অর্থের কারনে প্রযুক্তির কাছে হেড়ে গেলেন চতুর আলী

Feature Image

 

৭৫ বছর বয়সে ভ্যানের প্যাডেল মারে জীবন-যাপন

“সকাল বিকাল প্যাডেল মারি,ঝড়ে কত ঘাম।সভ্যতাকে টেনে বেড়ায়,পায়না কোনো দাম।লাঞ্চনা-বঞ্চনা সহে,ছুটি চলি যাত্রী লয়ে…শোন এক ভ্যান চালকের জীবন কাহিনী”
মোঃচতুর আলী।বয়স প্রায় ৭৫ বছর।যে বয়সে একজন মানুষ আরাম আয়েশ করবে।নাতি নাতনির সাথে হাসি তামাশা আর আড্ডাই মেতে থাকার কথা।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বয়সের ভারত্ব নিয়ে দারিদ্রতার কাছে হার মেনে প্রতিদিন ভ্যানের প্যাডেল ঘুরিয়ে নিজের ও পরিবারের অন্ন যোগাতে হয়।এই বৃদ্ধ বয়সে ভ্যান চলতে চাইলেও চালাতে পারে না চতুর আলী।তবুও নিত্য দিনের প্রয়োজন মেটাতে ভ্যান নিয়ে রাস্তায় বেড়োতে হয় দুটি টাকার জন্য।

তার সাথে কথা বলে জানা যায়, সে কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলাধীন লালন বাজার টু যদুবয়রা এই ৪-৫কিঃমিঃ ভ্যান চালিয়ে দিনে একশত থেকে দেড়শত টাকা আয় হয়।এদিয়ে তিন সংস্যার চালিয়ে নিতে হয় চতুর আলীকে।তিনি বলেন প্রতিদিন ভ্যান চালাতে পারিনা,বৃদ্ধ বয়সে কখনও অসুস্থ থাকি কখনও আবহওয়া খারাপ থাকে আবার কোনো দিন ভাড়ায় হয়না।

আধুনিক যুগে সব ক্ষেত্রেই তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তির ছোয়া লেগেছে।আর তার প্রভাব পড়েছে রিক্সা বা ভ্যান গাড়িতেও।তিনি বলেন বর্তমানে এলাকার সব ভ্যান গাড়িতেই মটর লাগানো।ফলে ভ্যান চালকের তেমন কষ্ট হয়না,কম সময়ে বেশি ভাড়া মারা যায়।এখন মানুষ সময়ের দাম দিতে শিখেছে তাই সবাই অটো ভ্যানে যাতাযাত করে।কিন্তু দারিদ্রতার অভিসাপর অভিশাপ্ত হয়ে অর্থের অভাবে এখনও ভ্যানে মটর লাগাতে পারিনী।ফলে সাধারন জনগন আমার ভ্যানে উঠতে চাইনা।

চতুর আলী বলেন যদি স্থানীয় কোনো প্রভাবশালী বা জেলা প্রশাসক বা ইউএনও সহ কেউ যদি আর্থিক সাহায্য করত তাহলে ভ্যানে মটর লাগিয়ে এই বৃদ্ধ বয়সে ভ্যান চালিয়ে জীবন যুদ্ধ চালিয়ে নিতাম।

বৃদ্ধ ভ্যান চালক কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার উত্তর যদুবয়রা গ্রামের বাসিন্দা।

Loading...

আরো খবর »