‘এত কিছুর পরও বিচার পাইলাম না’

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

গাইবান্ধা: ‘বাপ-দাদার জমির জন্যে লড়াই করলাম। বাম চোখটা হারালাম, ডান চোখেও কম দেখি। শরীরের ক্ষত শুকায়নি। এখনো যন্ত্রণা করে। রোদে কাজ করতে পারি না। বেশি কথা বললে মাথা গরম হয়ে যায়।’ কথাগুলো বলতে বলতে চোখে পানি চলে এল জয়পুর গ্রামের দ্বিজেন টুডুর (৫২)। তবে তা সামলে নিয়েই বললেন, ‘এত কিছুর পরও আমরা বিচার পাইলাম না।’

পাশের মাদারপুর গ্রামের মিকাই মুরমুর (৪৮) মনের ক্ষত আজও দগদগে। বললেন, কখন আবার হামলা হয়, সেই শঙ্কায় থাকতে হয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের গুচ্ছগ্রামে বসবাসের কথা বলা হয়েছিল। আমরা সেখানে যাব না। আমরা থাকার জায়গা চাই না। বাপ-দাদার জমি ফেরত চাই।’

কষ্ট ও আক্ষেপের এ কাহিনি শুধু দ্বিজেন টুডু ও মিকাই মুরমুর নয়। গত বছরের সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের জয়পুর ও মাদারপুর গ্রামের সাঁওতাল সম্প্রদায়ের সবার। গত বছরের ৬ নভেম্বর উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাণিজ্যিক খামারে আখ কাটা নিয়ে পুলিশ ও চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এতে তিন সাঁওতাল নিহত হওয়ার পাশাপাশি অনেকে আহত হন। সাঁওতালদের বাড়িঘরে লুটপাটের পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেই ঘটনার এক বছর পূর্তি হচ্ছে আজ।

সাহেবগঞ্জ বাণিজ্যিক খামারটি সাঁওতাল–অধ্যুষিত জয়পুর ও মাদারপুর গ্রাম ঘেঁষে অবস্থিত। ১ নভেম্বর সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, খামারের চারদিকে কাঁটাতারের বেড়া। ভেতরে সবুজ আখ বাতাসে দুলছে। কাঁটাতারের পাশে সাঁওতালদের মাটির ঘর। চারদিকে শান্ত পরিবেশ। দেখে মনে হয় না, এখানেই ঘটেছিল সেই নারকীয় কাণ্ড।

জয়পুর গ্রামের টাডু টুডু (৬০) বলেন, ‘আমাদের তিনটে প্রাণ গেল। পুলিশ ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিল। এক বছর চলে গেল, ভাগ্যে কিছু জুটল না। অর্ধাহার–অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। জীবন দিয়েও আমরা জমি ফেরত পাইলাম না।’

সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার দান্দুপুর গ্রামের মঙ্গল মাড্ডি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ধনগইর গোমস্তাপুর গ্রামের শ্যামল হেমব্রম ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সিনটাজুরি গ্রামের রোমেশ সরেন। তাঁদের পরিবারগুলো আজ পর্যন্ত কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। আহত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনেও নেই কোনো উদ্যোগ।

ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৫০ জন সাঁওতালকে চাল-ডাল দেওয়া হয়। আর হাইকোর্টের নির্দেশে চিনিকল কর্তৃপক্ষ সাঁওতালদের ঘরে ধান তুলে দেয়। তখন প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে প্রায় ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। বেসরকারিভাবে কিছু ত্রাণসামগ্রী আসে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »