বঙ্গবন্ধুকে চার দেয়ালের বন্দীদশা থেকে মুক্ত করতে হবে : বিএইচপি

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেসকো বিশ্ব ইতিহাসের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে গ্রহণ করে, বাঙালি জাতিসহ সমগ্র বিশ্বের গৌরবের স্বীকৃতি দিয়েছে। ৩১ অক্টোবর সংস্থাটি বিশ্বের ৭৮টি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল, নথি ও বক্তৃতার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অন্তর্ভুক্ত করেছে। ইউনেসকোর এ স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বিশ্ব ইতিহাসে স্বমহিমায় জায়গা করে নিয়েছে। এটি আমাদের গৌরব ও আনন্দের। ব্রিটিশ ঐতিহাসিক জ্যাকব এফ ফিল্ড বিশ্বের সেরা বক্তৃতাগুলো নিয়ে একটি বই করেছেন, সেখানেও তিনি বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে বিশ্বের অন্যতম অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতা বলে অভিহিত করেছেন।

সারাবিশ্ব বঙ্গবন্ধুকে পরম শ্রদ্ধারসঙ্গে গ্রহণ করছে। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুকে একটি দলের চার দেয়ালে বন্দী করে রেখেছি। এটা আমাদের চরম হীনমন্যতা এবং মানসিক দৈন্যতাও বটে। এ হীনমন্যতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ঐ চার দেয়ালের বন্দীদশা থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করতে হবে এবং চিৎকার করে বলতে হবে, `‍‌রাজনীতি যার যার, `বঙ্গবন্ধু’ সবার’।সকল রাজনৈতিক দল এবং সকল শ্রেণিপেশার মানুষের প্রতি আমাদের আহ্বান, আপনারা যার যার মত ও পথ নিয়ে নিজ নিজ দলের পছন্দের রাজনীতি করুন, কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রাজনীতি করবেন না, তাঁকে নিয়ে রাজনীতি করা থেকে বিরত থাকুন। বঙ্গবন্ধুকে কলঙ্কিত নয়, জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করুন।

২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে ইউনেসকোকে দেয়া এক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশ মানবতাবাদী দল (বিএইচপি)'র চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ও মহাসচিব ড. সুফি সাগর সামস্ উপরোক্ত আহ্বান জানান।

শুভেচ্ছা বার্তায় দলটি বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সম্পর্কে বলেছে যে, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালি জাতির গৌরব ও অহঙ্কার। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান প্রেরণা ছিল বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ। স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের পর এ ভাষণ এখনও আমাদের উজ্জীবিত করে আসছে। এ ভাষণ হলো, সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে কঠিন বজ্রাঘাত ও এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ কেবল ঐতিহাসিক দলিল নয়, সমগ্র জাতির প্রেরণা। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র দেশে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং ২৫ মার্চের পর তা সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে রূপ নিয়েছিল। মাত্র ১৭ মিনিটের ভাষণে বঙ্গবন্ধু আমাদের দীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরেছেন এবং মহান স্বাধীনতা- মুক্তিযুদ্ধের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা, এমনকি গেরিলা রণকৌশলেরও দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। ৭ মার্চের ভাষণ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অমোঘ দিশা।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সম্পর্কে দলটি আরো বলেছে যে, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের সংবিধানের অংশ। এ ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। একাত্তরে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কিন্তু অর্থনৈতিক মুক্তি এখনও পরিপূর্ণতা পায়নি। জাতির এই আনন্দক্ষণে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি ও সফল রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »