‘মরার কাঁটাতারের বেড়া তাও দিলনি’

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঠাকুরগাঁও:‘তোক মুই প্রথম দেখনু। ইচ্ছা কচ্ছে বুকত নেও। মরার কাঁটাতরের বেড়াখান তাও দিলনি। ভালো থাকিস নানু ভাই।’ বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন আরতি রানী (৫৩)। তিনি নাতিকে দেখতে ছুটে গিয়েছিলেন সীমান্তে। নাতির সঙ্গে দেখা হলো, কথাও হলো। কিন্তু তাঁদের মিলনে বাধা হয়ে দাঁড়াল মাঝখানের কাঁটাতারের বেড়া।

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার কুলিক নদের পাড়ে গতকাল শুক্রবার বসেছিল দুই বাংলার মানুষের মিলনমেলা। ক্ষণিকের জন্য হলেও দীর্ঘদিন পর দুই দেশের মানুষ স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হন, বিদায়ের সময় আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই।

সীমান্ত এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই দেশের সাধারণ লোকজন যাঁরা অর্থাভাবে পাসপোর্ট-ভিসা করতে পারেন না, তাঁরা এই দিনটির অপেক্ষায় থাকেন।

পাথরকালী মেলার সভাপতি নগেন চন্দ্র পাল বলেন, কয়েক যুগ ধরে গোবিন্দপুর গ্রামে কালীপূজার আয়োজন করছেন হিন্দুধর্মাবলম্বীরা। আর কালীপূজার পরের শুক্রবার ওই এলাকায় বসে মেলা। পাথরে নির্মিত মূর্তির নাম অনুসারে মেলার নামকরণ হয় পাথরকালীর মেলা। তবে এ বছর খেতে পাকা ধান থাকায় মেলার তারিখ পিছিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। মেলা ঘিরে প্রতিবছর এক দিনের জন্য সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করার সুযোগ করে দেওয়া হয়। এ সুযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষেরা কাঁটাতারের বেড়ার দুই ধারে দাঁড়িয়ে সহজেই দেখা-সাক্ষাৎ ও কথাবার্তা সেরে ফিরে যান।

গতকাল গোবিন্দপুর সীমান্ত এলাকায় দেখা যায়, ভারতে বসবাসকারী আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে সকাল ৯টা থেকে মেলায় ভিড় জমিয়েছেন বাংলাদেশের কয়েক হাজার নারী-পুরুষ। তাঁরা মেলায় ঘুরে ঘুরে জিনিসপত্র কিনছেন। অবশেষে বেলা সোয়া তিনটা থেকে দেড় ঘণ্টায় তাঁরা স্বজনদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন। বিনিময় করেন কাপড় ও খাদ্য। বিদায়ের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই।

সদর উপজেলার রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা রজনীকান্ত বর্মণ (৫১) বলেন, ‘আমার পাসপোর্ট ও ভিসা করার সামর্থ্য নাই। তাই ওপারের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে এইদিনে সীমান্তে আসি। স্বজনের মুখটা দেখে অনেক সময় মন চায় জড়িয়ে ধরতে। কিন্তু কাঁটাতারের বেড়া সেই সুযোগ দেয় না।’

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »