রোহিঙ্গা সংকটে বিশ্ববাসীর সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে আহ্বান

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনদিনের সফরে ঢাকায় আসা সারাবিশ্বের ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এক বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বঙ্গভবনের দরবার হলে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে বক্তব্য দেন পোপ ফ্রান্সিস। স্পেনিশ ভাষায় বক্তব্য দিলেও এর ইংরেজি অনুলিপিও অনুষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়েছে।

বক্তব্যে মিয়ানমারে দেওয়া ভাষণের মতো যথারীতি ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি এড়িয়ে গেছেন পোপ। তবে মিয়ানমারের রাখাইনে নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন তিনি।

পোপ ফ্রান্সিস বলেন, গত কয়েক মাসে রাখাইন থেকে আসা বিপুল সংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে ও তাদের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ উদার মানসিকতা ও অসাধারণ সংহতির পরিচয় দিয়েছে। এটা ছোট কোনো বিষয় নয়, বরং পুরো বিশ্বের সামনেই এটি ঘটেছে।

পুরো পরিস্থিতি, মানুষের অবর্ণনীয় কষ্ট ও শরণার্থী শিবিরগুলোতে থাকা আমাদের ভাই-বোন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু; তাদের ঝুঁকির গুরুত্ব বুঝতে আমরা কেউই ব্যর্থ হইনি।’

তিনি বলেন, ‘এই গুরুতর সংকট মোকাবেলার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।’

এর আগে বঙ্গভবনে একান্তে বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরতে মিয়ানমারকে অব্যাহত চাপে রাখতে ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের সহযোগিতা চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

সফরের দ্বিতীয় দিনে ভাষণ:

সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশে প্রার্থনা করবেন পোপ ফ্রান্সিস। এরপর ভ্যাটিকান দূতাবাসে সাক্ষাৎ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

বিকালে তিনি যাবেন কাকরাইলের রমনা ক্যাথেড্রালে, সেখানে আর্চবিশপ হাউজে বিশপদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। শান্তি কামনায় আন্তঃধর্মীয় ও সম্প্রদায়গত ঐক্য বিষয়ক সভায় অংশ নেবেন।

সফরের শেষ দিন শনিবার সকালে তেজগাঁওয়ে মাদার টেরিজা হাউজ পরিদর্শনে যাবেন পোপ। এরপর তেজগাঁও হলি রোজারিও চার্চে খ্রিস্টান যাজক, ধর্মগুরু ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে চার্চের কবরস্থান পরিদর্শন করবেন। দুপুরের পর ঢাকায় নটরডেম কলেজে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।

সফরের ইতি টেনে বিকাল ৫টায় শাহজালাল বিমানবন্দর ছাড়বেন ক্যাথলিক ধর্মগুরু। তাকে বিদায় জানাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

২০১৩ সালের ১৩ মার্চ ভ্যাটিকানের ২৬৬তম পোপ নির্বাচিত হন ফ্রান্সিস। রোমের বিশপ হিসেবে তিনি বিশ্বব্যাপী ক্যাথলিক চার্চ এবং সার্বভৌম ভ্যাটিকান সিটির প্রধান।

পোপ ফ্রান্সিসের জন্ম ১৯৩৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে। ক্যাথলিক পুরোহিত হিসেবে তার অভিষেক হয় ১৯৬৯ সালে। পুরো আমেরিকা অঞ্চল এবং দক্ষিণ গোলার্ধ থেকে নির্বাচিত প্রথম পোপ তিনি।

বাংলাদেশ সফরে আসা তিনি তৃতীয় পোপ। সর্বশেষ পোপ জন পল এসেছিলেন ৩০ বছর আগে ১৯৮৬ সালে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »