ঝুকিপূর্ণ বাশের সাকোই ১৫ গ্রামের মানুষের ভরসা

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

গাইবান্ধা থেকে ফরহাদ আকন্দ: গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের মেঘারচর গ্রামের দেড়শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীদের ঝুকিপূর্ণ নদী পার হয়ে প্রতিনিয়ত স্কুলে যেতে হয়। শুধু স্কুল শিক্ষার্থীই নয়, ওই সাঁকো ব্যবহার করেন আশপাশের ১৫টি গ্রামের লোকজনও। অনেকে সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও নজর নেই কারো।

পলাশবাড়ী উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নের পূর্ব গোপিনাথপুর, ময়মন্তপুর, ফরিদপুর ও নাকাই ইউনিয়নের মেঘারচর, বালাবামুনিয়া, পুরানদার, পাটোয়াসহ আশপাশের প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষ এই বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে চলাচল করে।

স্থানীয়রা জানান, এই গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নলেয়া নদী পার হওয়ার জন্য গ্রামের বাসিন্দারা তিন বছর আগে নদীটির উপর একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। পরে দীর্ঘদিনেও আর মেরামত না করায় সেতুটি ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন এই সাঁকোটির উপর দিয়ে দেড়শতাধিক ছাত্রছাত্রী ও সহস্রাধিক মানুষ জীবনের ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে। নদীতে পড়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বই, খাতা ও পোশাক ভিজে গেলে সেদিন আর স্কুলে যাওয়া হয় না। সাঁকোটি পার হওয়ার সময় বাঁশের খুটিগুলো নড়ে। এ সময় ভীত হয়ে শিশুরা থেমে থেমে নদী পার হয়। আবার কেউবা হাত ধরে সাঁকোটি পার করে দেয়।

বাঁশের সাঁকোটি পার হয়ে প্রতিদিন মেঘারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালাবামুনিয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্র্যাক গণশিক্ষা কেন্দ্র, ফকিরহাট দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়, ফকিরহাট শহীদ খায়রুল আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আল্লাহর দরগা ইসলামিয়া দ্বি-মুখী দাখিল মাদরাসা, ফকিরহাট শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ, ফকিরহাট মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে।

মেঘারচর গ্রামের কৃষক আনোয়ারুল ইসলাম (৩৪) বলেন, বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় গত চার মাসে আমার মেয়ে সিদরাতুল মুনতাহা বাঁশের সাঁকো থেকে নদীতে পড়ে যায়। পরে তার চিৎকারে সামনের বাড়ির লোক এসে তাকে নদী থেকে তোলে। সেদিন করে আর তার বিদ্যালয়ে যাওয়া হয়নি। প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে।

বালাবামুনিয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, নদীর ওপার থেকে প্রতিদিন দেড়শতাধিক শিক্ষার্থীকে সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। পারাপারে ঝুকির কারণে বিদ্যালয়ের উপস্থিতি কমে গেছে। এ ছাড়া বর্ষাকালে নদীতে পানি বেশি হওয়ায় উপস্থিতি কমে যায়। সে সময় মাত্র দুই-তিনজন ছাত্রছাত্রী বিদ্যালয়ে আসে। তাই ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণ করা জরুরি।

ফকিরহাট দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র আহসান হাবিব জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার সময় ভয়ে ভয়ে সাঁকোটি পার হতে হয়। ছোট ছাত্র-ছাত্রীরা পারাপারের সময় নদীতে পরে গিয়ে বই, খাতা ও পোশাক ভিজে যায়। পরে সেদিন আর তাদের স্কুলে যাওয়া হয় না।

মেঘারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল গোফফার বলেন, সাঁকোতে পারাপারের সময় ছাত্র-ছাত্রীরা যেদিন নদীতে পড়ে যায় সেদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিতি অনেকটা কমে যায়। তাই অনতিবিলম্বে ওই গ্রামে একটি সেতু নির্মাণ করা দরকার।

নাকাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কাদের বলেন, মেঘারচর গ্রামে নলেয়া নদীর উপর সেতু না থাকায় স্কুলের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা বিপাকে পড়েছেন। ওখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে তাগাদা দেয়া হচ্ছে।

গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মাকসুদুল আলম জানান, মেঘারচর গ্রামের সাঁকোর স্থানে সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »