রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বৈঠক, থাকতে পারেন সু চিও

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: রোহিঙ্গা ইস্যুতে বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের দু’দিনব্যাপী বৈঠক। এতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার দপ্তরের মন্ত্রী কেয়াউও তিন্ত সোয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হবে।

মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক ১৩তম আসেম সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে এক ঘোষণায় মঙ্গলবার এ কথা জানানো হয়। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সহিংসতায় রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে এই বৈঠকেই দু’দেশের মধ্যে চুক্তি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রথম পর্যায়ের বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে আছেন ইয়াংগুনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম সুফিউর রহমান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। মধ্যাহ্নভোজের পর দ্বিতীয় দফা আলোচনায় অংশ নেবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অফিসের মন্ত্রী কেয়াউও তিন্ত সোয়ে।

সম্মেলন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেতা এবং রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি বৈঠকের কথা নিশ্চিত করে আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই দু’দেশের মধ্যে রোহিঙ্গা নিয়ে চুক্তি হবে। তবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমঝোতায় এসে সেই চুক্তি সই হতে কত সময় লাগতে পারে, এ ব্যাপারে কোনো আভাস দেননি তিনি।

আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও ধারণা করা হচ্ছে, মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদেও থাকা সু চি বুধ-বৃহস্পতির বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন।

এর আগে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিলিতভাবে কিছু পদক্ষেপ নিলেও মন্ত্রী পর্যায়ে এ নিয়ে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এটাই প্রথম।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ২৫ আগস্ট থেকে চালানো নির্মম হত্যাযজ্ঞে এ পর্যন্ত প্রাণভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে ৬ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। তাদের ওপর সেনাবাহিনী ও সরকার সমর্থক স্থানীয় বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর হামলার যথেষ্ট প্রমাণ থাকলেও বারবার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার। এমনকি বর্মী সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে চালানো এক অভ্যন্তরীণ তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করে দাবি করা হয়, তারা কোনো রোহিঙ্গাকে ধর্ষণ বা হত্যা করেনি, তাদের গ্রাম পোড়ায়নি বা রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে লুটপাট চালায়নি।

এবারের সংবাদ সম্মেলনে সু চি বললেন, ‘আমরা বলতে পারব না যে এটা (রোহিঙ্গা নির্যাতন) ঘটেছে কিনা। তবে সরকারের দায়িত্ব হিসেবে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন এমন কিছু না ঘটে।’রোহিঙ্গা-মিয়ানমার

আসেম সম্মেলনে সু চি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন একজন রোহিঙ্গা অ্যাক্টিভিস্ট।

সু চি’র ভাষণে গত আগস্ট থেকে মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মানবিক সংকটের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

সোমবার দেয়া ওই বক্তব্যে অং সান সু চি বলেন, অবৈধ অভিবাসনের জন্য সারা বিশ্বই নতুন নতুন হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে এবং সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়ছে।  তার এমন মন্তব্যের পরেই সবাই সমালোচনা করে যে, সু চি রোহিঙ্গা সমস্যা থেকে মনোযোগ সরাতেই এই ধরনের মন্তব্য করেছেন।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »