জয়পুরহাটে চাঞ্চল্যকর ৪ হত্যা মামলায় এক ঘাতকের মৃত্যুদণ্ড

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি,স্বাধীনবাংলা২৪.কম

জয়পুরহাট থেকে মিজানুর রহমান মিন্টু: আতকে ওঠার মত কোন সিনেমা বা নাটকের  গল্প নয়, রীতিমত লোম হর্ষক বাস্তব হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে ২০১৫ সালের ২০ জুন মধ্যরাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর তালপাড়া আদীবাসী পল্লীতে।  লোভী ঘর জামাই সুমন হেমরম  ওই দিন মধ্যরাতে শ্বশুরের কাছ থেকে আরো যৌতুকসহ সুযোগ-সুবিধা দাবী করার এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে একে হত্যা করে শিশু পুত্রসহ  ৪ জনকে।

এই জঘন্যতম হত্যাকান্ডের রায়ে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি ফাঁসির রায় দিয়েছে জয়পুরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত। দীর্ঘ শুনানী শেষে এক জনাকীর্ন আদালতে মৃত্যুদন্ডাদেশ ঘোষনা করেন ওই আদালতের বিচারক মমতাজ বেগম।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরনে জানা যায়, দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার রতনপুর গ্রামের নবীন হেমরমের ছেলে সুমন হেমরমের সাথে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর-তালপাড়া গ্রামের মানুয়েল মারান্ডির মেয়ে সিলভিয়া মারান্ডির বিয়ে হয় বেশ কয়েক বছর আগে। বিয়ের সময় মোটা অঙ্কের যৌতুক নেওয়ার পরও সুমন ঘর জামাই হিসেবে শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করতে থাকেন। এরপর লোভী সুমন বায়না ধরেন আরো যৌতুকসহ নানা সুযোগ-সুবিধার।

এ নিয়ে গত ২০১৫ সালের ২০ জুন মধ্যরাতে কথাকাটির এক পর্যায়ে ধারালো ছুড়ি নিয়ে স্ত্রী সিলভিয়াকে কোপাতে থাকেন সুমন।  সিলভিয়ার আর্ত চিৎকারে শ্বশর বাড়িতে অবস্থানরত সুমনের বৃদ্ধ মামা শ্বশুর লকাস হেমরম, শ্বাশুরী সন্ধ্যা রানী হাস্তা ও শ্যালীকা তেরেজা মারান্ডি এগিয়ে এলে একে  একে ৩ জনকেই কুপিয়ে হত্যা করেন ঘাতক  সুমন। এ ঘটনা দেখে ৫ বছরের শিশু পুত্র সানী  হেমরম  ভয়ে কাঁপতে থাকে, সে স্বাক্ষী হয়ে বিপদ ডেকে আনতে পারে সে আশঙ্কা থেকে নিরীহ শিশুটিকেও জবাই করে হত্যা করেন পাষন্ড সুমন।

সুমনের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাারত্মক আহত স্ত্রী সিলভিয়া এখনো পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে আছেন। তিনি গগন বিদারী আহাজারী করে আদালত প্রাঙ্গনে এসে এই মর্মস্পর্শি হত্যাকান্ডের বিবরন তুলে ধরেন সাংবাদিকদের কাছে।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সিলভিয়ার বাবা মানুয়েল মারান্ডি বাদী হয়ে পাঁচবিবি থানায় মামলা করার ৩ মাসের মধ্যে পুলিশ আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানী শেষে জয়পুরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মমতাজ বেগম জনার্কীন আদালতে এ রায় ঘোষনা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবি এপিপি এ্যাড. গোকুল চন্দ্র মন্ডল ও আসামী পক্ষের আইনজীবি এ্যাড. নূরল ইসলাম। রাষ্ট্র পক্সের অইনজীবি এ রায়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানালেও আসামী পক্ষের আইনজীবি সন্তুষ্ট না হয়ে বলন, তারা উচ্চ আদালতে এ ব্যাপারে আপীল করবেন।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »