নীলফামারীর যমুনেশ্বরী নদীতে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

Feature Image

নীলফামারী থেকে আব্দুর রাজ্জাকঃ  জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার যমুনেশ্বরী নদীর বাহাগিলীর ঘাট বেইলী ব্রীজের পূর্ব পাশে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। আর এভাবে প্রতিরাতে অবৈধভাবে স্কেবেটর মেশিন দিয়ে নদীর বালু উত্তেলন করে বালু বিক্রি করে একটি চক্র লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া বালুভর্তি এসব ১০ চাকার ট্রাক রাতভর বেইলী ব্রীজের উপর দিয়ে চলাচল করায় ব্রীজের দক্ষিণ পাশের একটি পাটাতন দেবে যাওয়ায় ব্রীজটি ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, ওই এলাকার যুগল ও মামুন শাহ অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন ও বিক্রি চক্রের মূল হোতা। তারা প্রতিনিয়ত রাতের অন্ধকারে নদী থেকে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে চালাচ্ছে তাদের লক্ষ লক্ষ টাকার অবৈধ বালু বাণিজ্য। ট্রাক প্রতি বালু দুরত্ব অনুযায়ী ৫/৭ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। স্বয়ংক্রিয় বালু আপলোটকারী হলুদ রঙের ০৯টি ট্রাকের রাতভর ৩/৪ বার করে চলে নদীর চর থেকে বালু নিয়ে আসা। দিনের আলোয় প্রভাত হওয়ার পূর্বেই এ ট্রাকগুলো অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়। রাত ৮টার পরেই আবার শুরু হয় ট্রাকগুলোর নদী থেকে বালু পরিবহনের কার্যক্রম। এভাবে রাতের অন্ধকারে চলছে ঐ চক্রের অবৈধ বালু বাণিজ্য।

 

এ চক্রটি এভাবে প্রতিরাতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বেশ কিছুদিন যাবত অবৈধ বালুর ব্যবসা করে এরা আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে। গতকাল রাতে বালু বহনকারী ১০ চাকার হলুদ রঙের ট্রাকগুলো অনুসরণ করে গিয়ে দেখা যায়, বেইলী ব্রীজের দক্ষিণ পাশ দিয়ে সিনা কোম্পানীর কোল ঘেষে যাওয়া রাস্তা দিয়ে ট্রাক গুলো নদীর চরে অবস্থান নেয়। চারদিকে অন্ধকার, কোথায় কোন মানুষ নেই। দেখা হয় নদী থেকে বালু উত্তোলন করে ট্রাকে দেয়া স্কেবেটর মেশিন ও ট্রাকের ড্রাইভারদের।

 

তারা ক্যামেরাসহ অপরিচিত লোক দেখে তারা থমকে যায়। এ সময় স্বয়ংক্রিয় আপলোটকারী ১০ চাকার ট্রাক চালক হামিদ, নিজাম ও নুরুজ্জামান জানান, এসব ট্রাকের মালিক ও তাদের বাড়ি টাংগাইলে, বালু ব্যবসায়ীদের সাথে টিপ অনুযায়ী কন্ট্যাক রয়েছে। রাতভর প্রতিটি ট্রাক ৩/৪টিপ করে দেয়। বেইলী ব্রীজটি ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় ব্রীজের ওপর দিয়ে পার না হয়ে এখন রংপুর সৈয়দপুরে এসব বালু সরবরাহ করছে। অবৈধ বালু ব্যবসায়ী যুগল ও মামুন শাহ্ নদী থেকে বালু উত্তেলান ও বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে সাংবাদিকদের জানায়, সরকারীভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ইজারা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম মেহেদী হাসান ট্রেনিংয়ে থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।

আরো খবর »