পঁয়ষট্টিতে প্রাথমিক সমাপনী শেষ

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ময়মনসিংহ: একেকটি কক্ষ খুদে পরীক্ষার্থীতে ঠাসা। মনোযোগ দিয়ে লিখছে সবাই। তবে একটিতে খুদে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এমন একজন বসেছেন, সহজেই চোখ আটকে যায়। নিবিষ্ট মনে খাতায় উত্তর লিখছেন পাকা চুলের এক নারী; চোখে ভারী চশমা।

ওই নারীর নাম মোছা. সুন্দরি বেগম (৬৫)। পঁয়ষট্টি বছর বয়সে এসে তিনি এবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা দিচ্ছেন। কেন্দ্র ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার চাউলাদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

পরীক্ষা শেষে কথা হয় সুন্দরি বেগমের সঙ্গে। তিনি শোনালেন জীবনের গল্প, পড়াশোনা নিয়ে তাঁর অদম্য ইচ্ছা ও ভবিষ্যতের স্বপ্নের কথা।

বাবা মাছ ধরে সংসার চালাতেন। বাড়ির কাছেই ছিল স্কুল। কিন্তু পরিবারের অভাবের কারণে কোনো দিন স্কুলে যাওয়া হয়নি সুন্দরির। এ অবস্থায় খুব ছোটবেলায় কিছু বোঝার আগেই সুন্দরিকে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়।

লেখাপড়া করতে পারেননি, এ আফসোস নিজের হৃদয়ে বয়ে নিয়ে বেড়াতেন সুন্দরি বেগম। তবে আনুমানিক পাঁচ বছর আগের কথা। সুন্দরির ছেলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী। প্রতি মাসে ছেলের পাঠানো টাকা পেতে সুন্দরি নিজের নামে ব্যাংকে একটি হিসাব খোলেন। তখন খুব কষ্ট করে নিজের নাম লেখা শিখেন। একদিন ব্যাংকের কাগজে সই করার সময় নিজের নামের বানানটা ভুল করে বসেন। ব্যাংকের কর্মকর্তা খেপে গিয়ে কাগজটা ছিঁড়ে ফেলেন। ওই দিনই সুন্দরি সিদ্ধান্ত নেন, বয়স যা-ই হোক না কেন, পড়াশোনা তাঁকে শিখতেই হবে।

সুন্দরি বেগম বলেন, কিছুদিন পরই বাড়ির পাশের সাউদকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বয়স তখন ৬০। তিনি প্রায় নিয়মিত ক্লাস করেছেন। খুদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিনি খুব সহজেই মানিয়ে নেন। সহপাঠীরা কেউ নানি, কেউ দাদি বলে ডাকে। তবে মন খারাপ হয়নি একটুও।

সুন্দরি বেগম গতকাল রোববার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর শেষ পরীক্ষাটা দিয়েছেন। তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কিন্তু পড়াশোনা করে চাকরি করবেন, তেমনটি নয়। পড়তে ভালো লাগে বলেই পড়েন তিনি। এই পর্যন্ত পড়াশোনা শিখতে পেরে মনে শান্তি এসেছে। এখন হাইস্কুলে ভর্তি হতে চান। পরিবারসহ সবার সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে যেতে চান আরও দূরে।

সাউদকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুস ছালাম বলেন, ক্লাসে খুব মনোযোগী ছিলেন সুন্দরি বেগম। তিনি ভালো ফল নিয়ে আশাবাদী।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »