মাথা উল্টাতে সক্ষম (ভিডিও)

Feature Image

ছোটবেলায় হলিউডের কোনো এক মুভিতে মাথা উল্টানোর কৌশল মনে গেঁথে যায় মুহাম্মদ সামিরের। তা রপ্তে বিভিন্ন সময় চেষ্টা করতে গিয়ে মায়ের হাতে চড়-থাপ্পড়ও খেতে হয়েছে তাকে।
অথচ সামিরের সেই কৌশলই আজ বেঁচে থাকার পথ দেখাচ্ছে পাকিস্তানের করাচি শহরের সাত সদস্যের পরিবারটিকে। ১৪ বছর বয়সী সামির মুহূর্তেই মাথা ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত উল্টে ফেলতে পারে। যা মাত্র কয়েক মাসের প্রচেষ্টায় আয়ত্বে আনে সে। তার ভাষ্য, বয়স তখন ৬ কি ৭। হলিউডের কোনো এক ছবিতে এক অভিনেতাকে মাথা উল্টোতে দেখে আমার মধ্যে বিস্ময় কাজ করে। এরপর আমি তা চেষ্টা করতে শুরু করি। কয়েক মাসেই তা আয়ত্বে এসে যায়।

সামির বলে, প্রথম প্রথম মা যখন আমাকে এমন করতে দেখতেই তখন চড়-থাপ্পড় মারতেন। বলতেন, এমনটি করতে আর যেন না দেখি।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি (মা) বুঝতে লাগলেন, এটি সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত। এখন আমার স্বপ্ন হলিউডের ওই অভিনেতার মতো ভৌতিক চরিত্রে কাজ করা। বই-খাতা তুলে রেখে সামির এখন একটি নাচের দলের সঙ্গে কাজ করছে। বাবার অসুস্থতার পর পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব এখন সামিরের কাঁধে। সামিরের বাবা সাজিদ খান (৪৯) দুবার হার্ট অ্যাটাক করে এখন ঘরেই থাকছেন।

সামিরের মা রুখসানা খান (৪৫) বলেন, ওর বাবা একটি টেক্সটাইল মিলে কাজ করতেন। তবে দুইবার হার্ট অ্যাটাক করার পর কাজ করতে পারছেন না। তিনি সুস্থ না হয়ে ওঠা পর্যন্ত সামিরের কাঁধেই পুরো পরিবারের দায়িত্ব। ছেলেটাকে পড়ালেখা করাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের আর কোনো উপায় নেই। হয়তো বিধাতা তার এমনই নিয়তি লিখেছিলেন। সামির যে নাচের দলে কাজ করে তাতে মোট সদস্য আটজন। যারা পুরো করাচি শহরে পারফর্ম করে। প্রতি পারফর্মে তার উপার্জন হয় ৬ থেকে ১০ পাউন্ড। আর প্রতিমাসে ১০০ থেকে ১২০ পাউন্ড আয় হয় বলে জানায় সামির।
সূত্র : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

আরো খবর »