বুড়িমারী স্থলবন্দরে ৩০টি কারখানা বন্ধের পথে

Feature Image

 

লালমনিরহাট থেকে জিন্নাতুল ইসলাম জিন্নাঃ  ভুটানে পাথরজাতিয় কিছু কাঁচামাল সহজলভ্য হওয়ায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ছোট বড় কারখানা। যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে বেচে আছেন প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক পরিবার।

বন্দর ও ব্যবসায়ীরা জনান, প্রতিবেশী দেশ ভুটান থেকে শুল্কমুক্ত হয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে দেশে আমদানি হচ্ছে জিপ সাম স্টোন ও লাইম স্টোনসহ ১৮টি পাথর জাত কাচাঁপন্য। জীপসাম ও লাইম স্টোন গুড়ো করে তৈরী হয় জীপ সার, প্রসাধনী সামগ্রীর কাঁচামাল, পল্ট্রী ও ফিস ফিড। ভুটানের এসব পাথর জাতিয় কাচাঁ মাল দেশে আসছে বুড়িমারী স্থলবন্দর হয়ে। এসব পাথর গুড়ো করতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা বুড়িমারীতে ধিরে ধিরে গড়ে তুলেন ৩০টি কারখানা।

প্রতিটি কারখানা প্রতিষ্ঠায় কোটি টাকার উপরে মুলধন ব্যায় করতে হয়ছে মালিক পক্ষকে। যেখানে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক। কাক ডাকা ভোরে শ্রমিকের ঢল নামে বুড়িমারী এলাকায়। এসব শ্রমিকের ঘামে প্রস্তুত পাথর গুড়ো রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সার, প্রসাধনী সামগ্রী, পল্ট্রী ও ফিস ফিড কারখানায় চলে যাচ্ছে।

এদিকে দেশের কিছু অসাধূ ব্যক্তির সহযোগীতায় ভুটানের ব্যবসায়ীরা পাথর গুড়ো করার কৌশল আয়ত্ত করে তারাও গড়ে তুলেছেন এসব কারখানা। বিগত ২০১৩ সালে ভুটানের ব্যবসায়ীরা বড় পাথর না দিয়ে গুড়ো করা কাঁচামাল পাঠাতে শুরু করে। দৈনিক গড়ে প্রায় ৫০ ট্রাক কাঁচামাল আসত। পরবর্তিতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের চাপে তা কমে আসে। এখনও দৈনিক ৮/১০ ট্রাক ভুটানী কাঁচামাল আসছে। যার ফলে বুড়িমারী স্থলবন্দরে প্রতিষ্ঠিত কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে রাজধানী ঢাকায় গত ৫ নভেম্বর এনবিআর ও বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের যৌথ সম্মেলন হয়েছে। যেখানে দেশী কারখানা ধ্বংস করার পায়তারা চালাচ্ছে কিছু অসাধু কুচক্রী মহল। মহলটি বাণিজ্য মন্ত্রনালয় ও এনবিআর কর্তৃপক্ষকে ভুল বুঝিয়ে ভুটানী কাঁচামাল আমদানির পায়রাতা চালাচ্ছে বলে বুড়িমারী শিল্প মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আশিকুর রহমান পরাগের দাবি।
বুড়িমারী এএম ট্রেডার্সের শ্রমিক আব্দুল জলিল, মিজানুর রহমান জানান, আগে কাজের জন্য বিভিন্ন স্থানে ছুটতে হতো। এখন এই কারখানায় নিয়মিত কাজ করে দৈনিক প্রায় ৫/৭শত টাকা আয় হয়। যা দিয়ে সংসার ও ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগানো সম্ভব হচ্ছে। কারখানা বন্ধ হলে আবারো কর্মহীন হয়ে না খেয়ে মরতে হবে। দেশীয় এসব কারখানা ধ্বংস না করতে সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহবান জানান তারা।
এসপি মিনারেল কারখানার মালিক আশিকুর রহমান পরাগ জানান, গুনগন মান যাচাই বাচাই করে দেশী কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারছেন পন্য উৎপাদনকারী কারখানাগুলো। সেক্ষেত্রে পন্যের গুণগত মানও ঠিক থাকছে। কিন্তু দেশের কারখানা ধ্বংস করে বিদেশের কম মানের কাঁচামালে প্রস্তুত পন্যের গুণগত মান কতটা ঠিক থাকবে তা ভেবে দেখা দরকার। এ ছাড়াও হাজার হাজার দেশী শ্রমিককে বেকার করে বিদেশী কাঁচামাল আমদানি করলে দেশে বেকারত্বেও সংখ্যা বেড়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুড়িমারী শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি তাহসিন এগ্রো’র মালিক হাবিবুর রহমান পবন জানান, কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে প্রতিষ্ঠিত কারখানা ধ্বংস করে বিদেশী কাঁচামাল আমদানি করলে দেশের অর্থনীতে বিরাট আঘাত হানবে। বেকার হয়ে পড়বে দেশের কয়েক হাজার শ্রমিক। এজন্য তিনি দেশের শিল্প কারখানা রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

আরো খবর »