নিজের জীবন তুচ্ছ করে শিক্ষার্থীদের প্রাণ বাঁচালেন শিক্ষক!

Feature Image

 

বন-জঙ্গলের প্রাথমিক স্কুল। রোজকার মতোই জনা চল্লিশেক পড়ুয়ার ক্লাস নিচ্ছিলেন শিক্ষক বিশ্বজিৎ দাস।
কিন্তু, ক্লাসে কিছুতেই মন বসাতে পারছিল না শিক্ষার্থীরা। বাইরে তখন তুমুল চিৎকার করছে কুকুরের দল।

কৌতূহলেই জানালার কাছে যেতেই দেখলেন জানালা দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করছে প্রায় ১৪ ফুট লম্বা এক কিং কোবরা! সাপটি যদি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ে, তাহলে শিক্ষার্থীদের জীবন বিপন্ন হতে পারে। তাই নিজের জীবনের পরোয়া না করেই সাপটিকে ধরতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন শিক্ষক।

একসময়ে ধরেও ফেললেন। কোনো সিনেমার চিত্রনাট্য নয়, বাস্তবে এমনই ঘটনা ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ডুয়ার্সের জঙ্গলের সাথেই পানঝোড়া ফরেস্ট ভিলেজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অসীম সাহসিকতার জন্য শিক্ষক বিশ্বজিৎ দাসকে সংবর্ধনা দিতে যাচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

পাহাড়, জঙ্গলে ঘেরা সুন্দরী ডুয়ার্স। সেখানকার চামরামারি জঙ্গলের খুব কাছেই এই পানঝোড়া ফরেস্ট ভিলেজ প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এর আগে বন্যহাতির হামলায় স্কুলের মিড-ডে মিলের ঘর ভেঙেছিল। কিন্তু, শুক্রবার স্কুলে যা ঘটল, তা ভাবলে এখনো শিউরে উঠছে অনেকেরই।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শিক্ষক বিশ্বজিৎ দাস যদি নিজের জীবন বিপন্ন করে এই দুঃসাহসিক কাজ না করতেন, তাহলে নির্ঘাত প্রাণ যেত খুদে শিক্ষার্থীদের। শনিবার স্কুল চত্বরে সাহসী ও ছাত্রদরদী এ শিক্ষককে সংবর্ধনাও দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু, শুক্রবার কী ঘটেছিল পানঝোড়া ফরেস্ট ভিলেজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে? প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, দুপুরে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছিলেন শিক্ষক বিশ্বজিৎ দাস। কিন্তু, কুকুরদের চিৎকারে পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটছিল। কেন কুকুরগুলি এত চিৎকার করছে, তা দেখার জন্য জানালার কাছে গিয়েছিলেন বিশ্বজিৎ।

তখনই তিনি দেখতে পান, জানালা দিকে উঁকি মারছে কিং কোবরা। বাকিরা ভয়ে পালিয়ে গেলেও, শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে সাপটিকে ধরতে যান বিশ্বজিৎ। একসময় ধরেও ফেলেন তিনি। পরে বন দপ্তরের কর্মীরা এসে সাপটি উদ্ধার করে নিয়ে যান। বন দপ্তর সূত্র খবর, সাপটি প্রায় ১৪ ফুট লম্বা।

আরো খবর »