রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রস্তাব নাকচ, বিবৃতি দিল নিরাপত্তা পরিষদ

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যে নির্মম নির্যাতন, নিপীড়ন, খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছে, সেই পরিস্থিতির ওপর প্রস্তাব না এনে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের মধ্যে চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স রাজি না হওয়ায় রাখাইন পরিস্থিতির ওপর প্রস্তাব আনার প্রচেষ্টা থমকে যায়। এর পরিবর্তে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের সর্বসম্মতিতে মিয়ানমারের উদ্দেশে বিবৃতি দেওয়া হয়।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সোমবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের পর বিবৃতি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত ব্যবহার বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে মিয়ানমারকে।

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী বর্বর অভিযান ও স্থানীয় বৌদ্ধদের উগ্রতার মুখে প্রাণ বাঁচাতে এরই মধ্যে সেখানে থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠী। এই অভিযানকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের সর্বজনীন উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। কিন্তু মিয়ানমার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিবৃতি অনুযায়ী, ‘রাখাইন রাজ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অপব্যবহার, বিশেষ করে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের লোকজনের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিরাপত্তা পরিষদ।’

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত ব্যবহার আর যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে, বেসামরিক প্রশাসন চালু করতে, আইনের শাসন শুরু করতে এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে যথাযথ বাধ্যবাধকতা ও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ।’

আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর আউটপোস্টে সন্ত্রাসী হামলার পর যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং ওই কারণে সেখান থেকে ৬ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনার পর ব্যাপক আন্তর্জাতিক নিন্দা ও চাপের মুখে পড়ে মিয়ানমার।

নিরাপত্তা পরিষদ গুরুত্বারোপ করে বলেছে, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান, তার প্রচার ও রক্ষার মাধ্যমে নিজের জনগণের সুরক্ষা দেওয়া মিয়ানমার সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদ মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব অভিযোগ স্বচ্ছভাবে তদন্তের ওপর জোর দিয়েছে এবং এ কাজে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও কৌশলকে সমর্থন করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে রাখাইনে মিয়ানমার সেনবাহিনী দমন-পীড়ন শুরু করার পর সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে জাতিসংঘ প্রতিনিধিদল আসতে চাইলে তাদের বাধা দেয় দেশটি। তবে এবার মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারের ডি ফ্যাক্টো প্রধান অং সান সু চি বলেছেন, সব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হবে। তথ্যসূত্র : রয়টার্স অনলাইন

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »