মাটির টানে, দেশের টানে গবেষণা ও কাজ করে যাচ্ছেন বিজ্ঞানী ড.ইসমেত আরা

Feature Image

বিশেষ প্রতিবেদন : মাটির টানে , শেঁকড়ের টানে, দেশের প্রতি প্রচন্ড মমতা অনুভব করে নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন ডঃ ইসমেত আরা মুন। কানাডা প্রবাসী ইসমেত আরা অধ্যাপনা করেন টরোন্টোতে।তিনি মাইক্রোবায়োলজি পড়ান। নিয়মিত গবেষণা করে যাচ্ছেন। মাটিতে লুকিয়ে আছে হাজারো ব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়ার কারণে কি করে ভালো থাকবে মাটি। কি করে মাটিকে ভাল রেখে খাদ্যের উৎপাদন বাড়ানো যায়, ক্ষুধা দূর করা যায়, পরিবেশ ঠিক রাখা যায় , এই নিয়েই মূলতঃ ইসমেত আরার কাজ । এই নিয়েই তাঁর গবেষণা ।

ডঃ ইসমেত আরার মাথায় ঘুরপাক খায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের জন্যে তিনি কাজ করে যেতে চান। আগামী প্রজন্মের জন্যে পরিবেশগত ভাবে বিশুদ্ধ বাংলাদেশ তৈরি করার জন্যে তাঁর সকল স্বপ্ন, মেধা, প্রজ্ঞা, সাহস, শক্তি এক করে মাঠ পর্যায়ে এর বাস্তবায়ন করতে চান। অধ্যাপনা ও গবেষণার পাশাপাশি একটি স্বেচ্ছা শ্রমভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা চালাচ্ছেন সুদূর কানাডা থেকে। মাঝে মাঝে দেশে এসেই সেমিনার, সিম্পোজিয়াম , টিভিতে টকশো করে তাঁর কাজ গুলো দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডঃ ইসমেত আরার সরব পদচারণা। বিশেষ করে ফেসবুকে। উদ্দেশ্য একটাই। তাঁর শিক্ষা, গবেষণা অতঃপর স্বপ্নের পৃথিবী , স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা।মানুষ কে সচেতন করা। রসকসহীন তাঁর বিষয়ভিত্তিক গবেষণাকে সহজ বোধগম্য করে উপস্থাপন করা।


কুইকনিউজবিডি.কমের সম্পাদকের সঙ্গে খুব স্বল্প সময়ের জানাশোনা ড.ইসমেত আরার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কথা হয় দুজনের। দেশের জন্যে কাজ করে যেতে চান তিনি। সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন তাঁর। বিশেষ করে মিডিয়া সাপোর্ট চান জনগণকে সচেতন করার জন্যে। কুইকনিউজবিডি.কম নিঃস্বার্থ ভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ডঃ ইসমেত আরাকে । তাঁর সকল গবেষণা, কর্মসূচি, তাঁর সংস্থা “এক্টিনো রিসার্চ ইনকর্পোরেট” এর মিডিয়া পার্টনার হয়ে কাজ করে যাবে। তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে পাশে থাকবে।

ডঃ ইসমেত আরা মূলত ৩ টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে গবেষণা ও বাস্তবায়ন করার জন্যে কাজ করছেন।হেলদি সয়েল ,হেলদি ফুড, ও হেলদি এনভিওরমেন্ট। মাটিকে ভাল রাখতে পারলে ভালো খাদ্য পাওয়া যাবে আর পরিবেশ ভালো রাখলে বিশুদ্ধ দেশ ও পৃথিবী পাওয়া যাবে। এই মুহূর্তে বিশ্বায়নের তাপমাত্রা বৃদ্ধি , মাটি, পানি ও পরিবেশের উপর নানান অত্যাচারে পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতি মোকাবেলায় ডঃ ইসমেত আরার চিন্তা, চেতনা,ভাবনা,গবেষণা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

ডঃ ইসমেত আরার বিশেষজ্ঞতা ও বৈশিষ্ট্যময়তা পরিবেশগত মাইক্রোবায়োলজি, মাইক্রোবিয়াল বৈচিত্র্য, বিচ্ছিন্নতা, ছত্রাক এবং ব্যাকটেরিয়া, সিকোএন্সিং, বায়োকেমিক্যাল বিশ্লেষণ, বায়োকেমিক্যাল এবং শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য, ব্যাকটেরিয়া-জাতিজনি, গাঁজন এবং জৈববস্তুপুঞ্জ প্রক্রিয়ার সনাক্তকরণ, মাইক্রোবিয়াল মাধ্যমিক মেটাবোলাইটস উৎপাদন, ব্যাকটেরিয়ারোধী এবং অ্যান্টিক্যানসার (কিলোবাইট টিউমার সেল লাইন) উদ্ভিদ প্যাথোজেন, নতুন জীবাণুর এজেন্ট এবং উদ্ভিদ রোগ, , ছত্রাক থেকে আফলাটক্সিন উৎপাদন ইত্যাদি।

তিনি বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্ব কয়েকটি সংস্থার সদস্য হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।এরমধ্যে পেশাগত সদস্য হিসাবে মাইক্রোবায়োলজি (এএসএম) আমেরিকান সোসাইটি, সদস্য, সংস্কৃতি সংগ্রহ ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন (WFCC), সদস্য, মালয়েশিয়ার মাইক্রোবায়োলজি সোসাইটির (এমএমএস),Actinomycetes সোসাইটি, জাপান (SAJ), সদস্য, সংস্কৃতি সংগ্রহগুলি জন্য জাপান সোসাইটি (JSCC) সদস্য. মাইক্রোবিয়াল সিস্টেমেটিক্স জন্য জাপান সোসাইটি (JSMS) সদস্য. বাংলাদেশ মাইক্রোবায়োলজি সোসাইটির (BMS) সদস্য. বাংলাদেশ পুষ্টিগত সোসাইটি (বিএনএস) সদস্য, বাংলাদেশ বোটানিক্যাল সোসাইটি (বিবিএস), সদস্য ,বাংলাদেশ বিজ্ঞানী এসোসিয়েশন (BSA) সদস্য।

টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর পাড়ার মেয়ে ড.ইসমেত আরা বিবাহিতা। স্বামীও কানাডা প্রবাসী। ইসমেত আরা কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। এনবিআরসি ,এনআইটিই জাপানে গবেষণা বৈজ্ঞানিক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। রিকেন এর মাইক্রোবায়োলোজিস্ট হিসাবে তাঁর প্রথম পেশাদারিত্ব জীবন শুরু।

“এক্টিনো রিসার্চ ইনকর্পোরেট” কানাডা ও বাংলাদেশের গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট হিসাবে তিনি বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের জন্যে কাজ শুরু করেছেন। কুইকনিউজবিডি।কম তার সকল কর্মকান্ডে পাশে থেকে পর্যায়ক্রমে, ধারাবাহিক ভাবে তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

আরো খবর »