ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় : পথচলার ৩৮ বছর

Feature Image

ইবি প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

এ আর রাশেদ: স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ শহরের ঠিক মধ্যবর্তী স্থান শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুরে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কের পশ্চিম পার্শ্বে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিামাঞ্চলসহ সারা দেশে উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে কান্ডারীর ভূমিকা পালন করে আসছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

সময়ের ধারাবাহীকতায় ইতোমধ্যে ৩৮ কে পেছনে ফেলে ৩৯তম বছরে পদার্পন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। দীর্ঘ এই ৩৮ বছরের পথ চলায় নানা চড়াই উৎরাই পার করে স্বগৌরবে উচ্চ শিক্ষার প্রদীপ্ত মশাল নিয়ে ছুটে চলেছে দেশ ও দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রান্তরে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের ধর্মপ্রিয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ১৯৭৬ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালিন সরকার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষনা দেন। এটিই ছিল স্বাধীন দেশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রথম ঘোষনা। এরপর ১৯৭৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এ বারীকে সভাপতি করে সাত সদস্য বিশিষ্ট ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পনা কমিটি গঠন করা হয়। পরিকল্পনা কমিটি ৩টি অনুষদ, ১৮টি বিভাগ, ৩টি ইনিষ্টিটিউট এবং একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেন।

বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫টি অনুষদ, ৩৩টি বিভাগ, একটি ইনিষ্টিটিউট এবং ১টি ল্যাবরেটারি স্কুল রয়েছে। এর অধীনে রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষার্থী, ৩৫৭ জন শিক্ষক, সাড়ে ৪০০ জন কর্মকর্তা এবং প্রায় ৬শ কর্মচারী। এর বাইরেও এমফিল-পিএইচডি’র কয়েক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন।

১৭৫ একরের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ২টি প্রশাসনিক ভবন, চিকিৎসা কেন্দ্র, দেশের ৩য় বৃহত্তম মসজিদ, এছাড়াও রয়েছে ১টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমান মিলনায়তন, সমৃদ্ধ ও আধুনিক লাইব্রেরী, ভিসির বাংলো, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টার, ছেলেদের জন্য রয়েছে ৫টি (একটি নির্মানাধীন), মেয়েদের জন্য ৩টি আবাসিক হল। এছাড়া এখানে রয়েছে ক্যাম্পাস ভিত্তিক বৃহত্তম শহীদ মিনার, মুক্তবাংলা এবং স্মৃতিসৌধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ১২ জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথম উপাচার্য ড.এ.এন.এ. মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী এর্ব বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারি।

আগামীকাল ২২ নভেম্বর (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে পতাকা উত্তোলন, আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উল্লেখযোগ্য।

বিশ্ব¦বিদ্যালয়ের ৩৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারি বলেন, ‘বিভিন্ন চড়াই উৎরাই পার করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ৩৯ বছরে পদার্পন করতে যাচ্ছে। দীর্ঘ এই সময়টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি অর্জন করেছে অনেক গৌরব আর খ্যাতি। আমি মনে করি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অগ্রনী ভ’মিকা পালন করবে। এছাড়া এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি আর্ন্তজাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিনত করতে বর্তমান প্রশাসন বদ্ধপরিকর। আমি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »