ডলারের বর্ধিত মূল্য চালের দাম বাড়াচ্ছে আবার

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: গত কয়েকদিন ধরে অস্থির ডলারের বাজার। চালের আমদানি ব্যয় মেটানোর মুদ্রাটির দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে দুই থেকে তিন টাকা। আর বোরোর উৎপাদনে ঘাটতির পর আমদানির ওপর নির্ভরশীল চালের বাজারেও বেড়েছে দাম। গত চার দিন ধরে পাইকারি ও খুচরা বাজারে চালের দাম বাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

গত বোরো মৌসুমে হাওর এলাকায় বন্যায় বড় ধরনের ক্ষতি এবং এরপর উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে অতিবৃষ্টি, বন্যা ও ব্লাস্ট রোগের কারণে চালের উৎপাদনে এবার ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। গবেষণা সংস্থার হিসাবে, দেশে চাল উৎপাদনের প্রধান মৌসুমে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম উৎপাদন অস্থির করে তুলে চালের বাজার। সরকার নিজে আমদানি করে এবং শুল্ক কমিয়ে বেসরকারি খাতে আমদানিতে উৎসাহ দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

এই চেষ্টা কিছুটা সফলও হয়। মোটা চালের দাম ৫০ থেকে কমে ৪২ থেকে ৪৪ টাকা, আর চিকন চালের দাম ৭০ টাকা থেকে কমে ৬০ এর কাছাকাছি নামে।

কিন্তু ডলারের বাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতা কয়েকদিন ধরে আবার দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে চালের। সরকার চালের শুল্ক কমানোর সময় আমদানিকারকরা ৮০ থেকে ৮১ টাকা দরে ডলার কিনলেও এখন কিনতে হচ্ছে ৮৩ থেকে ৮৫ টাকা দরে। আর এই বাড়তি টাকাটা তারা তুলে নিচ্ছেন চালের দাম বাড়িয়ে। এ কারণে পাইকারিতে চালের দাম এক টাকার মতো আর খুচরায় বেড়েছে দুই থেকে তিন টাকা।

আমদানিকারকদের পাশাপাশি দেশের মিল মালিকরাও এই তথ্য পেয়ে বাড়িয়ে দিয়েছেন দাম। ব্যবসায়ীরা জানান, এখন মিলগেটে প্রতি কেজি মিনিকেট মানভেদে ৫৪ থেকে ৫৭ টাকায় বিক্রি হয়, যা আগে ছিল ৫৩ থেকে ৫৫ টাকা। এ ছাড়া বিআর-২৮ চাল মিলগেটে ৪৩ থেকে ৪৪ টাকা ছিল। এখন তা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা কেজিতে।

রাজধানীর বাবুবাজার এলাকার চালের পাইকারি আমদানিকারক ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি ডলারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব চালের বাজারে পড়েছে। ডলারের দাম বৃদ্ধি পেলে চালের দাম বাড়বে, এটাইতো স্বাভাবিক।’

এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘এবার দেশে বোরো মওসুমে অকাল বন্যার কারণে ব্যাপক ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেকারণে কলগুলোতে ধানের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ধানের দাম বৃদ্ধি পেলে বন্দরে চালের চাহিদা বেড়ে যায়। আমদানি বাড়লে ভারতও দাম বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।’

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »