একটি সড়ক দূর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে রাজুর জীবনের সব কিছু

Feature Image

 

স্ত্রী ও একমাত্র কন্যা সন্তান জান্নাতিকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে বেশ সুন্দর ভাবে চলছিল রাজুর ছোট্ট পরিবার। পেশায় দিন মজুর হলেও সংসারে অভাব ছিলনা এবং কখনো ধার- দেনা করে চলতে হয়নি তাকে। এক মাত্র শিশু কন্যাকে স্কুলে পাঠিয়ে পড়া লেখা শিখানোর স্বপ্নে যখন বিভোর রাজু, ঠিক তখন ভয়াল এক সড়ক দূর্ঘটনায় রাজুর জীবনে নেমে আসে অন্ধকার! চিকিৎসা করাতে ভিটে-মাটি বিক্রির পর এক অভাব নামক নির্মমতায় স্ত্রী সন্তানকে হারিয়ে সব স্বপ্ন যেন বিলিন হয়ে গেছে তার জীবন থেকে !

আজ শনিবার বিকেলে কথা হয় ৩ বছর আগে সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর ভাবে আহত হয়ে পুঙ্গত্ব অবস্থায় এখনো চিকিৎসা নেয়া রাজুর সাথে। কান্নারত অবস্থায় জানায়,জীবিকার তাগিদে অন্য দিনের ন্যায় সেই দিনও কর্মের সন্ধানে বের হয়ে ছিল সে। কিন্তু ভাগ্যর নির্মম পরিহাস ভয়াল সকড় দুর্ঘটনা মুহুর্তেই কেড়ে নেয় তার দু-মুঠো খেয়ে পড়ে বেছে থাকার সকল স্বপ্ন। সব হারিয়ে বেছে থাকার সকল আশার আলো যেন নিভে গেছে অসহায় এই রাজুর জীবন থেকে!

সে জানায়, সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর গ্রামবাসী ও এলাকার অনেকের সহযোগিতা এবং শেষ সম্বল ভিটে – মাটি বিক্রিয় করে চলে তার চিকিৎসার খরচ। তার পরও সুস্থ হয়ে না ওঠায় এবং সে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি কর্মহীন হয়ে পড়ায় পরিবারটির অনাহারে -অর্ধহারে খেয়ে না খেয়ে দিন অতিবাহিত হতে থাকে । এপর্যায়ে প্রিয় মানুষটি ( রাজুর স্ত্রী) ও ছেড়ে চলে গেছে। আমি আর হয়তো পুরো সুস্থ হয়ে উঠবো না এই ভেবে এই প্রিয় মানুষটি ঘর বেধেছে অন্য জনের সাথে। কিন্তু এমন হতভাগ্য-অসহায় পিতা আমি, ছোট্র মেয়েটির মুখে এক মুঠো খাবার তুলে দেয়ার সমস্থ আমার নেই। অবশেষে এই মেয়েটি এখন তার নানীর বাড়িতে আশ্রিতা।

রাজু জানায়, দূর্ঘটনার পর এই স্থানীয় মেম্বর- চেয়ারম্যানের কাছে একাধিকবার ধর্ণা দিয়ে সবাই তাকে আশ্বাস দিয়েছেন কিন্তু এই ৩ বছরে সরকারী কো সাহায্য সহযোগীতা এখনো পাইনি। মেম্বর-চেয়ারম্যান এবং উপজেলা চেয়ারম্যান একের পর এক শুধু ছবি জমা নেন কিন্তু কেউ কোন প্রকার সাহায্যের কার্ড আজও করে দেননি বলে অভিযোগ করেন। এখন সহায় সম্বল বলতে মাথার উপর ৬ টি পুরাতন টিন ছাড়া অবশিষ্ট আর কিছুই নেই । এটাও মাথার উপর থেকে সরে গেলে ঘুমানোর জন্য কবর হবে আমার ঠিকানা! কথা বলতে বলতে নিরব হয়ে যায়,,,আর কোন কথা বলতে পারে না রাজু। সে পুঙ্গত্ব জীবনে এখন সব কিছু হারিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে অতি কষ্টে এক মানবতার জীবন অতিবাহিত করে চলেছে।

রাজু (৩৪)। কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের জোতমোড়া গ্রামের দক্ষিন পাড়ার গকুল আলীর ছেলে। রাজু বিবাহিত জীবনে ৭ বছরের এক কন্যা সন্তানের জনক। এবিষয়ে কুষ্টিয়ার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সু- দৃষ্টি কামনা করা যাচ্ছে।

আরো খবর »