কাজের বিনিময়ে বিছানায় যাওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন যেসব তারকারা

Feature Image

কাস্টিং কাউচ। শব্দটার সঙ্গে সাধারণ মানুষের পরিচয় বহুদিনের। অভিনয়জগতে কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘সুযোগ নেওয়া’র প্রবণতারই এটা পোশাকি নাম।বলিউড এ বিষয়ে মুখ খুলেছে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই। তারকারা জানিয়েছেন, হ্যাঁ, বলিউডে কাস্টিং কাউচ হয়। তাঁরা নিজেরাই সেটার জলজ্যান্ত প্রমাণ। শিখিয়েছেন, যে অপমানিত হলে একা একা গুমরে মরতে নেই। বরং মুখ খুলতে হয়, ভাগ করে নিতে হয় নিজের অভিজ্ঞতা। যাতে আরও অনেকে সাবধান হতে পারেন। কেউ আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, এভাবে কাজের সুযোগ মেলে না।

কালকি কেকলা

‘‘বলিউডে তো কাস্টিং কাউচ রয়েছেই,’’ সাফ বলেছেন কালকি। তিনি নিজেও যে বহু সময় বিভিন্ন আপত্তিকর প্রস্তাব পেয়েছেন, জানিয়েছেন সে কথাও। ‘‘কিন্তু আমি খুব স্লিপারি, তাই পিছলে বেরিয়ে আসি! যে মুহূর্তে বুঝতে পারি পরিস্থিতিটা অস্বস্তিকর হয়ে যাচ্ছে, সটান হাঁটা দিই সেখান থেকে,’’ বলেছিলেন কালকি। জানিয়েছিলেন, কাস্টিং কাউচ কখনওই সাফল্য পাওয়ার শর্টকাট হতে পারে না। ‘‘যদি কেউ অভিনয় না জেনে, শুধু কাস্টিং কাউচের পথ নেয় কাজ পেতে, তাহলে সে কখনওই ইন্ডাস্ট্রিতে টিকবে না,’’ সোজা বলে দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। আবার উল্টো ঘটনাও ঘটেছে তাঁর সঙ্গে। কালকি এবং অনুরাগ কাশ্যপ তখন বিবাহিত। পায়েল রোহাতগি নামে এক অভিনেত্রী অভিযোগ করেছিলেন, পরিচালক দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার পরিবর্তে ‘সুযোগ’ চেয়েছেন। অনুরাগ সে সময় পাশে দাঁড়িয়েছিলেন দিবাকরের। পায়েল তখন দাবি করেন, কালকিও ‘দেব ডি’তে কাজ পেয়েছিলেন অনুরাগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ফলেই। কালকি তখন বলেছিলেন, ‘‘আমার সম্পর্কে কে কী বলল, তা নিয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নই। ইনসিকিওর্ড লোকেরা এ সব বলবেই।’’

ইরফান খান

একাধিক বার কাস্টিং কাউচের মুখোমুখি হয়েছেন ইরফান। পেয়েছেন অনেক আপত্তিকর ইঙ্গিত। সম্প্রতি কাস্টিং কাউচ প্রসঙ্গে এমনটাই জানিয়েছেন অভিনেতা। ‘‘কাজ পাইয়ে দেওয়ার বদলে ঘনিষ্ঠ সময় কাটানোর প্রস্তাব পাওয়াটা নতুন কিছু নয়। আমাকেও বলা হয়েছে, আপস করলে সহজে কাজ মিলবে। কষ্টটা লেগেছে তখন, যখন যাদের কাছের লোক ভাবতাম, তাদের মধ্যেও কেউ কেউ এমন কথা বলেছে। তবে ‘না’ বলার রাস্তাটা তো সব সময়ই খোলা থাকে,’’ বলেছেন শিল্পী। তবে এটাও জানিয়েছেন, যে এখন আর এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় না তাঁকে। ইরফানের মতে, কেউ যদি সমানে এভাবে বিরক্ত করে, তার মুখোশ খুলে দেওয়াই উচিত। ‘‘সেক্সুয়্যাল এক্সপ্লয়েটেশন একটা অসুখ। যার বেশি ক্ষমতা থাকে, সে এটাকে বেছে নেয় শোষণের মাধ্যম হিসেবে,’’ বয়ান তাঁর।

কঙ্গনা রানাউত

কাস্টিং কাউচের কবলে পড়েন ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন-আসা অভিনেতারাই— এই ধারণা পাল্টাতে বাধ্য কঙ্গনার অভিজ্ঞতা জানলে। যে সময় কঙ্গনা অশালীন প্রস্তাব পেয়েছিলেন, তখন তিনি অভিনেত্রী হিসেবে মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত। ‘ফ্যাশন’ ছবিটা করার দৌলতে বেশ কিছু পুরস্কারও ভরে ফেলেছেন ঝুলিতে। তারই বছর তিনেক পরে মুক্তি পেয়েছিল ‘তনু ওয়েড্‌স মনু’। পরিচালক, আনন্দ এল রাই। নিটোল গল্প এবং কঙ্গনা-মাধবনের রসায়নের ফলে দর্শকের ভালবাসা পেয়েছিল ছবিটা। তখন কে জানত, আলোর পিছনে রয়েছে অন্ধকারের গল্প? কঙ্গনা পরে জানিয়েছিলেন, অডিশনের পরে ইউনিটেরই কেউ একজন তাঁকে সোজাসুজি কুপ্রস্তাব দিয়েছিল। যদিও নায়িকা তাতে কাবু হননি। চরিত্রটা পেতেও অসুবিধা হয়নি তাঁর। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটা ফাঁস করেছিলেন কঙ্গনা।

আয়ুষ্মান খুরানা

ছবি করার আগে থেকেই সঞ্চালক হিসেবে আয়ুষ্মান পরিচিত মুখ। ফলে সে অর্থে স্ট্রাগলিং আর্টিস্ট ছিলেন না তিনি। তাতে কী? শিকারিরা তো সারাক্ষণই সুযোগ খোঁজে। আয়ুষ্মান জানিয়েছিলেন, এমনই এক সুযোগসন্ধানীর খপ্পরে পড়েছিলেন তিনিও। একজন কাস্টিং ডিরেক্টর। আয়ুষ্মানকে সে সোজাসুজি বলেছিল, কাজের সুযোগ পেতে গেলে ‘সেক্সুয়্যাল ফেভার’ ছাড়া গতি নেই তাঁর। ‘‘তখন বলেছিলাম যে, আমি পারব না। সমকামী হলে তা-ও হয়তো ভেবে দেখতাম, কিন্তু ‌আমার দ্বারা হবে না।’’ তবে কাস্টিং কাউচের ফলে যাঁরা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পান, তাঁদের ব্যাপারে বিচার করতে নারাজ আয়ুষ্মান। যদিও যারা অশালীন প্রস্তাবগুলো দেয়, তাদের তিনি অপরাধী বলেই মনে করেন।

রণবীর সিংহ

বলিউডে যাঁরা স্ট্রাগ্‌ল করেন কাজের সুযোগ পেতে, কাস্টিং কাউচ তাঁদের জীবনে নিত্যদিনের দুর্ঘটনা— এ কথা সটান বলে দিতে দ্বিধা করেননি রণবীর। জানিয়েছিলেন, শুরুর লড়াইয়ের দিনগুলোয় তিনিও এর শিকার হয়েছিলেন। উল্টোদিকের মানুষটাকে রণবীর বর্ণনা করেছিলেন ‘আ স্লিজি জেন্টলম্যান’ হিসেবে। নিজের বাড়িতে রণবীরকে ডেকে পাঠিয়েছিল সে। সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল রণবীরের। তাই জানতেন, পোর্টফোলিও যত বেশি পাতার হবে, ততই সেটা কেউ দেখবে না। তাই খেটেখুটে দারুণ একটা পোর্টফোলিও বানিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা ছুঁয়েও দেখেনি লোকটি। উল্টে রণবীরকে উপদেশ দিয়েছিল, ‘স্মার্ট অ্যান্ড সেক্সি’ হওয়ার! ‘‘অ্যান্ড হি সেড, আই শুড বি ওপেন টু টেক অ্যান্ড টাচ,’’ জানিয়েছিলেন রণবীর। এমনকী, তিনি যখন সটান জানিয়েছিলেন তাঁর দ্বারা এসব হবে না, তখন চেষ্টা ছাড়েনি লোকটি। শেষমেশ নাকি ভেঙে পড়েছিল রীতিমতো, ব্যর্থ প্রেমিকের মতো!

রাধিকা আপ্টে

রাধিকাও কাস্টিং কাউচের প্রস্তাব পেয়েছিলেন, তবে সরাসরি নয়। কেউ একজন ফোন করে তাঁকে একটা ছবির কথা জানিয়েছিল। ‘‘লোকটি আমায় একজনের নাম করে বলেছিল, ইনি একটা ছবি বানাচ্ছেন বলিউডে। আপনি এঁর সঙ্গে একটা মিটিং করলে ভাল হয়। বাট উড ইউ বি ওকে স্লিপিং উইথ দ্যাট পার্সন? আমি হেসে ফেলে বলেছিলাম, তুমি দেখছি খুব মজার লোক! নো, আই অ্যাম নট ওকে অ্যাট অল। ওকে জাহান্নামে যেতে বলো!’’ আরেকবার দক্ষিণের কোনও ছবির শ্যুটিংয়ে এক অভিনেতা তাঁকে ফোন করে ফ্লার্ট করার চেষ্টা করেছিলেন নাকি। কিন্তু রাধিকা সেই অভিনেতাকে তিনি পাত্তা দেননি মোটেই।

আরো খবর »