লালমনিরহাট পুলিশ বিভাগের ৩টি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

লালমনিরহাট থেকে জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না: জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধ দমনে লালমনিরহাট পুলিশ বিভাগ নতুন ৩টি পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। পদক্ষেপ গুলো হচ্ছে শহরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, অভিযোগ বাক্স স্থাপন ও রাতে মোটরসাইকেল আরোহীদের তথ্য সংগ্রহ অভিযান বেশ সাড়া জাগিয়েছে। এছাড়াও পুলিশ প্রশাসনের মাদক বিরোধী অভিযান সর্বস্তরের মানুষের মন জয় করেছে।

জানা গেছে, এসএম রশিদুল হক পুলিশ সুপার হিসেবে লালমিনরহাটে ২০১৬ সালের ১৯জুলাই যোগদান করেন। এরপর সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে তিনি বলেন, লালমনিরহাট জেলা সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে প্রধান এবং বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক। তাই তিনি খুব সাহসীকতার সাথে সাংবাদিকদের বলেন, এ জেলায় হয় মাদক ব্যবসায়ীরা থাকবে, না হয় আমি (পুলিশ)। শুধু মুখের কথায় নয়, সেই কাজটি পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক কাজেই প্রমান করলেন। অবাক হওয়ার বিষয়, বাংলাদেশের প্রথম সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট, বর্তমানে যেখানে মাদক শুন্য প্রায়। অপরদিকে বিগত দিনের তুলনায় বর্তমান জেলার সার্বিক আইনশৃংখলা পরিস্থিতি অনেক আশা ব্যঞ্জক। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধ দমনে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা পুলিশ বিভাগ তিন ৩টি নতুন পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন।

সম্প্রতি লালমনিরহাট শহরের ড্রাইভারপাড়া মাঠে এক মাদক বিরোধী সমাবেশ থেকে শহরের স্বর্নপট্রি ও গোশালা বাজার এলাকায় স্থাপিত সিসি ক্যামেরার উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক। এর আগে চলতি নভেম্বর মাসে জেলা শহরের প্রধান ফটক এবং জেলার প্রান কেন্দ্র মিশন মোড় এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। যা উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো জেলা শহর সিসি ক্যামেরার আওতায় চলে আসবে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের অপরাধের তথ্য সংগ্রহে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও রাত ১০টার পর থেকে গভীর রাতে মোটরসাইকেল আরোহীদের নাম, কোন কোম্পানীর গাড়ী, রেজিঃ নং, ঠিকানা, মোবাইল নাম্বর সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে জেলা পুলিশ বিভাগ। এতে করে জেলার আইনশৃংখলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে জানিয়েছেন জেলার সুশীল সমাজ। পুলিশ প্রশাসনের  এহেন কাজের জন্য অপরাধীরা অপরাধ করতে গেলে একবার হলেও ভাবতে বাধ্য হবে। জেলা পুলিশ প্রসাশনের এধরনের ব্যাতিক্রম পদক্ষেপ গুলো বেশ সাড়া জাগিয়েছে সেই সাথে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মন জয় করেছেন।

লালমনিরহাট সদর থানার উপ-পরির্দশক এস আই আব্দুস কুদ্দুস, আলমগীর হোসেন, মোঃ মানিক বিবার্তাকে বলেন, যেসব মোটরসাইকেল রাতে চলাচল করে তাদের তথ্য আমরা সংগ্রহ করি। এতে করে অপরাধীদের মনে ভয় সৃষ্টি হবে। এছাড়া আশপাশে রাস্তা সংলগ্ন এলাকায় রাতে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজ সংগঠিত হলে অপরাধীদের ধরতে ওইসব তথ্য কাজে লাগবে। আর অপরাধীদেরও লাগাম টেনে ধরা যাবে।

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট সদর থানা অফিসার ইনচাজ (ওসি তদন্ত) উদয় চন্দ্র মন্ডল বিবর্তিাকে বলেন, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের অলি-গলিতে বিভিন্ন অপরাধের তথ্য সাধারন মানুষ পুলিশকে সরাসরি দিতে পারতো না। তাই অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়েছে। এখন তা জনসাধারন পুলিশকে সরাসরি অভিযোগ দিতে পারছে এবং অভিযোগ বক্সের মাধ্যমে অপরাধ মুলক তথ্য গুলো পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগের প্রেক্সিতেই পুলিশ সেভাবে কাজ করছে।

ওসি তদন্ত আরও বলেন, রাতে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংগঠিত হয়। যে মোটরসাইকেলে ২/৩জন আরোহী চলাচল করে তাদের গতিবিধি ও লক্ষ্য উদ্দেশ্য পর্যবেক্ষন করছি। যদি পরেরদিন কোন অপরাধ সংগঠিত হয় তাহলে ওই সব মোটরসাইকেল আরোহীরা অপরাধের সাথে জড়িত আছে কি না, এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া এবং অপরাধীদের ধরতে সহজ হবে।

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক বিবার্তাকে জানান, এ জেলায় যোগদানের পর গত ১৪ মাসে ১১৫৭টি মাদক মামলা আর ১২৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় ৩ হাজার কেজি গাঁজা, ২৩ হাজার বোতল ফেন্সিডিল, ১২ হাজার পিস ইয়াবা ও ১৫৭৬৪ পুড়িয়া হিরোইন উদ্ধারসহ এক হাজার ২৮০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যা পূর্বের থেকে কয়েক গুন বেশী। এজন্যই শহরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, অভিযোগ বাক্স স্থাপন ও রাতে মোটরসাইকেল আরোহীদের তথ্য সংগ্রহ অভিযান চালানো হচ্ছে। যাতে করে জেলায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হয়।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »