চুলের রং কিংবা ঘুমের অভ্যাস পেয়েছেন নিয়ানডারথালদের কাছ থেকে!

Feature Image

 

মানুষের আদিপুরুষ নিয়ানডারথালদের নিয়ে গবেষণার শেষ নেই। যারা বিজ্ঞানী নন, তাদের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ এদের নিয়ে।
নতুন এক গবেষণায় আরো আকর্ষণীয় তথ্য দেওয়া হয়েছে। তাকে বলা হয়, আজ আপনার ত্বকের যে বৈশিষ্ট্য, চুলের রং, ঘুমের অভ্যাস, মেজাজ এমনকি রহস্যময় আচরণ- তার সবই আসতে পারে সেই নিয়ানডারথাল ডিএনএ থেকে।

এ গবেষণায় আধুনিক মানুষের জীববিজ্ঞানে নিয়ানডারথাল জিনের প্রভাব পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে। রোগের বিস্তার বা আরো অন্যান্য বিষয়ে নিয়ানডারথালের প্রভাব আমাদের ওপর অনেক।

আধুনিক মানবজাতির সবচেয়ে কাছের পূর্বপুরুষ হলো নিয়ারডারথাল। বিজ্ঞানীরা বলেন, ৪০ হাজার বছর আগে ইউরোপ থেকে তারা বিলুপ্ত হয়ে যায়। আজ মানুষের যা বৈশিষ্ট্য তা এসেছে নিয়ানডারথালদের কাছ থেকেই। আফ্রিকার আদি পুরুষদের বাইরে থেকে মানুষের মাঝে যে জেনোম মিলেছে তার ১.৮-২.৬ শতাংশই এসেছে নিয়ানডারথালদের কাছ থেকে।

বড় ধরনের গবেষণায় দেখা গেছে, মানবজাতির মধ্যে যে রোগ ছড়ায় তার জন্যেও নিয়ানডারথাল জিনের প্রভাব রয়েছে।
যেমন- বিষণ্নতা, হার্ট অ্যাটাক, তামাকে আসক্তি এবং স্থূলতার মতো বিষয়গুলো এসেছে নিয়ানডারথালদের জিন থেকে। কাজেই আমাদের ওপর তাদের এখনও যথেষ্ট প্রভাব বিদ্যমান।

বিশেষজ্ঞরা ইউকে বায়োব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার মানুষের জেনেটিক তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। আরো ৫ লাখ মানুষের জন্মগত তথ্য নিয়েছেন। শারীরিক বৈশিষ্ট্য, খাবার এবং আচরণগত অনেক তথ্যও নেওয়া হয়।

প্রধান গবেষক জার্মানির লেইপজিগের ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর এভুলোশনারি অ্যান্থ্রোপলজি মিশেল ড্যানেমান বলেন, আধুনিক মানুষের নানাবিধ বৈশিষ্ট্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে নিয়ানডারথাল নামের পূর্বপুরুষরা।

তাদের জিনের প্রভাবে আজকের মানুষের চুলের রং নির্ধারণ হতে পারে। ত্বকের রং এবং তার টান টান বৈশিষ্ট্যেও প্রভাব ফেলে সেই আদিপুরুষের জিন, বলেন আরেক বিশেষজ্ঞ জেনেট কেলসো। নিয়ানডারথালদের প্রভাবেই আজ মানুষ তামাকে আসক্ত হয়। আবার রাত জেগে থাকার মতো অভ্যাসও গড়ে ওঠে। কোনো মানুষের ত্বক বেশ ফর্সা হয়। আবার কারোটা একটা গাঢ় রংয়ের। এসবই পূর্বপুরুষদেরই প্রভাব।

হাজার হাজার বছর ধরে ইউরেশিয়াতে নিয়ানডারথালরা বাস করেছে। এ অংশে মানুষের পূর্বপুরুষরা বসত গড়েন ১ লাখ বছর আগে। আফ্রিকার আদি পুরুষদের চেয়ে ইউরেশিয়ার নিয়ানডারথালরা সূর্যের বিভিন্ন ধরনের অতিবেগুনী রশ্মি গ্রহণ করেছিল। ফলে তাদের ত্বকের রংও বিভিন্ন ধরনের হয়।

ড্যানেমান আরো বলেন, এই গবেষণা আমাদের নিয়ানডারথালদের নিয়ে আরো গভীর গবেষণায় উৎসাহ যোগাবে। আমাদের চারপাশের মানুষগুলোর অনেক বৈশিষ্ট্যই এসেছে নিয়ানডারথালদের কাছ থেকে। বিষয়টি সত্যিই উত্তেজনাকর।

এ গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আমেরিকান জার্নাল অব হিউম্যান জেনেটিকস-এ।
সূত্র : ফক্স নিউজ

আরো খবর »