সামরিক শক্তিতে চীন বনাম ভারত

Feature Image

আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ভারত-চীন সীমান্ত। এই দুই দেশের মাঝে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।

এ আগেও সীমান্তবিরোধ নিয়ে যুদ্ধ করেছে ভারত ও চীন। ১৯৬২ সালের সেই যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল ভারত। তারপর লম্বা একটা সময় চলে গেলেও সীমান্ত নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিরোধ এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
এবারের বিরোধের সূচনা হয়েছে চীন, ভুটান আর ভারতের সিকিম প্রদেশের সংযোগস্থলে একটি উপত্যকার ভেতর দিয়ে রাস্তা তৈরি করাকে কেন্দ্র করে। যে জায়গাটিতে চীন রাস্তা তৈরি করতে চাইছে, সেটি ভুটান ও চীনের মধ্যকার একটি বিরোধপূর্ণ এলাকা। চীন ও ভুটান উভয় দেশেরই দাবি, উপত্যকাটি তাদের। আর এ ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান ভুটানের পক্ষে। কারণ যে জায়গায় চীন সড়ক নির্মাণ করতে চাইছে, তার পাশেই ভারতের ২০ কিলোমিটার চওড়া একটি করিডর আছে। আর এ নিয়েই মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে চীন ও ভারত।

বর্তমানে চীন ও ভারতের সামরিক বাহিনী জনবল ও অত্যাধুনিক অস্ত্রসম্ভারে সমৃদ্ধ। দুই দেশেরই রয়েছে পরমাণু অস্ত্র। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার (জিএফপি) সিআইএ, দুই দেশের পাবলিক ডোমেইনগুলো, সংবাদমাধ্যম ও উইকিপিডিয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে দুই দেশের যে সমরশক্তির তুলনামূলক চিত্র পাওয়া যায়, তাতে দেখা যায় সমরাস্ত্র ও সামরিক বাহিনীর শক্তিতে ব্যবধান খুব একটা বেশি নয়।

সামরিক বাহিনী
জিএফপি ইনডেক্স অনুযায়ী প্রথম স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও দ্বিতীয় স্থানে রাশিয়া। তিন ও চারে রয়েছে যথাক্রমে চীন ও ভারত। সেনাবাহিনীর আকারে ভারতের চেয়ে চীন অনেকটা এগিয়ে। চীনের সেনাসদস্যের সংখ্যা ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ও ভারতের সেনাসংখ্যা ১৩ লাখ ২৫ হাজার। চীনের আধা-সামরিক বাহিনী বা রিজার্ভ ফোর্সের সংখ্যা ২৩ লাখ ও ভারতের ২১ লাখ ৪৩ হাজার। কিন্তু চীনের ভৌগোলিক সীমা ভারতের চেয়ে অনেক বড়, তাই স্বাভাবিকভাবেই বড় বাহিনী প্রয়োজন তাদের।

ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান
চীনের চেয়ে ভারতের ট্যাংকের সংখ্যা কিছু কম। কিন্তু সাঁজোয়া যানের (আর্মর্ড ফাইটিং ভেহিকল) সংখ্যায় ভারত অনেকটা এগিয়ে। চীনের ট্যাংকের সংখ্যা ৬ হাজার ৪৫৭টি ও ভারতের ৪ হাজার ৪২৬টি। অন্যদিকে চীনের সাঁজোয়া যানের সংখ্যা ৪ হাজার ৭৮৮টি ও ভারতের রয়েছে ৬ হাজার ৭০৪টি।

গোলাবর্ষণের সক্ষমতা
স্থলযুদ্ধের জন্য গোলাবর্ষণের সক্ষমতা অত্যন্ত জরুরি শক্তি। দুই দেশের হাতেই বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম রয়েছে। চীনের হাতে সেল্ফ প্রপেলড আর্টিলারি রয়েছে ১ হাজার ৭১০টি ও ভারতের রয়েছে ২৯০টি। টোড আর্টিলারি চীনের কাছে ৬ হাজার ২৪৬টি ও ভারতের কাছে ৭ হাজার ৪১৪টি। চীনে মাল্টিপল রকেট লঞ্চার রয়েছে ১ হাজার ৭৭০টি ও ভারতের রয়েছে ২৯২টি।

বিমানবহর
চীনের যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ১ হাজার ২৭১টি ও ভারতের ৬৭৬টি। চীনের হাতে অ্যাটাক বিমানের সংখ্যা ১ হাজার ৩৮৫টি ও ভারতের রয়েছে ৮০৯টি। চীনের পরিবহন বিমান রয়েছে ৭৮২টি ও ভারতের রয়েছে ৮৫৭টি। এ ছাড়া চীনের প্রশিক্ষণ বিমান রয়েছে ৩৫২টি ও ভারতের হাতে রয়েছে ৩২৩টি।

অ্যাটাক হেলিকপ্টার
ভারতের কাছে অ্যাটাক হেলিকপ্টারের সংখ্যা ৫৯টি ও চীনের কাছে রয়েছে ২০৬টি। ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা, তাদের হাতে সুখোই-৩০ এমেকেআইয়ের মতো প্রবল শক্তিশালী যুদ্ধবিমান পর্যাপ্ত সংখ্যায় থাকায় অ্যাটাক হেলিকপ্টারের প্রয়োজনীয়তা খুব বেশি নেই।

যুদ্ধজাহাজ
চীনের নৌবহরে রয়েছে একটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ, ৫১টি ফ্রিগেট জাহাজ, ৩৫টি ড্রেস্ট্রয়ার, ৩৫টি কারভিটি জাহাজ, ২২০টি প্যাট্রল ক্র্যাফট, ২ হাজার ৩০টি মাইন ওয়ারফেয়ার ক্র্যাফট ও ৬৮টি সাবমেরিন। অন্যদিকে ভারতের রয়েছে তিনটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ, ১১টি ড্রেস্টয়ার যুদ্ধজাহাজ, ১৪টি ফ্রিগেট, ২৩টি করভিট যুদ্ধজাহাজ, ১৩৯টি প্যাট্রল ক্র্যাফট, ৩৪০টি মাইন ওয়ারফেয়ার ক্র্যাফট ও ১৫টি সাবমেরিন।

পরমাণু অস্ত্র
ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ভারতের চেয়ে চীনের হাতে অনেক বেশি রয়েছে। চীনের কাছে পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা ২৬০টি ও ভারতের কাছে রয়েছে ১১০টি।

আরো খবর »