কে এই বারী সিদ্দিকী?

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

বিনোদন প্রতিবেদক: আমার গায়ে যতো দুঃখ সয়… কিংবা শুয়াচান পাখি আমার, শুয়াচান পাখি, আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছ নাকি…। এমন অসংখ্য গানে গলা মেলানো প্রখ্যাত শিল্পী দুঃখের এই পার্থিব জগৎ ছেড়ে সত্যিই আজ ঘুমিয়ে গেলেন! তিনি বারী সিদ্দিকী (৬৩)। একাধারে খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী, গীতিকার ও বংশীবাদক। লোক ও মরমী ধারার সাধক।

বারীর জন্ম ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর। নেত্রকোনা সদরের রৌহা ইউনিয়নের কার্লি গ্রামে।

বাবা প্রয়াত মহরম আলী ও মা প্রয়াত জহুর-উন-নিসা। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে বারী সবার ছোট। বয়স যখন তিন বা চার সেই বয়সেই মা’র কাছে তার প্রথম শোনা গান ছিল ‘শ্বাশুড়িরেও কইয়ো গিয়া’। সেই গানের সুরই বারীর মনে গেঁথে যায়। যদিও পরিবারে সেভাবে সংগীত চর্চা ছিল না। সৌখিন হিসেবে বলা যায়। বারীর বয়স যখন পাঁচ তখন বড় ভাইয়ের বাঁশিতে ফু দিয়ে অন্যরকম আগ্রহের সৃষ্টি হয় বাঁশি শেখার প্রতি।

এছাড়া তার নানা শেখ সাবির সরদ বাজাতেন। তারা ছিলেন দুই ভাই। নানার একটা সংগীতের দলও ছিল। নব্বইয়ের দশকে ভারতের পুনে গিয়ে পণ্ডিত ভিজি কার্নাডের কাছে তালিম নেন। দেশে ফিরে এসে লোকগীতির সঙ্গে ক্লাসিক মিউজিকের সম্মিলনে গান গাওয়া শুরু করেন।

বারীর বাবা গানের সঙ্গে জড়িত না থাকলেও গান বাজনা পছন্দ করতেন। বারী তার বাঁশি ও গান শেখার উৎসাহ পেয়েছেন মায়ের কাছ থেকে। ছোটবেলায় বাঁশি বাজাতেন মূলত বড় ভাইদের নকল করে। সেসময় নেত্রকোনায় বাঁশি শেখার সুযোগ ছিল না। তবে সাত-আট বছর বয়সে মা জহুর-উন-নিসার কাছে গান শেখা শুরু করেন। মার কাছ থেকে জীবনে তিনি প্রথম যে গানটির সুর বাঁশিতে তুলে নিয়েছিলেন সেই সুরটিই তাকে আরও গান গাইতে বলেন। গান শুনে মুগ্ধ হন হুমায়ূন আহমেদ। ১৯৯৫ সালে বিটিভির ‘রং-এর বারৈ’ অনুষ্ঠানে প্রথম গান করেন বারী সিদ্দিকী। এর পরপরই হুমায়ূন আহমেদ তাকে ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রে গান গাইতে বলেন।

চলচ্চিত্রের গানে আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরপরই বাজারে তার দুটি একক অ্যালবাম আসে। একটি ‘দুঃখ রইলো মনে’ এবং অন্যটি ‘অপরাধী হইলেও আমি তোর’। সংবাদপত্রকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিদ্দিকী বলেন, হুমায়ূন স্যার আমার গাওয়ার পেছনে যথেষ্ট উৎসাহ দিয়েছিলেন। মূলত তার সাহস নিয়েই সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াস পেয়েছি।

দুটি অ্যালবাই লুফে নেয় শ্রোতারা। সেসময় উকিল মুন্সীর লেখা গান জনগণের কাছাকাছি নিয়ে আসতে পেরে বারী ছিলেন দারুণ উচ্ছ্বসিত। বারী সিদ্দিকী সবসময়ই নিজেকে একজন বংশীবাদক হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। বংশীবাদক হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিনি বাঁশি বাজিয়েই শ্রোতা দর্শককে মুগ্ধ করেছেন। ১৯৯৯ সালে ফ্রান্সে ওয়ার্ল্ড ফ্লুট সম্মেলনে এই উপমহাদেশ থেকে তিনিই প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এটি ছিল বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট অর্জন। একজন গায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার আগে বারী সিদ্দিকী বংশবাদক হিসেবে বাঁশি বাজিয়েছেন দু’দশক ধরে। কিন্তু গায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর দেশের বাইরে বংশীবাদক হিসেবে তার সফর কমে যায়। কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন।

বারী সিদ্দিকী ১৯৮৬ সালে বিয়ে করেন। স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন।

১৯৮০ সালে বারী সিদ্দিকী পেশাগতভাবে বাঁশি বাজানো শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে প্রথম বিটিভিতে ‘সৃজন’ অনুষ্ঠানে বাঁশি বাজান। বারী সিদ্দিকী ‘মাটির পিঞ্জিরা’ নামের একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ফেরারি অমিতের নির্দেশনায় ‘পাগলা ঘোড়া’ নাটকেও অভিনয় করেন। তবে অভিনয় করতেন নিতান্তই অনুরোধে এবং শখের বশে।

বিখ্যাত গান, শুয়াচান চান পাখি, ‘আমার গায়ে যতো দুঃখ সয়’, ‘সাড়ে তিন হাত কবর’, ‘পুবালি বাতাসে’, ‘তুমি থাকো কারাগারে’, ‘রজনী’, ‘ওলো ভাবিজান নাউ বাওয়া’, ‘মানুষ ধরো মানুষ ভজো’ ইত্যাদি।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »