মন্ত্রী নামক মুলা পঁচে গেছে এখন শুরু মনোনয়ন নামক মুলার আবাদ তামাশায় পতিত হল কালকিনিবাসী

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ইকবাল হোসেন: স্বাধীনতার পর থেকেই মাদারীপুরের ৩টি সংসদীয় আসন নৌকার শক্ত ঘাটি হিসেবেই বিবেচিত হয়ে আসছে। আর মাদারীপুর জেলায় আওয়ামীলীগে যোগ্য নের্তৃত্বেরও রয়েছে ছড়াছড়ি। এরমধ্যে মাদারীপুর-৩ আসন ( কালকিনি-ডাসার- মাদারীপুর সদরের ৫টি ইউনিয়ন) এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এর কারণ মাদারীপুর-৩ আসনে ২২বছর ধরে আওয়ামীলীগের যে মসনদ ছিল সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের দখলে তা এখন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিমের দখলে। আর হারানো মসনদ দখল করতে আবুল হোসেনের যেমনি চলছে তৎপরতা তেমনি দখলকৃত মসনদ দখলে রাখতে আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিমও রয়েছে সক্রিয় ভূমিকায়। তার ওপরে সেই মসনদ দখলের চেষ্টার তালিকায় কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রী’র বিশেষ সহকারী ড.আবদুস সোবহান গোলাপেরও নাম উঠছে।

কিন্তু এর ফাঁকে কালকিনিবাসীর সাথে হচ্ছে চরম তামাশা। কেননা গত ৪বছর ধরেই কালকিনিবাসীর সামনে এই ৩নেতার কর্মীরা যে মুলা ধরে আসছেন তা হল মন্ত্রীত্ব পাওয়ার মিথ্যা নাটক ও গুজম ছড়ানো। এতে হয়তো মিথ্যা প্রচারনায় নিজেদের কর্মীদের সক্রিয় রাখতে তারা সক্ষম হচ্ছেন কিন্তু এই ৩মহান নেতারা মন্ত্রীত্ব না পাওয়ায় চরম হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে কালকিনির সাধারন মানুষ। কালকিনিতে এখন উন্নয়নের চাকা যে গতিতে চলছে সাধারনে মানুষের ধারনা এই তিন নেতার মধ্যে কেউ মন্ত্রী হলে সেই উন্নয়নের চাকার গতি আরো বেড়েযেত। ৪বছর ধরে কালকিনিবাসীকে যা শোনানো হয়েছে তা হল এই আগামি সপ্তাহে মন্ত্রীত্ব পাচ্ছেন অমুক নেতা। এই আগামি মাসের শুরুতে মন্ত্রী সভার রদ বদল হচ্ছে আর সেই সাথে নতুন মন্ত্রী হচ্ছেন আমাদের অমুক ভাই। এই প্রধানমন্ত্রী বিদেশে গেছে দেশে ফিরলেই আমাদের অমুক ভাই মন্ত্রীর শপথ নিবেন। হায় তামাশা আর তামাশা।

কিন্তু যেহেতু এখন আওয়ামীলীগ সরকারের চলতি মেয়াদের শেষ সময় সেহেতু মন্ত্রী নামেক মুলা ধরে আর কালকিনিবাসীকে বিশ্বাস করানো যাচ্ছে না। তাই গুজবের খতায় এখন নতুন সংযোজন তা হল আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া নামের নতুন মুলার আবাদ। এখন শুরু হয়েছে ভাই খবর শুনছো আগামি সংসদ নির্বাচনে আমাদের অমুক ভাইতো আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছে। বলেন কি ভাই আসেন মিষ্টি মুখ করাই। সাধারন মানুষ কি কারণে মিষ্টি খাওয়ানো হচ্ছে?

আরে ভাই মনোনয়ন কনফর্ম। অথচ দলের হাই কমান্ড বলছে দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে এখনো কাউকেই নির্দিষ্ট করা হয়নি। হয়তো হতাশ ও ঝিমিয়ে পড়া কর্মীদের সক্রিয় করতে এটি একটি রাজনৈতিক চালাকি। কিন্তু যে কালকিনিতে নৌকা ও আওয়ামীলীগের কথাশুনে সাধারন মানুষ আস্থা ও বিশ্বাসের সাথে থাকে সেই নৌকা প্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকদের সাথে কি তামাশা করা হচ্ছে না। এখন প্রশ্ন হল কালকিনিবাসীর সাথে হওয়া এই তামাশার সাথে কি এই তিন মহান নেতা জড়িত নাকি তাদের অতি উৎসাহী কর্মীদের জঘন্য প্ররোচনা এটি।

লেখক: সাধারন সম্পাদক, কালকিনি উপজেলা প্রেসক্লাব।

আরো খবর »