কুষ্টিয়া রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ

Feature Image

সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ

কুষ্টিয়া জেলা রেজিস্ট্রি অফিস ও সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চলছে অনিয়ম-দুর্নীতি ও নানা অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা আদায়। জমি রেজিস্ট্রিতে সরকারি নিয়মের কোন তোয়াক্কা না করে দলিল লেখকরা গড়ে তুলেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। আর এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই নানা অজুহাতে আদায় করছে অতিরিক্ত টাকা। জমি রেজিস্ট্রি ছাড়াও দলিলের নকল উত্তোলন ও নোটিস ক্রয় বাবদ সরকারি নিয়ম না মেনে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

 

ফলে রেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মদদে গড়ে উঠা দলিল লেখক শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্রের কাছে এলাকার মানুষ অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছে। সরকারি হিসাবমতে জমি রেজিস্ট্রিতে বিক্রীত জমির সর্বমোট মূল্য হিসাবে ২% উৎসকর, স্ট্যাম্প ৩%, সরকারি ফি ৪% ও দলিল খেলা বাদদ ৫শ থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা গ্রহণ ছাড়া অন্য কোন খাতে নেয়ার বিধান না থাকলেও দলিল লেখক সিন্ডিকেটচক্র সরকারি নিয়মের কোন তোয়াক্কা করছে না। ফলে জমি রেজিস্ট্রিতে সিন্ডিকেটচক্রের কব্জায় পড়ে সরকার নির্ধারিত ফি-এর বাইরে প্রতিটি দলিলে অতিরিক্ত ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি গুনতে হয়। এছাড়া দলিলের নকল উত্তোলনে সরকারি ফি ৮০ টাকার স্থলে নেয়া হচ্ছে ১১শ টাকা এবং দলিল সম্পাদনের জন্য দলিলের সাথে সংযুক্ত ২ টাকার নোটিসের স্থলে নেয়া হচ্ছে ১৫শ টাকা এবং হেবানামা ও আমমোক্তারনামা দলিল রেজিস্ট্রি সরকারি ফি-এর অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে।

এদিকে এলাকার ভুক্তভোগী মানুষসহ দলিল লেখক হারুন-অর-রশিদের অভিযোগের ভিত্তিতে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন গত জানুয়ারি মাসে দলিল লেখক সিন্ডিকেটচক্রের দুর্নীতি-অনিয়ম তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে দেন। দলিল লেখক সমিতির সিন্ডিকেটচক্র ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে মাঠে নেমে কর্তৃপক্ষ সত্যতা খুঁজে পান এবং জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

 

পূর্বে জেলা প্রশাসক কথিত দলিল লেখক সমিতি বন্ধ ও সমিতির নামে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ না করার নির্দেশ দিয়ে জমি রেজিস্ট্রিতে সরকারি নীতি অনুসরণ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি জেলা প্রশাসক রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মচারী ও দলিল লেখকদের দুর্নীতি রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কিন্তু জেলা প্রশাসকের নির্দেশে দলিল লেখক সমিতির নামে অতিরিক্ত টাকা নেয়া বন্ধ হলেও নানা অজুহাত ও খাত দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বেশি টাকা আদায় চলছেই।

আরো খবর »