শর্ত ভঙ্গ করলে নিবন্ধন বাতিল, দলগুলোকে ইসি’র চিঠি

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: শর্তপূরণ না করে থাকলে নিবন্ধন বাতিল করা হবে বলে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ ৪০টি রাজনৈতিক দলকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গণপ্রতিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-১৯৭২ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত। ওই চিঠিতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শর্ত প্রতিপালনের বিষয়ে জানাতে বলেছে সংস্থাটি।

ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা-১ এর যুগ্মসচিব (চলতি দায়িত্ব) মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত চিঠিটি দলগুলোর সাধারণ সম্পাদক বা মহাসচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- ‘নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো আরপিও এর ৯০ এর এইচ(ডি) অনুযায়ী ৯০(বি) এর দফা ১(বি) এর কোনো বিধান লঙ্ঘিত হলে ওই রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল বলে গণ্য হবে। ওই বিধানের প্রতিপালন নিশ্চিতের জন্য রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮ এর ৯ বিধি অনুসারে নিবন্ধনের শর্তাদি প্রতিপালন সম্পর্কে অবহিত থাকা প্রয়োজন।’

এ অবস্থায় আরপিও-১৯৭২ এর ৯০(বি) এর দফা ১(বি) এর শর্তাদি নিবন্ধিত দল হিসেবে প্রতিপালন সম্পর্কে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী অবহিত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০বি এর দফা ১(বি) নিবন্ধনের শর্তে বলা হয়েছে-দলের সব পর্যায়ের কমিটি নির্বাচিত হতে হবে। সব পর্যায়ের কমিটিতে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষক বা ছাত্র সংগঠন, যে কোনো পেশা, কোনো বাণিজ্যিক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোনো শ্রমিক সংগঠন দলের অনুমোদনে অথবা সহযোগী সংগঠন হিসেবে থাকতে পারবে না।

আর রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালার ৯ বিধিতে বলা হয়েছে- প্রত্যেক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের শর্ত পরিপালন সম্পর্কে কমিশনকে সময় সময় অবহিত করবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে যে ব্যবস্থা নিতে হবে- দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নতুন কমিটির নির্বাচিত সদস্যদের তালিকা ও সংশ্লিষ্ট দলের এ সংক্রান্ত সভার কার্যবিবরণীর অনুলিপি কমিশনে দাখিল, প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের দলের আর্থিক লেনদেন একটি রেজিস্ট্রার্ড চাটার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম দিয়ে অডিট করিয়ে রিপোর্টের কপি জমা, কমিশন সময় সময় যে সব তথ্য বা কাগজপত্র চাইবে তা প্রেরণ ও সময় সময় যে সব বিষয়ের ওপর ব্যাখা চাইবে সে সবের ব্যাখা দেওয়া।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে যে দলগুলো নিবন্ধিত রয়েছে তার প্রায় সবগুলোরই শ্রমিক ও ছাত্রসংগঠন আছে। কিন্তু এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন কখনো কোনো ব্যাখ্যা চায়নি। আবার কোনো দলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেয়নি।

এক/এগারো সরকারের সময় এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন ২০০৮ সাল থেকে নির্বাচনে যেতে ইচ্ছুক দলগুলোর জন্য নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করে। সেই থেকে বর্তমান পর্যন্ত মোট ৪০টি দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন পেয়েছে।

কেএম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশনও নতুন দলকে নিবন্ধন দেওয়ার জন্য গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এক্ষেত্রে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »