চিকিৎসকের ভাইয়ের ইনজেকশনে নববধূর মৃত্যু

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

নাটোর: জেলার গুরুদাসপুরে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসজনিত অবহেলায় তানিয়া (১৭) নামে এক নববধূর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার রাতে উপজেলার নাজিরপুর বাজারে আনোয়ার হোসেন ক্লিনিক এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, ক্লিনিকটির চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম সোহেলের ভাই আমিরুল ইসলাম সাগরের লিখে দেয়া ইনজেকশান পুশ করার পর তানিয়ার মৃত্যু হয়েছে।

তানিয়া উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের তারাজুলের মেয়ে।

তারাজুল জানান, আড়াই মাস আগে উপজেলার মশিন্দা গ্রামের শাহিনের সঙ্গে বিয়ে হয় তানিয়ার।

তিনি আরও জানান, গত মঙ্গলবার রাতে পেট ব্যথা শুরু হলে তানিয়াকে ক্লিনিকটিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে পরীক্ষা করে তানিয়ার অ্যাপেন্ডিসাইটিস রোগ হয়ে বলে জানান চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম সোহেল। এরপর ওই রাতেই তানিয়ার অপারেশন করেন তিনি।

তারাজুল জানান, অপারেশনের পর শুক্রবার তার মেয়ের ক্ষতস্থানে ব্যথা শুরু হয়। একথা জানালে চিকিৎসকের ভাই আমিরুল ইসলাম সাগর একটি ইনজেকশান লিখে দেয়।

ওই ইনজেকশান পুশ করা হলে নিস্তেজ হয়ে পড়ে তানিয়া। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ক্লিনিকেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান তার বাবা।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ ঘটনার ব্যাপারে মামলা করলে আমাকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দিয়েছে ক্লিনিকের লোকজন।

মেয়ের অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তানিয়ার মা মনোয়ারা বেগম।

তিনি বলেন, ইনজেকশান পুশ করেই সোহেল ডাক্তারের ভাই সাগর আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে।

তানিয়ার স্বামী শাহিন বলেন, মেহেদীর রং না শুকাতেই তার স্ত্রীকে মেরে ফেলেছে ভুয়া চিকিৎসক সাগর।

এদিকে চিকিৎসক সোহেল তার ভাইকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তার ভাই এলাকায় নাই। তানিয়াকে ওই ইনজেকশান দিয়েছেন ক্লিনিকের ব্রাদার সজল।

গুরুদাসপুর থানার ওসি দিলিপ কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, তানিয়ার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি বলেন, ডাক্তার সোহেল সব রোগের চিকিৎসা দেন ও অপারেশন। তাছাড়া তার ভাই সাগরকে দিয়েও চিকিৎসা করান। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »