আ. লীগের ‘ভয়’ আ. লীগ এবং সাবেকে ভরসা বিএনপির

Feature Image

গত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুজন অংশগ্রহণ করেছেন। একজন দলীয় প্রার্থী।
অন্যজন দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করেন। অবশ্য কুমারখালী ও খোকসা উপজেলা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া-৪ আসনে এমন ঘটনা নতুন নয়। এর আগে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে নির্বাচন করার নজির রয়েছে। দলাদলির জের এখনো আছে। এ কোন্দলের ছায়া আগামী নির্বাচনেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ বর্তমান সংসদ সদস্য ছাড়াও এ আসনে ক্ষমতাসীন দলের বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে কাজ করছেন।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একক প্রার্থী না দিতে পারলে আওয়ামী লীগকে এ আসন বিএনপি জোটের প্রার্থীর কাছে হারাতে হতে পারে।
অন্যদিকে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ছাড়া আরো দুজন মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে জানা গেছে। কুমারখালী ও খোকসা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে জাতীয় সংসদের ৭৮ নম্বর এ নির্বাচনী এলাকার ভোটারসংখ্যা দুই লাখ ৯৬ হাজার ৫১২।

আওয়ামী লীগ : ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুর রউফ জয়লাভ করেন। তখন তাঁর বিপক্ষে দলের জেলা সভাপতি খোকসা উপজেলা চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছিলেন। এর আগে আবদুর রউফ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছিলেন সুলতানা তরুণের সঙ্গে। কিন্তু তিনি জিততে পারেননি।

কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সংসদ সদস্য রউফ আগামী নির্বাচনেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ করছেন। দলের প্রভাবশালী একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীও তৎপর আছেন। তাঁদের একজন সাবেক সংসদ সদস্য সুলতানা তরুণ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গণসংযোগ করছেন। এলাকার ভোটারদের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক নিবিড়।

কুমারখালী-খোকসার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দাবি, এলাকার অনেক নেতার সঙ্গে অনেক নেতার সম্পর্ক খুবই খারাপ। কিন্তু সুলতানা তরুণের সঙ্গে সবারই সম্পর্ক ভালো।
নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবদুর রউফের সঙ্গে দলের স্থানীয় কিছু নেতার দূরত্ব ও টানাপড়েন চলছে। গত নির্বাচন কেন্দ্র করেই দলের মধ্যে কোন্দল শুরু হয়। আবদুর রউফ নির্বাচিত হলেও দলের বড় অংশ তাঁর বিপক্ষে অবস্থান নেয়।

তাঁরা জানান, আবদুর রউফ ও সুলতানা তরুণ ছাড়া এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে আরো যাঁরা নির্বাচন করার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছেন তাঁরা হলেন—দলের জেলা শাখার সভাপতি ও খোকসা উপজেলা চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, দলের প্রবীণ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক জাহিদ হোসেন জাফর, কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কুমারখালী উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান খান, কুমারখালী পৌরসভার মেয়র সামছুজ্জামান অরুণ, দলের খোকসা পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বিটু ও জেলা শাখার প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক সুফী ফারুক ইবনে আবু বকর। সম্ভাব্য এসব প্রার্থীর সবাই এলাকায় বেশ জনপ্রিয়।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় সংসদ সদস্য আবদুর রউফ এলাকায় প্রিয় মুখ। তিনি আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার অন্যতম দাবিদার।

আবদুর রউফ বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত এলাকার উন্নয়নে এক হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ এনে নিরলসভাবে কাজ করছি। এলাকার মানুষজন এর সাক্ষী। আশা করি, মনোনয়ন আমিই পাব এবং এলাকাবাসী আমাকে নিরাশ করবে না। ’
সুলতানা তরুণ বলেন, ‘বিগত সময়ে আমি এমপি থাকাকালীন আমার নির্বাচনী এলাকায় যে উন্নয়ন করেছি, অতীতে কোনো এমপি তা করতে পারেননি। এলাকার মানুষ আগেও আমার সঙ্গে ছিল, এখনো আছে। তাদের সঙ্গে নিয়েই আমি জনসংযোগ করছি। ইনশাআল্লাহ মনোনয়ন আমি পাব। ’

জাহিদ হোসেন জাফর বলেন, ‘দল-মত-নির্বিশেষে এলাকার মানুষ আমাকে নির্বাচন করার জন্য চাপাচাপি করছে। সে কারণে আমিও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি এবং সেই লক্ষ্যে এলাকায় কাজ করছি। জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে যত দিন ছিলাম, তত দিন মানুষের জন্য কাজ করেছি। আমি আরো কাজ করতে চাই। ’
তরুণ রাজনীতিক, সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বিটু বলেন, ‘চট্টগ্রাম ওমর গনি এমইএস কলেজে পড়ার সময় ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। পরে ব্যবসায় মনোনিবেশ করে প্রতিষ্ঠিত হয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করি। এলাকায় সমাজসেবামূলক কাজ করছি। এলাকার মানুষের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে এবং তাদের ভালোবাসায় আমি নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। ’

জেলা আওয়ামী লীগের প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক সুফী ফারুক বলেন, ‘এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য নির্বাচনের বিকল্প নেই। তাই আমি এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটানোর জন্য নির্বাচন করতে চাই। সেই লক্ষ্যে আমি কাজও শুরু করেছি। তরুণদের নিয়েই আমি কাজ করছি। আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তরুণদের ভোট আওয়ামী লীগের বাইরে যাবে না। ’
বিএনপি : ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। তিনি কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি। সে সময় তিনি ৫৫ হাজার ৮৬৯ ভোট পেয়েছিলেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের আবুল হোসেন তরুণ। তিনি পেয়েছিলেন ৫৫ হাজার ৫০৪ ভোট। ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, এ আসনে বিএনপি জোটে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর বিকল্প নেই। দল ও মানুষের জন্য নিবেদিতপ্রাণ এই সাবেক সংসদ সদস্য সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। তিনি ইতিমধ্যে নির্বাচনকেন্দ্রিক গণসংযোগ শুরু করেছেন। দলের দুঃসময়েও তিনি হাল ধরে রেখেছেন।
তবে রুমী ছাড়া বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আর যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে তাঁরা হলেন—কুমারখালী পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম প্রামাণিক আনসার, খোকসা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন খান, অ্যাডভোকেট গোলাম মহম্মদ।

সাবেক সংসদ সদস্য রুমী বলেন, ‘আমরা সংগঠন শক্তিশালী এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছি। তবে আমরা সেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত, যেটা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নয়, সহায়ক সরকারের অধীনে হবে। সেভাবে নির্বাচন হলে কুষ্টিয়ার চার আসনেই আমরা জিতব। ’
অন্যান্য : জামায়াতে ইসলামী থেকে ফরহাদ হুসাইন এবং জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতা সুমন আশরাফ নির্বাচন করার লক্ষ্যে জনসংযোগ শুরু করেছেন।
সুমন আশরাফ বলেন, ‘রাজনীতি করি মানুষের জন্য। তাদের দুর্দশা লাঘবের জন্য নির্বাচন অবশ্যই করব।

আরো খবর »