অবৈধভাবেই চলছে বিমানের টিকিট উন্নীতকরণ

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: বাংলাদেশ বিমানের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় যাত্রীরা ইকনোমি ক্লাসের টিকিটে বিজনেস ক্লাসে যাতায়াত করছেন। প্রতিটি ফ্লাইটেই এমন ঘটনা ঘটছে। সাধারণদের ক্ষেত্রে টিকিট উন্নীতকরণ অবৈধ হলেও তা মানছেন না বিমানের মার্কেটিং ও গ্রাহক সেবা শাখার কর্মকর্তারা। এ অনিয়ম এখন অনেকটা ‘নিয়মে’ পরিণত হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি লন্ডন ফ্লাইটে পরিচিত ও আত্বীয়-স্বজনদের ইকনোমি টিকিট উন্নীতকরণ করে বিজনেস ক্লাস দেয়া হচ্ছে। এটা এখন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি এক শীর্ষকর্তার উন্নীতকরণ (আপগ্রেডেশন) বার্তা না মানায় দুই বিমান কর্মীকে কাউন্টার থেকে রেম্পে বদলি করা হয়েছে।

তারা হলেন- জুনিয়র গ্রাউন্ড সার্ভিস অফিসার-জেজিএসও শাকিল আহমেদ ও গ্রাউন্ড সার্ভিস সুভারভাইজার-জিএসএস মাসুদ করিম।

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এ এম মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, বিমানের টিকিট আপগ্রেডের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করা হাইকোর্টের রায়কে মেনেই বিমান এ বিষয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। আপগ্রেডের (উন্নীতকরণ) ঘটনায় দুই কর্মীকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে -বিষয়টি আমি জানি না। দেখি কী ঘটেছে, আগে জানি। কোনো অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস শাখার পরিচালক ও গ্রাহক সেবার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. আলী আহসান বাবুর সঙ্গে যোগাগোগ করা সম্ভব হয়নি। একাধিকবার তার মোবাইল নম্বরে কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৮ মার্চ রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদার ক্রম (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স) অনুসরণ না করে বিমানের টিকিট আপগ্রেডের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত অব্যবস্থাপনা দূর করতে কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সে সময় বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের চূড়ান্ত শুনানির পর এ রায় দেন।

তৎকালীন রিট আবেদন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ বিমান ২০০৯ সালের মার্চে পরিচালনা পরিষদের এক সভায় টিকিট আপগ্রেডেশন নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে ওই বছর নভেম্বরে রিট আবেদনটি করা হয়।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »