কাতালান নেতার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বরখাস্তকৃত কাতালান নেতা চার্লস পুজদেমনের বিরুদ্ধে ইউরোপিয়ান অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট (ইএডব্লিউ) জারি করেছেন স্পেনের একজন বিচারক।

স্বাধীনতা ঘোষণার পর কাতালোনিয়ার স্বায়ত্তশাসন তুলে নিয়ে সেখানে স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকার সরাসরি শাসন জারি করার পর গ্রেপ্তার এড়াতে বেলজিয়ামে চলে যান পুজদেমন ও তার বরখাস্ত হওয়া সরকারের কয়েকজন আইনপ্রণেতা। বেলজিয়ামে অবস্থান নেওয়া পুজদেমন ও তার চার সহযোগীর বিরুদ্ধে শুক্রবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন স্পেনের আদালত।

বৃহস্পতিবার স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের আদালতে শুনানিতে হাজির হতে ব্যর্থ হন এই পাঁচ কাতালান নেতা। তবে ওই দিন কাতালোনিয়ার ভেঙে দেওয়া আঞ্চলিক সরকারের নয় আইনপ্রণেতাকে হেফাজতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় প্রশাসন। তাদের মধ্যে একজন ৫৮ হাজার ডলার জামানত রেখে জামিন পেয়েছেন।

তাদের সবার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, রাষ্ট্রদ্রোহ ও কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার জন্য সরকারি তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন পুজদেমন। তিনি বলেছেন, স্বচ্ছ বিচারের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত স্পেনে ফিরবেন না।

বেলজিয়ামের রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলির কার্যালয়ের মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, স্পেনের জারি করা ইউরোপীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আমলে নেবে বেলজিয়াম।

১ অক্টোবর কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে গত সপ্তাহে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয় পুজদেমনের আঞ্চলিক পার্লামেন্ট। ‘প্রজাতান্ত্রিক কাতালোনিয়া’ নামে স্বাধীন দেশের ঘোষণা দেয় তারা। গণভোট ও তার ভিত্তিতে ঘোষিত ‘প্রজাতান্ত্রিক কাতালোনিয়া’ -উভয়কেই অবৈধ ঘোষণা করে স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকার ও সাংবিধানিক আদালত। এরপর কাতালোনিয়ায় সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের শাসন জারি করে সেখানকার নিয়ন্ত্রণ নেয় মাদ্রিদ সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় প্রজাতান্ত্রিক কাতালোনিয়ার নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করে কেন্দ্র সরকার।

প্রজাতান্ত্রিক কাতালোনিয়ার পক্ষে সমর্থন আদায়ে সহযোগীদের নিয়ে বেলজিয়ামে যান পুজদেমন। সেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাতালোনিয়া রাষ্ট্রের পক্ষে দেন দরবার শুরু করেন।

পুজদেমন বলেছেন, ন্যায় বিচারের মুখোমুখি হতে তার আপত্তি নেই। শুক্রবার বেলজিয়ামের একটি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বেলজিয়ামের বিচারিক কর্তৃপক্ষকে তিনি সহযোগিতার করতে চান।

এদিকে, আঞ্চলিক সরকার ভেঙে দিয়ে স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকার কাতালোনিয়ায় যে আগাম নির্বাচন দিয়েছে, তাতে অংশ নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন পুজদেমন। ২১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।

স্পেন থেকে জারি করা ইএডব্লিউ বেলজিয়ামের সরকারি কৌঁসুলিদের কাছে পাঠানো হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারা জানাবেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঠিক আছে কি নেই। তারা যদি সঠিক মনে করেন, তাহলে বেলজিয়ামের আদালতে উঠবেন বিষয়টি এবং আদালত ঠিক করবেন, পুজদেমন ও তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হবে কি হবে না।

ইউরোপীয় আইন অনুযায়ী, এ প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার হলে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে তাদের স্পেনে পাঠাতে বাধ্য বেলজিয়াম। তবে অভিযুক্তরা যদি কোনো আইনি চ্যালেঞ্জে না যান, তাহলে তাদের প্রত্যর্পণ আরো দ্রুত হতে পারে।

যদি কোনো দেশ মনে করে প্রত্যর্পণ করা হলে সন্দেহভাজন আসামির মানবাধিকার লঙ্ঘন হতে পারে, তাহলে তারা প্রত্যর্পণ নাও করতে পারে। ন্যায় বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা রাজনীতি, ধর্ম বা জাতিগত যেকোনো ধরনের বৈষম্যের ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো আমলে নিতে পারে ইইউ দেশগুলো।

ইউরোপীয় অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট আইনের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে ৩২টি বিষয়ের একটি তালিকা রয়েছে, যে বিষয়গুলো অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে। এ ধরনের কোনো একটি বিষয় আমলে নিয়ে অভিযুক্তকে প্রত্যর্পণ করা যায়।

এদিকে, হেফাজতে নেওয়া নয় কাতালান নেতার মুক্তির দাবিতে কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক রাজধানী বার্সেলোনায় ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »