অর্থের অভাবে চিকিৎসা হয়নি শিশু রাজনের ডান পায়ে ক্ষত

Feature Image

“ও মা,মাগো,আমি বাঁচতে চাই,আমার খুব কষ্ট হচ্ছে,পায়ের মধ্যে টাটাচ্ছে, ও মা!”
অশ্রুশিক্ত দুটি নয়নে এমন বেদনাময় ও যন্ত্রনাময় শব্দ সব সময় উচ্চারন করছে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হতদরিদ্র পরিবারের শিশু রাজন(১৫)।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে পায়ের চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলাধীন যদুবয়রা বাজারে মানুষের কাছে হাত পেতে টাকা নেওয়ার সময় উপরোক্ত করুন শব্দ উচ্চারন করতে দেখা গেছে।

তার এই দুরাবস্থার কথা জানতে চাইলে উপরোক্ত শব্দ ব্যবহার করে কান্নায় ভেঙে পরে সে,শেষ পর্যন্ত কিছুই বলতে না পারলে রাজনের সাথে থাকা ছোট ভাই সজিব বলেন,আমরা হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান,আমার ভাই একজন ভ্যান চালক ছিলেন।

প্রায় ৩ বছর আগে বাশগ্রাম থেকে পান্টিতে ফেরার পথে বালুটানা গাড়ীর সাথে সড়ক দুর্ঘটনার স্বীকার হলে ডান পায়ের গুড়ালীর হাড়ের পাশে ফেরে যাই এবং গোড়ালীর হাড়ে আঘাত লাগে।অর্থের জন্য উন্নত চিকিৎসার কথা চিন্তা না করে রামনগর এক হাতুরে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়,সেখানে ডাক্তার অপারেশন করে কিন্তু সুস্থতা লাভ করেনি।

বরং দিনে দিনে তার ক্ষত স্থানের যন্ত্রনা বেড়েই চলেছে এভাবে প্রায় ৩ বছর।কিন্তু বর্তমানে রাজনের যন্ত্রনার কাতরের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারি হয়ে যাচ্ছে। তবুও অর্থের কারনে চিকিৎসা করাতে পারছি না।বর্তমানে তার পায়ে পচন ধরেছে।এখনও যদি চিকিৎসা করাতে না পারি আমার ভাইকে আর বাচানো যাবেনা,বলরেন রাজনের ছোট ভাই সজিব।

রাজন কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়ের কারিগর পাড়ার লতিফ বিশ্বাসের ছেলে।

“মানুষ মানুষের জন্য,জীবন জীবনের জন্য,একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না,ও বন্ধু”এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন শিশু রাজন ও তার পরিবারের সদস্যরা।

আরো খবর »