নৌকা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতীক

Feature Image

মানিকগঞ্জ থেকে জালাল উদ্দিন ভিকুঃ  মানিকগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আলহাজ্ব এস এম জাহিদ বলেছেন- নৌকা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ও স্বাধীনতার প্রতীক, নৌকা হচ্ছে স¦াধীনতা ও সার্বভোম রক্ষার প্রতীক , আর কোন দুর্নীতি বাজদের আর নৌকায় উঠতে দেওয়া হবে না ।

 

তিনি বলেন- আমি দেশ ও জনগনের উন্নয়নে জন্য কাজ করতে চাই, মানুষের কল্যানে জন্য রাজনীতি করি । তিনি বলেন- আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের কথা বলতে এসেছি এমপির সমস্যা কোথায় । আমি যেখানে আসি অনুষ্ঠানের বিদ্যুত বন্ধ করে দেওয়া হয় । আবার আজকে ( সোমবার ) নারচী হেলাল পাগলের ওরশে আমার আসার কথা শুনে পুলিশ দিয়ে বিদ্যুত বন্ধ, ওরশ ও গান বন্ধ করে মাইক খুলে নিয়ে গেছে । আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মাঠের নেতা আমি কিন্তু ভয় পাইনা সাহস থাকলে এখন আসেন ।

 

এমপিকে উদ্দ্যেশ করে বলেন- প্রতিহিংসার রাজনীর্তি বন্ধ করেন, যদি এই প্রতিহিংসার রাজর্নীর্তি বন্ধ না করেন আগামীতে এর ফল ভোগ করতে হবে । প্রতিহিংসা আর দুনীতি করার জন্য রাজনীতি হতে পারেনা । তিনি বলেন-আপনাদের দোয়া এবং আর্শীবাদ যদি আমার সাথে থাকে আমাকে কেউ আটকাতে পারবে না। আমি কোন কিছুকেই বয় করি না। আমার নেত্রী ১৯ বার মৃত্যুর পথ থেকে ফেরত এসেছে বঙ্গবন্ধুর পাশে কবর খুড়েছে তবুও তিনি ভয় পায় নাই। আমার নেত্রীও বয় পায় না। আমার সাথে রাজনীতি করতে করতে অনেক বন্ধু পুলিশের গুলিতে মারা গেছে,আমিও ভয় করি না। সৃষ্টি কর্তা সৃষ্টি করেছে মৃত্যু যে কোন সময় হইতে পারে ।

 

ভয় ভীতি বলে আমার কাছে কিছু নাই। এই অজো পাড়া গায়ে আমি এসেছি, সাহস না থাকলে আমি আসতাম না। আমার সাহস কিন্তু দূর্সাহস না, আমার সাহস হচ্ছে সৎ সাহস। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে কৃষক ,জনতা,বুদ্ধিজীবি,মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করার জন্য পাকিস্থানীদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল । ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত ও ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বীরমুক্তিযোদ্ধারা এদেশ স্বাধীন করেছে ।

 

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশ ও জাতির স্বার্থে তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে দলের হাল ধরে সারা দেশে ব্যাপক উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছে । । তিনি বলেন-যেখানে সারাদেশে উন্নয়ন হয়েছে তাহলে মানিকগঞ্জ-১ আসনের দৌরতপুর-ঘিওর-শিবালয় এলাকায় রাস্তা ঘাটের এই বেহাল দশা কেন । তিনি বলেন- এই এলাকাও সরকার উন্নয়ন কাজের জন্য টিআর,কাবিটা ও কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সেই টাকা স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি ও তার আত্মীয় স্বজন লুটপাট করে খাচ্ছে । ঐ জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন স্কুল-কলেজে শিক্ষক ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পিয়ন নিয়োগ দিয়ে নিরহ মানুষের কাছ থেকে কোটি কেটি বানিজ্য করেছে ।

 

্ঐ জনপ্রতিনিধির আমল নামা প্রধান মন্ত্রীর হাতে পৌছে গেছে সামনে সময় ঘোনিয়ে আসছে আর মাত্র অল্প কিছুদিন কোন দূর্নীতি পশ্চিম মানিকগঞ্জে চলবে না। হিসাব দিতে হবে, হিসাবের সেই হালখাতা রেডি করে রাখুন। ২০১৮ সালের জানুয়ারী থেকেই হিসাব নেওয়া শুরু করব ইনশাল্লাহ। তিনি বলেন-জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে বিশ্বাস করি, তার নীতি আদর্শকে বুকে ধারন করে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে যাচ্ছি ।আগামীতে আমাকে সুযোগ দিলে পশ্চিম মানিকগঞ্জ বাসি ও আমার জন্ম ভুমি এই যমুনা নদী ভাঙ্গন কবলিত খেটে খাওয়া মানুষের জন্য উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাবো । তিনি বলেন- সরকারের উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে আবার ঐক্যবদ্ধ ভাবে জননেত্রী শেখ হাসিনা নেত্রীত্বে সবাইকে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহবান জানান ।

১৯৭৫ সার থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিরোধী দলের রাজনীতি করেছি। জেল খেটেছি মার খেয়েছি, দেশ থেকে দেশান্তর হয়ে পার্শ্ববতী দেশে গিয়ে জীবন যাপন করেছি। তারপরেই জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন রাজনৈতিক কর্মী হতে পেরেছি, নেতা হতে পারি নাই। আমার নেত্রী হয়তো মনে করেছিল ঐ জনপ্রতিনিধি ভালো কাজ করবে। কিন্তু তার কাছ থেকে কি পেয়েছেন তার আমলনামা নেত্রীর কাছে আছে।
আমি চাই অবহেলিত পশ্চিম মানিকগঞ্জের মানুষের জন্য কাজ করতে। শুধু পশ্চিম মানিকগঞ্জের মানুষের জন্য নয়। আমি ছোট বেলা থেকেই একটি জিনিস শিখেছি যে, যেখানে দূর্যোগ, যেখানের মানুষ অসহায় আমি তাদের মাঝেই ঝাপিয়ে পড়ি। রোহিঙ্গাদের মাঝেও আমি সবার আগে ঝাপিয়ে পড়েছি। আমার আগে সেখানে কোন রাজনৈতিক নেতাকর্মী সেখানে যায়নি। আমি সেখানে ৩০হাজার লোককে সাহায্য করেছি। কাপড়, খাদ্য, তাদের ঘর তৈরীর জন্য পলিথিন কিনে দিয়েছি এবং তাদের চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থাও করেছি।
সোমবার রাতে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার নারচী হেলাল পাগলের বাৎসরিক ওরশে প্রধান অতিথি বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আলহাজ্ব সালাউদ্দিন মাহমূদ জাহিদ (এস.এম. জাহিদ) এ কথাগুলো বলেছেন ।

এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন-জেলা আওয়ামীলীগের নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা এ্যাড: আবুল কাশেম,ঘিওর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক কাজী সরোয়ার হোসেন, ঢাকা উত্তরের যুবলীগ নেতা মাহবুব হোসেনজেলা আওয়ামীলীগের সহ-প্রচার সম্পাদক ভিপি ফরহাদ, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা জিয়াউল হক জিয়া, সদর চকমিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস.এম শফিকুল ইসলাম শফিক, ঘিওর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম টুটুল, কলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: জাকির হোসেন, শিবালয় উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম,দৌলতপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদুল হাসান সুমন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মো: জুয়েল রানা প্রমূখ । বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আলহাজ্ব সালাউদ্দিন মাহমূদ জাহিদ (এস.এম. জাহিদ) তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা ওরশ কমিটির হাতে প্রদান করেছেন ।

আরো খবর »