হঠাৎ মুগাবের পতনে শঙ্কিত আফ্রিকার স্বৈরশাসকরা

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: গত ৩৭ বছর ধরে জিম্বাবুয়েকে কঠোর হাতে শাসন করা রবার্ট মুগাবে অধ্যায়ের শেষ হয়েছে। একইসঙ্গে নতুন এক যুগে প্রবেশ করেছে দেশটি।

মঙ্গলবার রাতে মুগাবের পদত্যাগের পর মুহূর্তের মধ্যে পাল্টে গেছে দেশটির চিত্র। বিপুল উল্লাসে বাঁধ ভাঙা স্রোতের মতো রাস্তায় নেমে আসে দেশটির সাধারণ জনগণ। এক সময়ের বিপ্লবী বীর যেন পরিণত হয়েছেন ভিলেনে। সেনাবাহিনীর রোষ আর জনগণের ধিক্কারে ভেসে গেছেন তিনি।

মুগাবের এই পরিণতি আফ্রিকার অন্যান্য স্বৈরশাসকদের মেরুদণ্ডে হয়তো হিমশীতল শিহরণ ধরিয়ে দিয়েছে। একই পরিণতি বরণ করতে পারে আফ্রিকার এই স্বৈরশাসকরা। বুধবার গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

মুগাবের এই পরিণতিতে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিকর অবস্থায় আছেন আফ্রিকার দেশ উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োয়েরি মুসেভেনি। কারণ মুগাবের মতো তিনিও গেরিলা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। ১৯৮৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ক্ষমতার রশি ধরে ঝুলে আছেন তিনি। ক্ষমতায় এসেই প্রেসিডেন্টের সময়সীমার যে বিধান ছিল তা বাতিল করেন তিনি। তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্জীব করে রেখেছেন। কেড়ে নিয়েছেন সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা। ব্যাপক অনিয়ম ও ভয়ভীতির মধ্য দিয়ে গত বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি পঞ্চম বারের মতো ‘বিজয়’ অর্জন করেন। এ নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এসব অভিযোগ তার কর্ণকুহরে প্রবেশ করতে পারেনি।

উগান্ডা প্রায় ৪ কোটি মানুষের দেশ। সেখানে যাদের গড় বয়স ১৫ বছর, তাদের বেশির ভাগেরই জন্ম হয়নি মুসেভেনির ক্ষমতা গ্রহণের সময়। মুসেভেনির বয়স এখন ৭৩ বছর। রবার্ট মুগাবের চেয়ে তিনি ২০ বছরের ছোট। কিন্তু এখনকার যুগ হচ্ছে ফেসবুক যুগ। এ সময়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে তার স্বাধীনতা যুগের দৃষ্টিভঙ্গি আবেদন জাগাতে পারে না। সম্প্রতি তিনি ক্ষমতা গ্রহণের ৩১ বছর পূর্তি উদযাপন করেছেন। এ উপলক্ষে তিনি বক্তব্য রেখেছেন। তাতে আধুনিক গণতন্ত্রে যে জবাবদিহিতার বিষয় থাকে তার লেশমাত্র ছিল না।

জিম্বাবুয়েন অবজারভারের মতে, মুসেভেনি তার শ্রোতাদের বলেছেন, ‘আমি শুনতে পাচ্ছি, কিছু লোক বলছে, আমি তাদের চাকর। তবে আমি কারও চাকর নই। আমি মুক্তিযোদ্ধা। আমি আমার নিজের জন্য এবং আমার বিশ্বাসের জন্য লড়াই করছি।’

উগান্ডার ইন্ডিপেনডেন্ট ম্যাগাজিনে অ্যান্ড্র– ময়েন্ডা লিখেছেন, মুগাবে যেসব ভুল করেছেন তার কিছুটা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন মুসেভেনি। তিনি বলেন, ‘উগান্ডায় জানু-পিএফ দলের সমকক্ষ অতি পুরনো গার্ড বলে পরিচিত ন্যাশনাল রেজিসট্যান্স মুভমেন্ট ও উগান্ডা পিপলস ডিফেন্স ফোর্সকে বিলুপ্ত করেছেন মুসেভেনি।

সাব-সাহারান আফ্রিকার আরও কমপক্ষে তিনটি দেশের সরকার প্রধান এখন একই প্রশ্নের মুখে রয়েছেন। তারা হলেন রুয়ান্ডার পল কাগামে, বুরুন্ডির পিয়েরে নকুরুনজিজা ও ডিআর কঙ্গোর জোসেফ কাবিলা।

মুগাবের হঠাৎ পতন হয়তো তাদেরকেও কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ করেছিল। এর মধ্যে রুয়ান্ডায় কাগামে ১৯৯৪ সাল থেকে ক্ষমতা আঁকড়ে রয়েছেন। আগস্টে সেখানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়েছে। তাতে তিনি আরও সাত বছরের অনুমোদন পেয়েছেন। ওই ভোটে শতকরা ৯৮.৭৯ ভাগ ভোট পড়েছে বলে বলা হয়। তবে সংবিধান সংশোধন করে তিনি তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার ব্যবস্থা পাকা করেছেন। ওদিকে কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদ ২০১৬ সালে শেষ হয়ে যায় জোসেফ কাবিলার। তা সত্ত্বেও তিনিও মুগাবের মতো ক্ষমতা ধরে আছেন।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »