজের নাতি বুজনকেও সে বিশ্বাস করে না । তাই কারুকে কিছু না বলে সে রাতে ঠাকুমা চাদর মুরি দিয়ে গোয়ালের এক কোন বিচুলির গাদার পেছনে চুপ করে বসে থাকল । সারা রাত কেটে গেলো , কারুর দেখা পাওয়া গেলো না, ভোর ৬ টা নাগাদ ঠাকুমা ঝুড়ি খুলে মুরগির বাচ্চা গুলো কে ছেড়ে দিতেই বাচ্চা গুলো লাইন দিয়ে বাইরের দিকে যেতে লাগল । ঠাকুমা তাই দেখছেন তাঁদের । এমন সময় ভোলা এগিয়ে এসে টপ করে একটা মুরগীর বাচ্চাকে মুখে তুলে চিবোতে থাকল । এ কি অবস্থা । এও কি সম্ভব ?

ষাঁড় কিভাবে মাংসাশী হয় ? যাকে এতদিন ভোলে মহেশ্বর ভেবে পূজা করে এসেছে, সে কি রূপ দেখাচ্ছে । নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না ঠাকুমা ।

 

ওরে বুজনরে, এ কি হল রে ? এ কি সর্বনাশ হল আমার গো ।

 

ঠাকুমার চীৎকার শুনে পাড়াপ্রতিবেশি সবাই ছুটে আসে । বুজন এগিয়ে এসে ভোলার মুখ খুলে দেখে রক্ত, মাংস লেগে আছে । ভোলার মুখ জোড় করে খোলায়, ভোলা খুব বিরক্ত হল । নাক দিয়ে ভস ভস করে শ্বাস ছেড়ে সে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে চিবোতে লাগল ।

 

পাড়ার শিবমন্দিরের পুরোহিত মশাই অনেক ভেবে চিন্তে বললেন, শিব মাংসাশী , কাশ্মীরি পণ্ডিতরা শিবরাত্রিতে শিবকে মাছ উতসর্গ করেন । ব্যাস , ঠাকুমা যেন হাফ ছেড়ে বাঁচল । সে ভোলাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল, ওরে ভোলা রে, আমি তোকে কত ভুল ভেবেছি । তুমি আমাকে ক্ষমা কর । পরের দিন কেষ্টনগর সমাচারের সাংবাদিক টিক্লু একটা মুরগী কিনে ভোলাকে পরীক্ষা নিতে এলো । ভোলার মুখের সামনে মুরগী পেয়ে আনন্দ সহকারে সেই মরগী খেতে শুরু করে দিলো । সেই ছবি টক্লু তুলল পরের দিন পত্রিকায় প্রকাশ করবে বলে । এলোমেলো ক্লাবের তরফ থেকে পল্টুদা ভোলাকে সংবর্ধনা দিতে এলেন, সঙ্গে এলো বাচ্চু, পটকা, লালু, টুকু । মুরগী খেয়ে ভোলার শরীর বেশ সতেজ হয়ে উঠেছিল । মুখ গুলো খুব চেনা লাগছিল । এক বছর হলেও ঘটনাটা ভোলার মন থেকে মুছে যায় নি । সেই অঘটনের দুই পাণ্ডাকে হাতের কাছে পেয়ে ভোলা উঠে দাঁড়িয়ে একবার গা ঝাড়া দিয়ে ফোঁস ফোঁস করে শ্বাস ছাড়ল , তারপর সামনের খুঁড় দিয়ে মাতিটা একটু ঘসে নিয়ে চারমূর্তির দিকে এগিয়ে চলল । ভোলাকে আসতে দেখে বাচ্চু, পটকা, লালু, টুকু পরন পণে ছুট দিলো । ওরা ছুটছে ভোলা ওদের পেছনে ছুটছে আর মনে মনে ভাবছে তোদের জন্য কালীপূজাতে আমাকে টানা গোয়ালে বসে থাকোতে হল, আর ছাড়ছি না তোদের । আজ তোদের এক দিন কি আমার এক দিন । সত্যি ভোলার দিন বটে । এ যেন মুক্তির আনন্দ ।

আরো খবর »