খালেদ মোশাররফ অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য থেকে সরে গিয়েছিলেন : বিএইচপি

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদ, ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী ও আবু হেনা মুহম্মদ কামরুজ্জামানকে হত্যার মধ্য দিয়ে জাতির বিবেককে হত্যা করা হয়েছে, জাতির আদর্শকে হত্যা করা হয়েছে, জাতির নেতৃত্বকে হত্যা করা হয়েছে, জাতীয় নেতৃত্বকে শূন্য করে দেওয়া হয়েছে। আদর্শবান, জ্ঞানী-গুণি, বুদ্ধিজীবি কোনো মডেলকে জীবিত রাখা হয়নি। নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রজ্জ্বলিত আলোকিত আদর্শের মশাল। আমাবস্যার অন্ধকার পুরিতে পরিণত করা হয়েছে বাংলাদেশকে। বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়েছে আদর্শের রাজনীতিকে।

একাত্তরে এ চার নেতার নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল। তারা চারজনই ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক-বাহক। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অনেক আওয়ামী লীগ নেতা যে কারণেই হোক বঙ্গভবনে খন্দকার মুশতাকের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু এই চার নেতাকে শত ভয়ভীতি ও লোভ-প্রলোভন দেখিয়ে টলানো যায়নি। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তারাই পারতেন বাঙালি জাতিকে সঠিক পথে নেতৃত্ব দিতে। এই চার নেতা বেঁচে থাকলে জামায়াত-শিবির যুদ্ধাপরাধীদের এমন ভয়াবহ উত্থান হতে পারত না। এ জন্যই জাতির বরেণ্য ওই চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। যাতে বাঙালি জাতি আর কখনো মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা নিয়ে দাঁড়াতে না পারে। যাতে বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধুর কর্মসূচিকে এগিয়ে নেওয়ার মতো আর কেউ বেঁচে না থাকে। কিন্তু তাদের ওই ঘৃণ্য প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

বেদনাবিধুর জেলহত্যা দিবসে ৩ নভেম্বর ২০১৭ শুক্রবার এক শোকবার্তায় বাংলাদেশ মানবতাবাদী দলের (বিএইচপি) পক্ষ থেকে মহাসচিব ড. সুফি সাগর সামস্ উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। তিনি আরো বলেন, কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় বর্বরোচিত এ হত্যাকান্ড পৃথিবীর ইতিহাসে আর একটিও নেই। বাংলাদেশ মানবতাবাদী দল এ জঘন্য রাষ্ট্রীয় হত্যাকান্ডে জড়িত মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক খুনিদের দেশে এনে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার জন্য সরকারের প্রতি জোড় দাবি জানাচ্ছে। এ খুনিদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা বাংলাদেশের মানুষের এখন প্রাণের দাবি।

শোকবার্তায় মানবতাবাদী এ নেতা বলেন, পঁচাত্তরের ৩ থেকে ৬ নভেম্বর এই তিন দিন বাংলাদেশে কোনো সরকার ছিল না। খন্দকার মুশতাক তখন নামেমাত্র প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ৬ নভেম্বর পর্যন্ত তার নামেই কার্যক্রম চলছিল। প্রকৃতপক্ষে মুশতাক বঙ্গভবনে বন্দী ছিলেন। ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ আর কর্নেল শাফায়ত জামিল তাকে বঙ্গভবনে আটক করে রেখেছিলেন। খালেদ মোশাররফ আর শাফায়ত জামিল সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হাতে নিয়েছিলেন। কিন্তু তারা ওই ক্ষমতা নিজেদের প্রয়োজনে প্রয়োগ করতে পারেননি। জেনারেল ওসমানী কিংবা খন্দকার মুশতাক আহমেদকে তাদের কোনো প্রয়োজন ছিল না। জেনারেল খালেদ মোশাররফের উচিৎ ছিল সফল অভ্যুত্থানের সাথে সাথে জাতীয় চার নেতাকে কারাগার থেকে মুক্ত করা এবং তাদের একজনের হাতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব অর্পণ করা।

জেনারেল খালেদ যদি জাতীয় চার নেতাদের মুক্ত করতেন আর তাদের যে কোনো একজনকে রাষ্ট্রপতি করতেন তাহলে তিনি জনগণের সমর্থন লাভ করতে পারতেন। পরিস্থিতি ভিন্নতর হয়ে যেত। তিনি নিজে এবং তার সঙ্গীরা কেউ এভাবে নিহত হতেন না। জেলখানায় বন্দী চার জাতীয় নেতাও মৃত্যুবরণ করতেন না। কর্নেল তাহেরের ভাগ্যে সামরিক অভ্যুত্থানের তকমা জুটত না। জেনারেল জিয়ার উত্থান হতো না। বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিপরীতে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী রাজনীতি এবং বিএনপির সৃষ্টি হতো না। স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরধীদের উত্থান হতো না। বাঙালি জাতি তথা বাংলাদেশের নাগরিকরা বিভক্ত হতেন না। কিন্তু তিনি তা না করে অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়েছিলেন।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »