মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে নিখোঁজের ৬দিন পর কলেজ ছাত্র’র লাশ উদ্ধার,বন্ধু আটক

Feature Image

মানিকগঞ্জ থেকে জালাল উদ্দিন ভিকুঃ  নিখোঁজের ৬ দনি পর মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে রাসেল (১৯) নামে এক কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। গত ২৬ নভেম্বর থেকে ওই কলেজ ছাত্র নিখোঁজ ছিলো। শনিবার দুপুরে উপজেলার ধল্লা-ফোর্ডনগর পুলিশ ফাড়ির অদূরে বিন্নাডাঙ্গী এলাকায় ওয়েস্ট টাউন নামে একটি আবাসন প্রকল্পের ভিতর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত রাসেল একই উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের পূর্ব ভাকুম গ্রামের আনছার আলী ফকিরের ছেলে ও ঢাকার সাভার লিজেÐ স্কুল এ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিল। মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে রোববার তাঁর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাসেলের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় তারই বন্ধু ইমরানকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ফোরের একটি দল।

থানা পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানান, গত ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় রাসেলকে বাড়ি থেকে তার বন্ধু ইমরান ডেকে নিয়ে যায়। ইমরান পার্শ্ববর্তী ধল্লা ইউনিয়নের জায়গীর গ্রামের আকমল মোল্লার ছেলে। রাতে রাসেল বাড়ি না ফেরায় তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার ফোন করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরের দিন ইমরানের সাথে যোগাযোগ করা হলে রাসেলের বিষয়ে কিছু জানেনা বলে সে জানায়। এর পর অনেক খোঁজাখুজি করে ছেলেকে না পেয়ে বাবা আনছার আলী ঘটনার দুদিন পর সিঙ্গাইর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। বিষয়টি তখন র‌্যাপিট অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান র‌্যাব-ফোরকেও অবগত করা হয়।

রাসেলের আত্মীয় ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান জানান, নিখোঁজের কয়েক দিন পর রাসেলের ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে একটি চক্র তাঁর বাবার নাম্বারে একটি ম্যাসেজ পাঠায়। ওই ম্যাসেজে উল্লেখ করা হয়, রাসেলকে অপহরণ করা হয়েছে। মোটা অংকের মুক্তিপন না দিলে রাসেলকে হত্যা করা হবে। ওই চক্রের দাবি অনুযায়ী বিকাশের মাধ্যমে দুই দফায় ৩৫ হাজার টাকা পাঠানো হয়। এর পর তারা আরো টাকা দাবী করে আসছিল।
শনিবার ১১টার দিকে উপজেলার ধল্লা-ফোর্ডনগর পুলিশ ফাড়ির অদূরে বিন্নাডাঙ্গী ওয়েস্ট টাউন আবাসন প্রকল্পের খালি জায়গায় একদল কিশোর ক্রীকেট খেলতে ছিল। খেলার এক পর্যায়ে একটি বল আবাসন প্রকল্পের বাউন্ডারী ঘেড়া একটি প্লটের ভিতর চলে যায়। বল আনতে গিয়ে ওই প্লটের ভিতর পানির হাউজে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় একটি লাশ ভাসতে দেখে আশপাশের লোকজনকে জানায় তাঁরা। খবর পেয়ে নিহত রাসেলের পরিবার সেখানে গিয়ে লাশ সনাক্ত করেন।

পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, নিখোজের পর রাসেলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ট্যাগ করে জানা যায মোব্ইালটি চট্টগ্রাম রেঞ্চ আছে। ওই রেঞ্জ থেকে রাসলের মোবাইলে পরিবারের পক্ষ বিকাশ করে টাকা দেয়। শনিবার নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়না তদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চেহরা দেখে লাশটি নিখোঁজ রাসেলেরই বলে নিশ্চিত করছে তাঁর পরিবার। এ ঘটনায় রাসেলের পিতা আনসার আলী তাঁর ছেলের বন্ধু ইমরানসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

 

র‌্যাব ফোরের সদস্যরা ইমরানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও হত্যাকাÐের সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

আরো খবর »