সুনামগঞ্জের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে শূন্য পদ সুযোগ পাচ্ছে না স্থানীয় শিক্ষিত যুবকরা

Feature Image

সুনামগঞ্জ ঃ সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ১১টি উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে শূন্য পদে স্থানীয় যুবকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকার পরও সুযোগ দিচ্ছে না স্কুল কতৃপক্ষ। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে নানান তাল বাহানা করে এলাকার স্থানীয় যুবকদের বঞ্চিত করে সুযোগ না দিয়ে মোটা অংকের টাকার পাবার লোভে অন্য জেলা ও উপজেলার লোকদের সুযোগ করে দিচ্ছে।

 

অনেকে আবার যোগ্যতা না থাকার পরও স্কুল ও কলেজ কমিটির লোকজনের সাথে আতœীয়তার সম্পর্কের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্ষমতা আর পেশী শক্তির জোড়ে শূন্য পদটি দখল করে আছে উড়ে এসে জুড়ে বসে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে ঐ সব এলাকার শিক্ষিত যুবক ও তাদের মা বাবার মাঝে চরম ক্ষোব বিরাজ করছে।

জানাযায়,জেলার  তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,ধর্মপাশা,বিশ্বম্ভরপুর,দিরাই,শাল্লা সহ ১১টি উপজেলা সদরে ও প্রতন্ত্য এলাকায় স্কুল রয়েছে ২শতাধিক ও কলেজ রয়েছে প্রায় অর্ধশত। উপজেলা ও প্রতন্ত্য এলাকার মা,বাবা নিজেরা শিক্ষিত না হতে পারলেও তাদের সন্তানদের জ্ঞানী,গুনী ও শিক্ষিত করে গড়ে তুলার জন্য হাজারো কষ্ট শিকার করে উপজেলা ও জেলা এবং বিভাগীয় শহরের বিভিন্ন নামীদামী স্কুল ও কলেজে রেখে পড়াশুনা করিয়েছেন।

কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকুরী না পাওয়ায় এখন বেকার সময় পার করছে তারা। অনেকে আবার বিভিন্ন এনজিও সংস্থায় চাকরী করছেন। অনেকে আবার র্দীঘ দিন বেকার থাকার পর বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে নাম মাত্র পাঠ টাইম পাঠদান করিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সেই সুযোগটিও দিতে চায় নি অনেক প্রচেষ্টার পর সুযোগ দিতে বাধ্য হয় সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। স্কুল কতৃপক্ষ আবার নামসর্বস্ব কিছু পত্রিকা যেগুলো কেই কোন দিন নাম ও শুনে নি এমন পত্রিকায় এসময় সময় নিয়োগ বিজ্ঞাপ্তি দিবেন যেন এলাকার শিক্ষিত ও যোগ্যতা সম্পন্ন কোন ছেলে বা মেয়ে না জানে। যার ফলে এই সব এলাকার ছেলে ও মেয়েরা আবেদনও করতে পারে না।

ফলে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন এনজিওতে চাকরী করতে নিজ নিজ জেলা ছেড়ে অন্য জেলার চলে যাচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলার নাম প্রকাশে কিছু যোগ্যতা সম্পন্ন যুবক জানাযায়,হাওর বেষ্টিত তাহিরপুর উপজেলায় রয়েছে ১৭টি স্কুল ও ২টি কলেজ। এইসব স্কুল ও কলেজে রয়েছে একাধিক বিষয়ের শিক্ষকের পদ শূন্য র্দীঘ দিন ধরেই। কিন্তু আমরা এই এলাকার বেকার শিক্ষিত যুবকদের কোন প্রকার সুযোগ দিচ্ছে না কতৃপক্ষ।

 

বিভিন্ন ভাবে তারা আমাদের দূরে সরিয়ে রাখছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষিত ছেলে ও মেয়েরা বলেন,সরকার মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের জন্য আলাদা কোটা রেখেছেন কিন্তু আমাদের জন্য নিজ নিজ এলাকার ভিত্তিক কোটা তৈরী আছে কিন্তু গুরুত্ব সহকারে কার্যকর করা হচ্ছে না। বর্তমানে সারা দেশেই শিক্ষার হার বাড়ছে দিন দিন। ফলে নিজ নিজ এলাকায় সবাই শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকার পরও চাকরী করার সুযোগ পাচ্ছি না আমরা। এই বিষয়টি বর্তমান সরকার যদি গুরুত্ব সহকারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় তাহলে আমরা সবাই উপকৃত হব। তাহিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষকা কর্মকর্তা রমাকান্ত শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে জানান,কোন বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের দেওয়া প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ওয়েব সাইর্ডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়। এর পর ইন্টারভিউ এরপর যোগ্যতা অনুযায়ী আর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি পরির্বতিতে যে সিদ্ধান্ত নেন সেইটাই চুরান্ত।

 

শিক্ষক পদে যে কোন জেলার লোক হউক শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী সুযোগ পাবে। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান,শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে হাওর বেষ্টিত উপজেলার গরীর পরিবারের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন মেধাবী যুবক ও যুবতীদের গুরুত্ব সহকারে যোগ্যতা অনুযায়ী নিজ নিজ এলাকায় নিয়োগ দিলে ঐসব পরিবার গুলো উপকৃত হবে আর বদলী হয়ে শহরে চলে যাবার প্রবনতা আর থাকবে না।

আরো খবর »