চালক ছাড়াই ১৩ কিলোমিটার চলল রেলের ইঞ্জিন

Feature Image

 

চালক নেই। কিন্তু, রেললাইন ধরে ছুটে চলেছে ইঞ্জিন! বাইক নিয়ে চলন্ত ইঞ্জিনের পিছু নিলেন চালক।
প্রায় ১৩ কিলোমিটার ধাওয়া করার পর ইঞ্জিনটি থামালেন তিনি। অবিশ্বাস্য মনে হলেও ভারতের কর্নাটকের ওয়াদি জংশন স্টেশনে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

সম্প্রতি ভারতে একের পর এক রেল দুর্ঘটনায় আতঙ্কিত রেলযাত্রীরা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চালকসহ রেলকর্মীদের গাফিলতির দিকেই অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু, ওই ইঞ্জিনটিতে তো চালকই ছিলেন না। তাহলে কীভাবে সেটি চলতে শুরু করল? তা নিয়ে রীতিমতো হতবাক রেলকর্মীরাই।

ভারতীয় রেল সূত্রে জানা গেছে, কর্নাটকের গুলবর্গা জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জংশন স্টেশন ওয়াদি। গত বুধবার দুপুরে ওয়াদি স্টেশনে এসে পৌঁছায় মুম্বইগামী মুম্বই মেল। কিন্তু, ওয়াদি থেকে মহারাষ্ট্রে শোলাপুর পর্যন্ত লাইনে বৈদ্যুতিকরণের কাজ এখনও শেষ হয়নি।
ওই রুটে সমস্ত ট্রেনই ডিজেল ইঞ্জিনে চলে। তাই ওয়াদি স্টেশনে মুম্বাই মেলেরও ইলেকট্রিক ইঞ্জিনটি খুলে ডিজেল ইঞ্জিন লাগানো হয়। এরপর শোলাপুরের দিকে রওনাও হয়ে যায় ট্রেনটি। কিন্তু, এরপরই ঘটে বিপত্তি। মুম্বাই মেল চলে যাওয়ার পর, লাইনে দাঁড়িয়েছিল ইলেকট্রিক ইঞ্জিনটি। চালকও নেমে গিয়েছিলেন। কিন্তু, আচমকাই সকলের নজর এড়িয়ে চলতে শুরু করে ইঞ্জিনটি! বিষয়টি নজরে আসতেই প্রথমেই ওয়াদি পরবর্তী বেশ কয়েকটি স্টেশনে লাইন ও সিগন্যাল ফাঁকা রাখার বার্তা পাঠানো হয়। এরপর ওয়াদি স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার ও ইঞ্জিনের চালক একটি বাইক নিয়ে চলন্ত ইঞ্জিনের পিছনে ধাওয়া করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রায় ১৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পর, নিজে থেকেই ইঞ্জিনের গতি কিছুটা কমে যায়। তখনই কোনওমতে ইঞ্জিন উঠে চালক এবং সেটি থামান।

এই ঘটনায় যাত্রীরা চমকে গেলেও রেলের চালকরা মনে করেন এমন সম্ভাবনা থেকে যায়। কারণ কোনও কারণে ইঞ্জিনে ব্রেক দেওয়া না হলে তা এগোতে পারে। পাশাপাশি ইঞ্জিনের অভিমুখ যদি ঢালু হয় তবে সেটি আপনি আপনি এগোতে পারে। এই পরিস্থিতি আটকাতে ইঞ্জিন বদলের সময় সাধারণত পুরানো ইঞ্জিনের চাকার পাশে কিছু রাখা হয়। যাতে সেটি এগোতে না পারে। এই ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে এমন কিছু হয়নি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

আরো খবর »